মানবধর্ম
(অষ্টম শ্রেণি – বাংলা সাহিত্য কণিকা)
- নাম: লালন শাহ।
- পরিচিতি: লালন শাহ মানবতাবাদী মরমী কবি। সাধক সিরাজ সাঁই বা সিরাজ শাহর শিষ্যত্ব গ্রহণ করার পর তিনি লালন সাঁই বা লালন শাহ নামে পরিচিতি অর্জন করেন। গানে তিনি নিজেকে ফকির লালন হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
- শিক্ষা ও দর্শন: প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালাভ না করলেও নিজের চিন্তা ও সাধনায় তিনি হিন্দু ও মুসলমানের ধর্মীয় শাস্ত্র সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন। এই জ্ঞানের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির মিলনে তিনি নতুন এক দর্শন প্রচার করেন।
- সাহিত্যকর্ম: গানের মধ্য দিয়ে তাঁর এই দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। আধ্যাত্মভাব ও মরমী রসব্যঞ্জনা তাঁর গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তিনি সহস্রাধিক গান রচনা করেন।
- জন্ম ও মৃত্যু: লালন শাহ ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ঝিনাইদহ, মতান্তরে কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়।
১. মানুষের কোন পরিচয়টি বড় হওয়া উচিত?
উত্তর: (গ) মানবিক২. লালনের মতে মানুষের জন্য ক্ষতিকর—
i. জাতের বড়াই
ii. কূপের জল
iii. বংশ কৌলিন্য
নিচের কোনটি ঠিক?
লালন শাহ রচিত গানটি ‘মানবধর্ম’ শিরোনামে গৃহীত হয়েছে। শিরোনামটির মর্মার্থ নিচের কোন পঙক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে?
৩. উদ্দীপকের প্রশ্নের উত্তরে সঠিক পঙক্তি কোনটি?
উত্তর: (খ) শুন হে মানুষ ভাই / সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।৪. উক্ত মর্মার্থে মূলত প্রকাশ পেয়েছে লালন শাহ্’র—
i. অধ্যাত্মভাব
ii. অসাম্প্রদায়িক চেতনা
iii. মানবতাবোধ
নিচের কোনটি ঠিক?
উদ্দীপক:
‘জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথি।
বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ
ভিতরের রং পলকে ফোটে
বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র
কৃত্রিম ভেদ ধুলয় লোটে।’
লালন শাহর মতে, মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে বা মৃত্যুবরণ করে, তখন তার গায়ে জাতের কোনো চিহ্ন থাকে না। মালা বা তসবি ধারণ করে মানুষ নিজেই জাতের ভিন্নতা তৈরি করে। যেহেতু এই বিভাজন কৃত্রিম এবং মানুষের আসল পরিচয় তার মনুষ্যত্ব, তাই মিথ্যা জাতপাতের গর্ব বা বাড়াবাড়ি করা নিরর্থক। এটি মানুষের মধ্যে কেবল বিভেদই সৃষ্টি করে।
‘মানবধর্ম’ কবিতায় লালন শাহ বলেছেন, স্থানভেদে জলকে কেউ 'কূপজল' বা কেউ 'গঙ্গাজল' বললেও মূলে সব জলই এক। পাত্র বা স্থানভেদে তার নাম ভিন্ন হয় মাত্র। তেমনি মানুষও মূলে এক, ধর্ম বা জাতের পরিচয় কেবল সমাজের তৈরি করা বাহ্যিক আবরণ।
উদ্দীপকেও কবি সত্যেন দত্ত বলেছেন, পৃথিবীতে ‘মানুষ’ নামে একটাই জাতি আছে। বাইরের চেহারা বা পোশাকে পার্থক্য থাকলেও (বাহিরের ছোপ), ভেতরে সবার রক্ত ও সত্তা একই (ভিতরের রং)। উদ্দীপকের "বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র / কৃত্রিম ভেদ ধুলয় লোটে" চরণের সাথে কবিতার "জগৎ বেড়ে জেতের কথা... লালন সে জেতের ফাতা / বিকিয়েছে সাত বাজারে" চরণের ভাবগত মিল রয়েছে। উভয়ই জাতপাতের ভেদ ভুলে মানুষকে এক ও অভিন্ন সত্তা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে।
‘মানবধর্ম’ কবিতায় লালন শাহ প্রশ্ন তুলেছেন প্রচলিত জাত-বিচার নিয়ে। তিনি মালা বা তসবির মতো বাহ্যিক চিহ্নের মাধ্যমে মানুষকে বিচার করতে নারাজ। তাঁর কাছে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই; জন্ম ও মৃত্যুতে সব মানুষই সমান। তাই তিনি জাত-পরিচয়কে তুচ্ছ জ্ঞান করে মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়াকেই বড় ধর্ম মনে করেছেন।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে বলা হয়েছে "এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত / একই রবি শশী মোদের সাথি"। অর্থাৎ প্রকৃতি যেমন সব মানুষের জন্য সমান, তেমনি মানুষের ধর্মও হওয়া উচিত ভেদাভেদহীন। উদ্দীপকে কৃত্রিম ভেদ ভুলে মানুষ জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উভয় স্থানেই প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে মানুষকে ভালোবাসা এবং মানুষের সমতাকে উচ্চে স্থান দেওয়া হয়েছে। ধর্ম যেখানে মানুষকে বিভক্ত করে, মানবধর্ম সেখানে মানুষকে এক করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও কবিতায় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে অসাম্প্রদায়িক ও বিশ্বজনীন মানবধর্ম চর্চার কথাই বলা হয়েছে।
১. লালন শাহর গানে তিনি নিজেকে কী হিসেবে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: (খ) ফকির লালন২. ‘গঙ্গাজল’ ও ‘কূপজল’ মূলত কী?
উত্তর: (খ) একই জল৩. লালন শাহর গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: (গ) আধ্যাত্মভাব ও মরমী রসব্যঞ্জনা৪. ‘জেতের ফাতা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: (ক) জাতের বৈশিষ্ট্য৫. মানুষ কখন জাতের চিহ্ন ধারণ করে না?
উত্তর: (গ) যাওয়া কিংবা আসার বেলায়৬. লালন শাহ কার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন?
উত্তর: (ক) সাধক সিরাজ সাঁই৭. ‘জগৎ বেড়ে’ কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: (ক) জগৎ জুড়ে বা সর্বত্র৮. হিন্দুদের পবিত্রতার প্রতীক কোনটি?
উত্তর: (খ) গঙ্গাজল৯. লালন শাহ কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: (গ) কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায়১০. এই পাঠের মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: (গ) অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানববোধ সৃষ্টি- ১. প্রশ্ন: লালন শাহ কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে। - ২. প্রশ্ন: ‘সাত বাজারে’ বিকানো বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: জাতের বা ধর্মের বৈশিষ্ট্যের প্রতি গুরুত্বহীনতা বা অবজ্ঞা প্রদর্শন বুঝিয়েছেন। - ৩. প্রশ্ন: ‘তসবি’ কাদের ঐতিহ্যের স্মারক?
উত্তর: তসবি মুসলমানদের ঐতিহ্যের স্মারক। - ৪. প্রশ্ন: ‘মালা’ কাদের ধর্মের সাথে যুক্ত?
উত্তর: মালা হিন্দু ধর্মের বা হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত। - ৫. প্রশ্ন: লালন জাতকে কী মনে করেন না?
উত্তর: লালন জাতকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। - ৬. প্রশ্ন: জলকে ভিন্ন বলা হয় কেন?
উত্তর: জলকে ভিন্ন বলা হয় পাত্রের ভিন্নতার কারণে (ভিন্ন জানায় পাত্র-অনুসারে)। - ৭. প্রশ্ন: লালন শাহর গানে কী প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: লালন শাহর গানে তাঁর দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। - ৮. প্রশ্ন: ‘মানবধর্ম’ কবিতাটি মূলত কী?
উত্তর: ‘মানবধর্ম’ কবিতাটি মূলত একটি গান (‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’)। - ৯. প্রশ্ন: জল কখন ‘কূপজল’ হয়?
উত্তর: জল যখন গর্তে বা কূয়োতে থাকে তখন তাকে কূপজল বলা হয়। - ১০. প্রশ্ন: মানুষের জাতের পরিচয় কখন থাকে না?
উত্তর: জন্ম ও মৃত্যুর সময় মানুষের জাতের কোনো চিহ্ন বা পরিচয় থাকে না।
উদ্দীপক: গ্রামের মোড়ল সাহেব নিজেকে খুব বড় বংশের মানুষ মনে করেন। তিনি গরিব চাষিদের সাথে মেলামেশা করেন না, তাদের ছোঁয়া জলও পান করেন না। একদিন তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রামের সেই গরিব চাষিরাই তাঁকে কাঁধে করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং রক্ত দিয়ে তাঁর জীবন বাঁচায়। সুস্থ হয়ে মোড়ল সাহেব বুঝলেন, রক্তের কোনো জাত নেই।
(ক) লালন শাহর গুরুর নাম কী?
(খ) "মূলে এক জল, সে যে ভিন্ন নয়"— কথাটি বুঝিয়ে লেখো。
(গ) উদ্দীপকের মোড়ল সাহেবের মানসিকতার সাথে ‘মানবধর্ম’ কবিতার কোন দিকটির বৈসাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো。
(ঘ) "রক্তের কোনো জাত নেই"— উদ্দীপকের এই শিক্ষা ‘মানবধর্ম’ কবিতার মূল সুরের সাথে একসূত্রে গাঁথা— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো。
উদ্দীপক: সুমন ও রাজীব দুই বন্ধু। সুমন হিন্দু আর রাজীব মুসলমান। তারা একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে যোগ দেয়। কেউ কেউ তাদের এই মেলামেশা পছন্দ করে না। তারা বলে, ভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে এত মেশা ঠিক নয়। কিন্তু সুমন ও রাজীব বলে, "আমরা সবাই মানুষ, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।"
(ক) ‘মানবধর্ম’ কবিতাটি কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে?
(খ) লালন জাতের ফাতা সাত বাজারে বিকিয়েছেন কেন?
(গ) উদ্দীপকের সুমন ও রাজীবের বক্তব্যে ‘মানবধর্ম’ কবিতার কোন বিশেষ দিকটি ফুটে উঠেছে?
(ঘ) "উদ্দীপকটি যেন ‘মানবধর্ম’ কবিতারই বাস্তব প্রতিফলন"— উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো。
উদ্দীপক: আজ বিশ্বজুড়ে মানুষে মানুষে কত বিভেদ! কেউ কালো, কেউ ফর্সা, কেউ ধনী, কেউ গরিব। এই বিভেদের দেয়াল তুলে মানুষ হানাহানিতে লিপ্ত। অথচ সবার শরীরে একই লাল রক্ত প্রবাহিত। সবার ক্ষুধা-তৃষ্ণা, সুখ-দুঃখের অনুভূতি এক। এই সত্যটা ভুলে গিয়েই মানুষ অশান্তি ডেকে আনে।
(ক) হিন্দুদের পবিত্রতার প্রতীক কোনটি?
(খ) "যাওয়া কিংবা আসার বেলায় / জেতের চিহ্ন রয় কার রে"— পঙক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের বর্ণনায় ‘মানবধর্ম’ কবিতার কোন ভাবটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো。
(ঘ) "মানুষের বাহ্যিক রূপ ভিন্ন হলেও অভ্যন্তরীণ সত্তা এক"— কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো。
