তৈলচিত্রের ভূত
(অষ্টম শ্রেণি – বাংলা সাহিত্য কণিকা)
- নাম: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়)।
- জন্ম: ১৯০৮ সালে সাঁওতাল পরগনার দুমকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে।
- শিক্ষা: কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯২৮ সালে তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ ছাপা হয়। তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন।
- সাহিত্যকর্ম: তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘পদ্মানদীর মাঝি’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ‘দিবারাত্রির কাব্য’, ‘অহিংসা’, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এছাড়াও তিনি প্রচুর ছোটগল্পও রচনা করেছেন।
- বৈশিষ্ট্য: তাঁর লেখার প্রধান প্রবণতা মানুষের মন বিশ্লেষণ করা।
- মৃত্যু: ১৯৫৬ সালে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
১. নগেন কার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত?
উত্তর: (গ) মামার২. নগেনের সাথে পরাশর ডাক্তারের প্রথম দেখা হয় কখন?
উত্তর: (ক) ২ মাস আগে৩. মৃত মামার ছবি নগেনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল কেন?
উত্তর: (গ) ছবির রুপার ফ্রেমে বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকায়আদনান সন্ধ্যাবেলা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিল। এক সময় মনে হলো তার পেছনে পেছনে কেউ হাঁটছে। সে পেছনে ফিরে তাকায় কিন্তু কিছুই দেখতে পায় না। ফলে ভয়ে কাঁপছিল। এমন সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে সে জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে। তার মা বাতি নিয়ে ছুটে এসে দেখেন আদনানের পায়ের জুতার তলে পেরেক গাঁথা একটা কাঠ। এতক্ষণে আদনান ভয়ের কারণ খুঁজে পায়।
৪. উদ্দীপকের আদনানের সাথে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের সাদৃশ্যের কারণ—
উত্তর: (খ) তারা অন্ধকারকে ভয় করত৫. এরূপ সাদৃশ্যের মূলে কোনটি বিদ্যমান?
উত্তর: (ক) বাস্তবজ্ঞানের অভাবউদ্দীপক: রফিক সাহেব শীতের ছুটিতে ভাগ্নি সাহানাকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে যান। রাতের আকাশ দেখার জন্য তারা খোলা মাঠে যান। অদূরেই দেখতে পান মাঠের মধ্যে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে উঠে তা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ওটা কীসের আলো তা জানতে চাইলে সাহানার মামা বলেন, ভূতের! সাহানা ভয় পেয়ে তার মামাকে জড়িয়ে ধরে। মামা তখন তাকে বুঝিয়ে বলেন যে, খোলা মাঠের মাটিতে এক প্রকার গ্যাস থাকে— যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। সাহানা বিষয়টা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হয়।
পরাশর ডাক্তার যখন রহস্য উদঘাটন করলেন যে, তৈলচিত্রের ফ্রেমে বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল, তখন তিনি নগেনকে প্রশ্ন করেন, দিনের বেলা মেইন সুইচ অফ থাকে বলে শক লাগে না—এটুকু কেন সে বোঝেনি। নগেন একজন বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও এমন অযৌক্তিক ভূতের ভয় পাওয়ায় এবং সাধারণ বুদ্ধি খাটাতে না পারায় ডাক্তার তাকে "একটা আস্ত গর্দভ" বলে ভর্ৎসনা করেন।
‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেন মৃত মামার তৈলচিত্র স্পর্শ করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক শক খায় এবং সেটাকে মামার অতৃপ্ত আত্মার কাজ বা ভূত বলে বিশ্বাস করে বসে। সে ভয়ে শুকিয়ে যায় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মধ্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পরিবর্তে অন্ধবিশ্বাস কাজ করছিল।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের সাহানাও খোলা মাঠে আলো দেখে সেটাকে ভূতের আলো ভেবে ভয় পায়। সে প্রকৃত কারণ না জেনেই অলৌকিক কিছু কল্পনা করে ভীত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, নগেন এবং সাহানা উভয়েই কোনো ঘটনার পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ না খুঁজে কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে ভয় পেয়েছে। এই অযৌক্তিক ভীতি ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতাই তাদের চরিত্রের বিশেষ মিল।
‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে পরাশর ডাক্তার নগেনের মুখে ভূতের গল্প শুনে তা বিশ্বাস করেননি। তিনি জানতেন, মৃত মানুষের আত্মা ভূত হয়ে ফিরে আসে না। তিনি ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেন এবং নিজের বুদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রমাণ করেন যে, ওটা ভূত নয়, বরং বৈদ্যুতিক শকের ফল। তিনি কুসংস্কারের বিপরীতে যুক্তি ও বিজ্ঞানকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবও একই মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। সাহানা যখন মাঠের আলো দেখে ভূত ভেবে ভয় পায়, তখন তিনি তাকে ভয় না দেখিয়ে বা সেই কুসংস্কারকে প্রশ্রয় না দিয়ে আলেয়া বা মার্স গ্যাসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন। তিনি সাহানাকে বোঝান যে এটি প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বলে ওঠার দৃশ্য, কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়।
উভয় চরিত্রই কুসংস্কারকে প্রশ্রয় না দিয়ে ঘটনার পেছনের সত্য ও বিজ্ঞানসম্মত কারণ উদ্ঘাটন করেছেন এবং অন্যদের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে সাহায্য করেছেন। তাই তাঁদের উভয়কেই আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক মানসিকতার অধিকারী বলা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
১. পরাশর ডাক্তার পেশায় কী ছিলেন?
উত্তর: (খ) ডাক্তার২. নগেন তার মামাকে যমের বাড়ি পাঠাত কীভাবে?
উত্তর: (গ) মনে মনে৩. মামার তৈলচিত্রটি কোথায় ছিল?
উত্তর: (গ) লাইব্রেরিতে৪. নগেনের মামা কেমন প্রকৃতির মানুষ ছিলেন?
উত্তর: (খ) কৃপণ৫. তৈলচিত্রের ফ্রেমটি কিসের ছিল?
উত্তর: (খ) রুপার৬. নগেন প্রথম কবে মামার ছবিতে প্রণাম করতে গিয়েছিল?
উত্তর: (ঘ) মাঝরাত্রে৭. নগেন লাইব্রেরিতে কী করতে গিয়েছিল?
উত্তর: (ঘ) ভক্তি-শ্রদ্ধা জানাতে (প্রণাম করতে)৮. দিনের বেলা তৈলচিত্র স্পর্শ করলে শক লাগত না কেন?
উত্তর: (খ) দিনের বেলা মেইন সুইচ অফ থাকত৯. নগেনের মামা নগেনকে কত টাকা উইল করে দিয়ে গিয়েছিলেন?
উত্তর: (গ) নিজের ছেলেদের সমান টাকা১০. পরাশর ডাক্তার কোন বিষয়টিকে 'পাপ' বা অপরাধ মনে করেননি?
উত্তর: (গ) বিদ্যুতের অপচয় রোধ (পয়সা বাঁচানো)- ১. প্রশ্ন: নগেন কার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত?
উত্তর: নগেন তার মামাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। - ২. প্রশ্ন: গল্পে কোন মাসের উল্লেখ আছে যখন নগেন ডাক্তারের কাছে যায়?
উত্তর: গল্পে মাসের নাম সরাসরি বলা নেই, তবে শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে যা ২ মাস আগে ছিল। (প্রকাশকাল ছিল ফেব্রুয়ারি মাস)। - ৩. প্রশ্ন: নগেনের মামা কত বছর ধরে লাইব্রেরির পেছনে এক পয়সাও খরচ করেননি?
উত্তর: গত ত্রিশ বছরের মধ্যে। - ৪. প্রশ্ন: নগেন কেন মিথ্যা ভক্তি দেখাত?
উত্তর: টাকার লোভে বা মামার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার আশায় নগেন মিথ্যা ভক্তি দেখাত। - ৫. প্রশ্ন: লাইব্রেরিটি কার আমলের ছিল?
উত্তর: লাইব্রেরিটি নগেনের দাদামশায়ের আমলের ছিল। - ৬. প্রশ্ন: পরাশর ডাক্তার নগেনকে কী বলে ভর্ৎসনা করেছিলেন?
উত্তর: "তুমি একটি আস্ত গর্দভ নগেন"— এই বলে ভর্ৎসনা করেছিলেন। - ৭. প্রশ্ন: নগেনের মামার ছবিতে কোন ধাতুর ফ্রেম ছিল?
উত্তর: রুপার ফ্রেম। - ৮. প্রশ্ন: কে নগেনের মামার ছবিতে ইলেকট্রিক ফিটিং করেছিল?
উত্তর: নগেনের মামা নিজেই (পয়সা বাঁচানোর জন্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ডাকেননি)। - ৯. প্রশ্ন: "প্রেতাত্মা মানে তো ভূত? নেই।"— কথাটি কে বলেছিল?
উত্তর: পরাশর ডাক্তার নগেনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। - ১০. প্রশ্ন: গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
উত্তর: 'মৌচাক' পত্রিকায়।
উদ্দীপক: গ্রামের সহজ-সরল মানুষ রহিমা। একদিন রাতে উঠানে শব্দ শুনে সে ভাবে ভূত এসেছে। ভয়ে সে জ্ঞান হারায়। পরদিন সকালে দেখা যায়, ঝড়ে একটি নারিকেল পাতা টিনের চালে পড়ে শব্দ হচ্ছিল। রহিমার ছেলে শিক্ষিত যুবক কামাল তাকে বুঝিয়ে বলে যে, ওটা ভূত নয়, বাতাসের শব্দ।
(ক) নগেনের মামা মারা যাওয়ার কত দিন পর শ্রাদ্ধ হয়েছিল? (বা শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণ কত দিন আগের ঘটনা?)
(খ) "ওটা যে ইলেকট্রিক শক, ভূতের ধাক্কা নয়"— ডাক্তার কীভাবে বুঝলেন?
(গ) উদ্দীপকের রহিমার সাথে নগেনের ভয়ের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো。
(ঘ) "কামাল এবং পরাশর ডাক্তার উভয়েই সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারেন"— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো。
উদ্দীপক: সুমন সাহেব একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন সব ঘটনার পেছনেই কোনো না কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ থাকে। একবার তার অফিসের লিফট হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে সবাই 'ভূতের কান্ড' বলে চেঁচামেচি শুরু করে। কিন্তু সুমন সাহেব শান্তভাবে টেকনিশিয়ান ডেকে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করান।
(ক) নগেন কোন কলেজে পড়ত? (বা নগেন কীসের ছাত্র ছিল?)
(খ) নগেন কেন মামার প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ করেছিল?
(গ) উদ্দীপকের সুমন সাহেবের আচরণের সাথে পরাশর ডাক্তারের আচরণের তুলনা করো。
(ঘ) "কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে সুমন সাহেব ও পরাশর ডাক্তারের মতো মানুষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম"— 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো。
উদ্দীপক: রাতুল তার দাদুর পুরনো বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে একটি বড় আয়না দেখতে পায়। রাতে সেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে সে অদ্ভুত ছায়া দেখে ভয় পায়। পরে সে আবিষ্কার করে, জানালার ফাঁক দিয়ে আসা রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো আয়নায় পড়ে এই ছায়া তৈরি করছে।
(ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল নাম কী?
(খ) "মড়া সেজে থাকা" বলতে নগেন কী বুঝিয়েছে?
(গ) রাতুলের ভয় ভাঙার প্রক্রিয়াটি নগেনের অভিজ্ঞতার সাথে কীভাবে তুলনীয়?
(ঘ) "ভয়কে জয় করার একমাত্র উপায় হলো যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে বিচার করা"— গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো。
