অনার্স ১ম বর্ষ বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় বই | History of Bangladesh: Language, Culture & Identity PDF
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত সকল সরকারি-বেসরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য “বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়” (History of Bangladesh: Language, Culture & Identity) কোর্সটি একটি বাধ্যতামূলক ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যবই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিএ (BA), বিএসএস (BSS), বিবিএ (BBA) কিংবা বিএসসি (BSc)—যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে এই আবশ্যিক কোর্সটি অধ্যয়ন করতে হয়। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পড়াশোনার সুবিধার কথা বিবেচনা করে এবং ভালো ফলাফলের পথ সুগম করতে আমরা বইটির অধ্যায়ভিত্তিক সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ডিজিটাল সংস্করণ (PDF) প্রস্তুত করেছি, যা মোবাইল ও কম্পিউটারে অনায়াসে পাঠযোগ্য।
উচ্চশিক্ষা স্তরে একজন সচেতন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে নিজের দেশ, মাতৃভাষা, প্রাচীন ঐতিহ্য ও হাজার বছরের রক্তঝরা Struggles এর ইতিহাস গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। এই বইটির পাঠ্যক্রম প্রাচীন বাংলার ভূপ্রকৃতি ও জনপদ থেকে শুরু করে পাল-সেন রাজবংশ, সুলতানি ও মুঘল সুবাহদারদের আমল, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শোষণ, ঐতিহাসিক ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সমসাময়িক ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক রূপ অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও তথ্যসমৃদ্ধভাবে এই বইটিতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার প্রশ্নের কাঠামো ও বিস্তারিত মানবণ্টন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কোর্সে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের জন্য পরীক্ষার প্রশ্ন বিন্যাস এবং নম্বর বিভাজন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা আবশ্যক। নিম্নে কোর্সটির পূর্ণাঙ্গ মানবণ্টন ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
- লিখিত পরীক্ষার পূর্ণমান (৮০ নম্বর): জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কেন্দ্রভিত্তিক এই চূড়ান্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং এই পরীক্ষার জন্য মোট সময় বরাদ্দ থাকে ৪ ঘণ্টা।
- অভ্যন্তরীণ ধারাবাহিক মূল্যায়ন (২০ নম্বর): অবশিষ্ট ২০ নম্বর কলেজের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। এই ২০ নম্বরের মধ্যে ইনকোর্স লিখিত পরীক্ষা, ক্লাস প্রেজেন্টেশন বা মৌখিক উপস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাসাইনমেন্ট এবং ক্লাসে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতির আনুপাতিক হার অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- প্রশ্ন বিন্যাস ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য: প্রশ্নপত্রে কোনো সনাতন ‘ক’, ‘খ’ বা ‘গ’ বিভাগ থাকবে না। সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্রে একত্রে মোট ১২টি প্রশ্ন ক্রমানুসারে সাজানো থাকবে। এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট বিভাগ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রশ্ন উত্তর করার কোনো বাধ্যবাধকতা শিক্ষার্থীদের ওপর থাকে না।
- উত্তর প্রদানের শর্তাবলী: প্রদত্ত ১২টি প্রশ্নের মধ্য থেকে পরীক্ষার্থী তার নিজের সুবিধাজনক এবং সর্বাধিক আত্মবিশ্বাসী যেকোনো ৮টি প্রশ্নের উত্তর পছন্দমতো বেছে নিয়ে লিখতে পারবেন।
- প্রতিটি প্রশ্নের মান: নির্বাচিত প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ১০ নম্বর। অর্থাৎ ৮টি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর লিখে মোট ৮০ নম্বর (৮ × ১০ = ৮০) অর্জনের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
- প্রশ্নের অভ্যন্তরীণ রূপরেখা ও সুবিধা: প্রশ্নপত্রে প্রতিটি ১০ নম্বরের প্রশ্ন সরাসরি একটিমাত্র তাত্ত্বিক প্রশ্ন হিসেবে হতে পারে, অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশ্নগুলোকে (ক) ও (খ) অংশে বিভক্ত করে প্রদান করা হয়। যেমন: (ক) অংশে ৪ নম্বর এবং (খ) অংশে ৬ নম্বর, অথবা উভয় অংশে ৫+৫ নম্বর করে নির্ধারিত থাকে। এই বিভাজনের অন্যতম বড় সুবিধা হলো—সংক্ষিপ্ত ও বিশদ অংশের সমন্বয়ে উত্তর লিখলে পরীক্ষকের পক্ষে প্রতিটি উপ-অংশে সর্বোচ্চ নম্বর প্রদান করা সহজ হয় এবং কোনো একটি অংশে অযথা নম্বর কাটার সুযোগ কম থাকে।
অধ্যায়ভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা ও বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ
পরীক্ষার প্রস্তুতি নিখুঁত করতে প্রতিটি অধ্যায়ের মৌলিক আলোচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্বধারণা থাকা অপরিহার্য। নিচে বইটির আটটি অধ্যায়ের বিষদ পর্যালোচনা তুলে ধরা হলো:
অধ্যায় ০১: প্রাক-ঔপনিবেশিক যুগ (প্রাচীন জনপদ থেকে মুঘল আমল)
এই অধ্যায়ে প্রাচীন বাংলার ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, ভূপ্রকৃতি এবং প্রধান প্রধান প্রাচীন জনপদসমূহের বিস্তারিত পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। অষ্টম শতকে গোপালের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত চারশত বছরের গৌরবময় পাল রাজবংশের বৌদ্ধ সংস্কৃতি এবং পরবর্তীতে সেন বংশের শাসনব্যবস্থা এখানে বিশ্লেষিত হয়েছে। ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজীর নদীয়া বিজয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা, স্বাধীন সুলতানি আমলে ইলিয়াস শাহী ও হোসেন শাহী রাজবংশের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং সম্রাট আকবরের আমলে বারো ভূঁইয়াদের প্রতিরোধ পেরিয়ে মুঘল সুবাহদার ইসলাম খাঁ চিশতীর অধীনে ঢাকার রাজধানী হিসেবে আত্মপ্রকাশ এই অধ্যায়ের প্রধান উপজীব্য।
অধ্যায় ০২: ঔপনিবেশিক যুগ: আঠারো ও উনিশ শতক
১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের চক্রান্তে বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হওয়ার পটভূমি দিয়ে এই অধ্যায় শুরু হয়। ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ ও ১৭৬৫ সালে ইংরেজদের বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ ঔপনিবেশিক শোষণের পথ প্রশস্ত করে। এর ফলশ্রুতিতে নেমে আসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ/১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ)। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার গ্রামীণ সমাজে কৃষক শ্রেণীর ওপর অবর্ণনীয় অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে। এই সময়ে ফকীর-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ও বারাসাত বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং ১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক সিপাহি বিপ্লব বা মহাবিদ্রোহের সংগ্রামী চেতনা এই অধ্যায়ে বিশদভাবে পড়ানো হয়।
অধ্যায় ০৩: ঔপনিবেশিক যুগ: বিশ শতকের প্রথমার্ধ
বিশ শতকের সূচনাতেই লর্ড কার্জনের বিতর্কিত বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বাংলার হিন্দু-মুসলিম রাজনীতিতে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করে। এই প্রেক্ষাপটে ১৯০৬ সালে ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠিত হয়। পরবর্তীতে বঙ্গভঙ্গ রদ (১৯১১), মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলন এবং মাস্টারদা সূর্য সেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের মতো সশস্ত্র বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি এবং ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব—যা পরবর্তীতে স্বতন্ত্র আবাসভূমির ভিত্তি স্থাপন করেছিল—তা এই অধ্যায়ে প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
অধ্যায় ০৪: দেশভাগ-পরবর্তী যুগ ও ভাষা আন্দোলন
দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণ শুরু করে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একতরফা উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজ। তমুদ্দুন মজলিস ও সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার ও শফিউরের আত্মদানের মাধ্যমে রচিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অমর ইতিহাস। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি প্রদান এই অধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য বিষয়।
অধ্যায় ০৫: পরিবর্তিত বাঙালির পরিচয় ও স্বাধিকার আন্দোলন
এই অধ্যায়ে ধর্মাশ্রয়ী পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে ভাষাভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালির ম্যাগনাকার্টা খ্যাত ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি এই অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণিত। ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান (শহীদ আসাদ ও সার্জেন্ট জহুরুল হকের আত্মত্যাগ) এবং আইয়ুবের পতন ঘটে। পরিশেষে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং পশ্চিম পাকিস্তানি জান্তার ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানার চিত্র এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে।
অধ্যায় ০৬: ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান
১৯৭১ সালের মার্চের রক্তঝরা দিনগুলো, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক ভাষণ ও অহিংস অসহযোগ আন্দোলন এবং ২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ও গণহত্যার ইতিহাস এই অধ্যায়ে প্রামাণ্যভাবে আলোচিত। এরপর ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ, দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে মুক্তিবাহিনী ও গেরিলা যোদ্ধাদের প্রতিরোধ সংগ্রাম এবং ১৬ই ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় চিত্রিত হয়েছে। পাশাপাশি হালনাগাদ পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত সমকালীন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারবিরোধী ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান, ছাত্র-জনতার অদম্য সংকল্প এবং নতুন বাংলাদেশের পুনর্গঠনের দর্শন প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অধ্যায় ০৭: অন্যান্য এথনিক গোষ্ঠীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য
বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের দেশ। এই অধ্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, মুরং, তঞ্চঙ্গ্যা সহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা আলোচিত হয়েছে। একই সাথে সমতল ভূমির সাঁওতাল, গারো, খাসিয়া, মণিপুরি, ওরাওঁ, হাজং ও রাখাইন সম্প্রদায়ের মাতৃপ্রধান বা পিতৃপ্রধান পারিবারিক কাঠামো, বৈচিত্র্যময় ভাষা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ঐতিহাসিক তেভাগা ও নাচোলের কৃষক আন্দোলনে তাদের সাহসী অবদান বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অধ্যায় ০৮: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আধুনিক রূপান্তর
বাঙালির লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিক রূপান্তর এই অধ্যায়ে চমৎকারভাবে বিধৃত হয়েছে। বাউল গান, লালন ফকির, হাছন রাজা, শাহ আবদুল করিমের মরমি দর্শন, ভাটিয়ালি ও ভাওয়াইয়া গানের সুর মূর্ছনা; নকশিকাঁথা, জামদানি শাড়ি, মৃৎশিল্প ও পোড়ামাটির টেরাকোটার নান্দনিক পরিচয় এখানে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব, পৌষ মেলাসহ সামাজিক উৎসবসমূহ এবং রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ-জসীমউদ্দীন রচিত আধুনিক সাহিত্যের বিকাশ ও বর্তমান ডিজিটাল যুগের সাংস্কৃতিক রূপান্তর এই অধ্যায়ের মূল আলোচ্য।
অনার্স ১ম বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষায় এ+ (A+) পাওয়ার পরীক্ষিত কৌশল
যেহেতু প্রশ্নপত্রে কোনো বিভাগ নেই এবং ১২টি প্রশ্ন থেকে যেকোনো ৮টি বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে, তাই একটু কৌশল করে প্রস্তুতি নিলে অনায়াসেই প্রথম বিভাগ বা এ+ (A+) অর্জন করা যায়:
১. ভাগ করা প্রশ্ন (ক ও খ অংশ) বেছে নেওয়া
সরাসরি একটি বড় ১০ নম্বরের তাত্ত্বিক প্রশ্নের চেয়ে যেসব প্রশ্নে (ক) অংশে ৪ এবং (খ) অংশে ৬ নম্বর থাকে, সেগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে কম সময়ে নির্দিষ্ট তথ্য লিখে সম্পূর্ণ নম্বর পাওয়া নিশ্চিত হয়।
২. উদ্ধৃতি ও ঐতিহাসিক সন-তারিখের নির্ভুল ব্যবহার
ইতিহাস ভিত্তিক উত্তরের মান নির্ভর করে সঠিক সাল, ঐতিহাসিক চুক্তি এবং বিখ্যাত গবেষকদের উক্তির ওপর। পলাশী, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে মূল তারিখগুলো নীল বা কালো কালিতে হাইলাইট করে লিখুন।
৩. ৪ ঘণ্টার সঠিক সময় বণ্টন
মোট ৮টি প্রশ্নের জন্য সময় ২৪০ মিনিট। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য গড়ে ২৫ থেকে ২৭ মিনিট বরাদ্দ রাখুন। ভূমিকা ও উপসংহার সহ মূল বিষয় পয়েন্ট আকারে লিখলে প্রতিটি প্রশ্নে ৮-৯ নম্বর পাওয়া সহজ হয়।
অধ্যায়ভিত্তিক ডাউনলোড লিঙ্ক
নিচের টেবিলে প্রতিটি অধ্যায়ের নামের পাশে থাকা লাল রঙের PDF আইকনে ক্লিক করে সহজেই ফাইলটি মোবাইল বা কম্পিউটারে সরাসরি পড়তে কিংবা ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে পারেন:
| ডাউনলোড করার নিয়ম: আপনি যে ফাইলটি ডাউনলোড বা পড়তে চান, তার ডানপাশের পিডিএফ আইকনে ক্লিক করুন। পিডিএফ আইকনে ক্লিক করার পর একটি বিজ্ঞাপন আসতে পারে, তাই ব্যাক (Back) দিয়ে আবার ক্লিক করবেন। এরপর ফাইলটি ওপেন হবে এবং আপনি সরাসরি এখানে পড়তে পারবেন। আর যদি ডাউনলোড করতে চান, তবে ব্রাউজারের ওপরের থ্রি-ডট (⋮) বা ডাউনলোড আইকনে ক্লিক করলেই ফাইলটি আপনার ডিভাইসে সেভ হয়ে যাবে। |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. অনার্স ১ম বর্ষের সকল বিভাগের জন্য কি এই বিষয়টি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স ১ম বর্ষের বিএ, বিএসএস, বিবিএ এবং বিএসসি সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই কোর্সটি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে ১০০ নম্বরের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২. প্রশ্নপত্রে কি ক, খ বা গ বিভাগ থাকবে?
না, প্রশ্নপত্রে কোনো বিভাগ থাকবে না। মোট ১২টি প্রশ্ন ক্রমানুসারে দেওয়া থাকবে এবং সেখান থেকে যেকোনো ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ১০ নম্বর।
৩. কলেজের অভ্যন্তরীণ ২০ নম্বর কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়?
কলেজের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনকোর্স লিখিত পরীক্ষা, ক্লাস প্রেজেন্টেশন, অ্যাসাইনমেন্ট এবং ক্লাসে উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ধারাবাহিক মূল্যায়ন হিসেবে এই ২০ নম্বর প্রদান করা হয়।
৪. চ্যাপ্টারভিত্তিক পিডিএফ ফাইলগুলো মোবাইলে অফলাইনে পড়া যাবে কি?
অবশ্যই, গুগল ড্রাইভ লিংক থেকে যেকোনো ব্রাউজারের ডাউনলোড অপশন ব্যবহার করে ফাইলটি মেমোরিতে সংরক্ষণ করে রাখলে ইন্টারনেট ছাড়াই যেকোনো সময় অফলাইনে পড়া যায়।
৫. ডাউনলোডের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে করণীয় কী?
লিংকে ক্লিক করার পর বিজ্ঞাপন আসলে ব্যাক (Back) দিয়ে পুনরায় ক্লিক করবেন। এরপর সরাসরি ফাইলটি গুগল ড্রাইভ ইন্টারফেসে খুলে যাবে এবং উপরের থ্রি-ডট মেনু থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
