অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা ৫ম অধ্যায় তৈলচিত্রের ভূত সমাধান Class 8 Bangla 1st Toilochitrer Bhut Solution

Ahsan
অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা ৫ম অধ্যায় তৈলচিত্রের ভূত সমাধান Class 8 Bangla 1st Toilochitrer Bhut Solution

তৈলচিত্রের ভূত

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
(অষ্টম শ্রেণি – বাংলা সাহিত্য কণিকা)
পর্ব ১ (পাঠ্যবই ও অনুশীলন)
১. পাঠ পরিচিতি
‘তৈলচিত্রের ভূত’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কিশোর-উপযোগী ছোটগল্প। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘মৌচাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এ গল্পটি। ভূতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে যে কুসংস্কার বিরাজমান, তা ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অন্তঃসারশূন্য। বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে এই কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস সহজেই দূর করা সম্ভব। গল্পে তিনি আস্থা রেখেছেন মানুষের যুক্তিবাদিতার ওপর। কুসংস্কারাচ্ছন্নতার কারণে মানুষ নানা অশরীরী শক্তির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষকে যদি যুক্তি দিয়ে ঘটনা-বিশ্লেষণে উদ্বুদ্ধ করা যায় তাহলে ঐসব বিশ্বাসের অন্তঃসারশূন্যতা ধরা পড়ে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ গল্পে নগেন চরিত্রের মধ্যে ভূত-বিশ্বাসের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে পরাশর ডাক্তার যৌক্তিক বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে স্পষ্ট করে তুলেছেন নগেনের বিশ্বাস ও কুসংস্কারের ভিত্তিহীনতাকে। মৃত ব্যক্তির আত্মা ভূতে পরিণত হয়—এরকম বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত থাকায় নগেন বৈদ্যুতিক শককেই ভূতের কাজ বলে সহজে বিশ্বাস করেছে। অন্যদিকে পরাশর ডাক্তার সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করেন বলে তার কাছে বৈদ্যুতিক শকের বিষয়টি সহজেই ধরা পড়েছে।
২. লেখক পরিচিতি
  • নাম: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়)।
  • জন্ম: ১৯০৮ সালে সাঁওতাল পরগনার দুমকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে।
  • শিক্ষা: কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯২৮ সালে তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ ছাপা হয়। তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন।
  • সাহিত্যকর্ম: তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘পদ্মানদীর মাঝি’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ‘দিবারাত্রির কাব্য’, ‘অহিংসা’, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এছাড়াও তিনি প্রচুর ছোটগল্পও রচনা করেছেন।
  • বৈশিষ্ট্য: তাঁর লেখার প্রধান প্রবণতা মানুষের মন বিশ্লেষণ করা।
  • মৃত্যু: ১৯৫৬ সালে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
৩. পাঠ্যবইয়ের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ)

১. নগেন কার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত?

  • (ক) মাসির
  • (খ) পিসির
  • (গ) মামার
  • (ঘ) দাদার
উত্তর: (গ) মামার
ব্যাখ্যা: গল্পের শুরুতেই বলা হয়েছে নগেন তার মামাবাড়িতে থেকে কলেজে পড়ে।

২. নগেনের সাথে পরাশর ডাক্তারের প্রথম দেখা হয় কখন?

  • (ক) ২ মাস আগে
  • (খ) ৩ মাস আগে
  • (গ) ৪ মাস আগে
  • (ঘ) ৫ মাস আগে
উত্তর: (ক) ২ মাস আগে
ব্যাখ্যা: গল্পে উল্লেখ আছে, "মাস দুই আগে নগেনের মামার শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণ রাখতে গিয়ে পরাশর ডাক্তার নগেনকে দেখেছিলেন।"

৩. মৃত মামার ছবি নগেনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল কেন?

  • (ক) জীবিত মামার প্রতি নগেনের মিথ্যা ভক্তি দেখানোয়
  • (খ) মামার মৃত্যুর আগেই ছবিটি আঁকা হওয়ায়
  • (গ) ছবির রুপার ফ্রেমে বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকায়
  • (ঘ) নগেন ভূতকে খুব ভয় পাওয়ায়
উত্তর: (গ) ছবির রুপার ফ্রেমে বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকায়
ব্যাখ্যা: গল্পের শেষে জানা যায়, রুপার ফ্রেমটির নিচে কাঠফাট কিছু ছিল না এবং দেয়ালের সঙ্গে সেটি এমনভাবে ফিট করা ছিল যে কোনোভাবে বৈদ্যুতিক তারের সাথে সংযোগ ঘটেছিল। ফলে ফ্রেম স্পর্শ করলেই বৈদ্যুতিক শক লাগত, যা ধাক্কা দেওয়ার মতো অনুভূত হতো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৪ ও ৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
আদনান সন্ধ্যাবেলা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিল। এক সময় মনে হলো তার পেছনে পেছনে কেউ হাঁটছে। সে পেছনে ফিরে তাকায় কিন্তু কিছুই দেখতে পায় না। ফলে ভয়ে কাঁপছিল। এমন সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে সে জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে। তার মা বাতি নিয়ে ছুটে এসে দেখেন আদনানের পায়ের জুতার তলে পেরেক গাঁথা একটা কাঠ। এতক্ষণে আদনান ভয়ের কারণ খুঁজে পায়।

৪. উদ্দীপকের আদনানের সাথে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের সাদৃশ্যের কারণ—

  • (ক) তাদের বয়স কম
  • (খ) তারা অন্ধকারকে ভয় করত
  • (গ) তারা ভীষণ ভীতু ছিল
  • (ঘ) তারা ভূত দেখেছিল
উত্তর: (খ) তারা অন্ধকারকে ভয় করত
ব্যাখ্যা: আদনান অন্ধকারে পেছনে কেউ হাঁটছে ভেবে ভয় পাচ্ছিল এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে (অন্ধকারে) চিৎকার করে ওঠে। নগেনও ভূতের ভয়ে রাতে আলো জ্বেলে রাখত এবং অন্ধকারে তৈলচিত্রের কাছে যেতে ভয় পেত। (নোট: সঠিক উত্তর 'ভয় পাওয়া বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন হওয়া' হতে পারে, তবে অপশন অনুযায়ী 'অন্ধকারকে ভয় করত' বা 'ভীষণ ভীতু ছিল'—এ দুটির মধ্যে সাদৃশ্য খোঁজা হচ্ছে। নগেন আলো জ্বেলে রাখত, তাই অন্ধকার ভীতিটাই এখানে মূল কারণ হিসেবে ধরা যায়)।

৫. এরূপ সাদৃশ্যের মূলে কোনটি বিদ্যমান?

  • (ক) বাস্তবজ্ঞানের অভাব
  • (খ) প্রকৃত শিক্ষা না পাওয়া
  • (গ) মানসিক বিকাশ না হওয়া
  • (ঘ) সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা
উত্তর: (ক) বাস্তবজ্ঞানের অভাব
ব্যাখ্যা: আদনান পেরেক গাঁথা কাঠের শব্দকে ভূতের পায়ের আওয়াজ ভেবেছে এবং নগেন ইলেকট্রিক শক-কে ভূতের ধাক্কা ভেবেছে। উভয়ের ক্ষেত্রেই ঘটনার পেছনের বৈজ্ঞানিক বা বাস্তব কারণটি না জানার ফলে (বাস্তবজ্ঞানের অভাব) তারা ভয় পেয়েছে। কুসংস্কার মূলত বাস্তবজ্ঞান ও বিজ্ঞানের অভাবেই তৈরি হয়।
৪. পাঠ্যবইয়ের সৃজনশীল প্রশ্ন ও বিস্তারিত উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক: রফিক সাহেব শীতের ছুটিতে ভাগ্নি সাহানাকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে যান। রাতের আকাশ দেখার জন্য তারা খোলা মাঠে যান। অদূরেই দেখতে পান মাঠের মধ্যে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে উঠে তা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ওটা কীসের আলো তা জানতে চাইলে সাহানার মামা বলেন, ভূতের! সাহানা ভয় পেয়ে তার মামাকে জড়িয়ে ধরে। মামা তখন তাকে বুঝিয়ে বলেন যে, খোলা মাঠের মাটিতে এক প্রকার গ্যাস থাকে— যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। সাহানা বিষয়টা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হয়।
(ক) ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কোন জাতীয় রচনা?
উত্তর: ‘তৈলচিত্রের ভূত’ একটি কিশোর-উপযোগী ছোটগল্প।
(খ) পরাশর ডাক্তার নগেনকে ভর্ৎসনা করলেন কেন?
উত্তর: নগেন কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে বৈদ্যুতিক শককে ভূতের কাজ বলে বিশ্বাস করেছিল এবং দিনের বেলা মেইন সুইচ অফ করে রাখার সাধারণ বুদ্ধিটুকুরও প্রয়োগ করেনি বলে পরাশর ডাক্তার তাকে ভর্ৎসনা করেছিলেন।
পরাশর ডাক্তার যখন রহস্য উদঘাটন করলেন যে, তৈলচিত্রের ফ্রেমে বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল, তখন তিনি নগেনকে প্রশ্ন করেন, দিনের বেলা মেইন সুইচ অফ থাকে বলে শক লাগে না—এটুকু কেন সে বোঝেনি। নগেন একজন বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও এমন অযৌক্তিক ভূতের ভয় পাওয়ায় এবং সাধারণ বুদ্ধি খাটাতে না পারায় ডাক্তার তাকে "একটা আস্ত গর্দভ" বলে ভর্ৎসনা করেন।
(গ) উদ্দীপকের সাহানা আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের বিশেষ মিল কোথায়?— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের সাহানা আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের বিশেষ মিল হলো উভয়েই কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও কাল্পনিক ভয়ে ভীত।
‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেন মৃত মামার তৈলচিত্র স্পর্শ করতে গিয়ে বৈদ্যুতিক শক খায় এবং সেটাকে মামার অতৃপ্ত আত্মার কাজ বা ভূত বলে বিশ্বাস করে বসে। সে ভয়ে শুকিয়ে যায় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মধ্যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পরিবর্তে অন্ধবিশ্বাস কাজ করছিল।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের সাহানাও খোলা মাঠে আলো দেখে সেটাকে ভূতের আলো ভেবে ভয় পায়। সে প্রকৃত কারণ না জেনেই অলৌকিক কিছু কল্পনা করে ভীত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, নগেন এবং সাহানা উভয়েই কোনো ঘটনার পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ না খুঁজে কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে ভয় পেয়েছে। এই অযৌক্তিক ভীতি ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতাই তাদের চরিত্রের বিশেষ মিল।
(ঘ) “রফিক সাহেব আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়কে আধুনিক মানসিকতার অধিকারী বলা যায়?” — উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর: উক্তিটি যথার্থ। রফিক সাহেব এবং পরাশর ডাক্তার উভয়েই বিজ্ঞানমনস্ক, যুক্তিবাদী ও আধুনিক মানসিকতার অধিকারী।
‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে পরাশর ডাক্তার নগেনের মুখে ভূতের গল্প শুনে তা বিশ্বাস করেননি। তিনি জানতেন, মৃত মানুষের আত্মা ভূত হয়ে ফিরে আসে না। তিনি ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেন এবং নিজের বুদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রমাণ করেন যে, ওটা ভূত নয়, বরং বৈদ্যুতিক শকের ফল। তিনি কুসংস্কারের বিপরীতে যুক্তি ও বিজ্ঞানকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবও একই মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। সাহানা যখন মাঠের আলো দেখে ভূত ভেবে ভয় পায়, তখন তিনি তাকে ভয় না দেখিয়ে বা সেই কুসংস্কারকে প্রশ্রয় না দিয়ে আলেয়া বা মার্স গ্যাসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেন। তিনি সাহানাকে বোঝান যে এটি প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বলে ওঠার দৃশ্য, কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়।
উভয় চরিত্রই কুসংস্কারকে প্রশ্রয় না দিয়ে ঘটনার পেছনের সত্য ও বিজ্ঞানসম্মত কারণ উদ্ঘাটন করেছেন এবং অন্যদের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে সাহায্য করেছেন। তাই তাঁদের উভয়কেই আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক মানসিকতার অধিকারী বলা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
পর্ব ২ (অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি)
৫. গুরুত্বপূর্ণ ১০ বহুনির্বাচনি উত্তর ও ব্যাখ্যা সহ

১. পরাশর ডাক্তার পেশায় কী ছিলেন?

  • (ক) শিক্ষক
  • (খ) ডাক্তার
  • (গ) ইঞ্জিনিয়ার
  • (ঘ) উকিল
উত্তর: (খ) ডাক্তার
ব্যাখ্যা: গল্পের শুরুতেই বলা হয়েছে "পরাশর ডাক্তার নিজের প্রকাণ্ড লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখছিলেন"।

২. নগেন তার মামাকে যমের বাড়ি পাঠাত কীভাবে?

  • (ক) অভিশাপ দিয়ে
  • (খ) বিষ খাইয়ে
  • (গ) মনে মনে
  • (ঘ) চিঠি লিখে
উত্তর: (গ) মনে মনে
ব্যাখ্যা: নগেন তার মামাকে বাইরে শ্রদ্ধাভক্তি দেখালেও মনে মনে "প্রায়ই যমের বাড়ি পাঠাত"।

৩. মামার তৈলচিত্রটি কোথায় ছিল?

  • (ক) শোবার ঘরে
  • (খ) বৈঠকখানায়
  • (গ) লাইব্রেরিতে
  • (ঘ) বারান্দায়
উত্তর: (গ) লাইব্রেরিতে
ব্যাখ্যা: গল্পে উল্লেখ আছে, "লাইব্রেরিতে ঢুকে অন্ধকারেই সে মামার তৈলচিত্রের কাছে এগিয়ে গেল।" এবং লাইব্রেরিটি নগেনের দাদামশায়ের আমলের।

৪. নগেনের মামা কেমন প্রকৃতির মানুষ ছিলেন?

  • (ক) দয়ালু
  • (খ) কৃপণ
  • (গ) রাগী
  • (ঘ) মিশুক
উত্তর: (খ) কৃপণ
ব্যাখ্যা: গল্পে নগেনের মামাকে "বড়লোক কৃপণ" বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. তৈলচিত্রের ফ্রেমটি কিসের ছিল?

  • (ক) সোনার
  • (খ) রুপার
  • (গ) কাঠের
  • (ঘ) পিতলের
উত্তর: (খ) রুপার
ব্যাখ্যা: পরাশর ডাক্তার বলেন, "রুপার ফ্রেমটা দাদামশায়ের ছবিতে ছিল... মামা নিজের ছবিতে লাগিয়েছিলেন।"

৬. নগেন প্রথম কবে মামার ছবিতে প্রণাম করতে গিয়েছিল?

  • (ক) সকালে
  • (খ) দুপুরে
  • (গ) সন্ধ্যায়
  • (ঘ) মাঝরাত্রে
উত্তর: (ঘ) মাঝরাত্রে
ব্যাখ্যা: নগেন বলেছিল, "মাঝরাত্রে স্পর্শ করলে এত জোরে তাকে ধাক্কা দিয়েছে যে মেঝেতে আছড়ে পড়ে নগেনের জ্ঞান লোপ পেয়ে গেছে।"

৭. নগেন লাইব্রেরিতে কী করতে গিয়েছিল?

  • (ক) বই পড়তে
  • (খ) টাকা খুঁজতে
  • (গ) ছবি দেখতে
  • (ঘ) ভক্তি-শ্রদ্ধা জানাতে (প্রণাম করতে)
উত্তর: (ঘ) ভক্তি-শ্রদ্ধা জানাতে (প্রণাম করতে)
ব্যাখ্যা: মামার উদারতায় মুগ্ধ হয়ে অনুতপ্ত নগেন মামার পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করার জন্য লাইব্রেরিতে গিয়েছিল।

৮. দিনের বেলা তৈলচিত্র স্পর্শ করলে শক লাগত না কেন?

  • (ক) দিনের বেলা ভূত ঘুমাত
  • (খ) দিনের বেলা মেইন সুইচ অফ থাকত
  • (গ) দিনের বেলা আলো থাকত
  • (ঘ) দিনের বেলা কেউ যেত না
উত্তর: (খ) দিনের বেলা মেইন সুইচ অফ থাকত
ব্যাখ্যা: পরাশর ডাক্তার ব্যাখ্যা করেন, "দিনের বেলা মেন সুইচ অফ করা থাকে, তাই ছবি ছুঁলে কিছু হয় না"।

৯. নগেনের মামা নগেনকে কত টাকা উইল করে দিয়ে গিয়েছিলেন?

  • (ক) কিছুই দেননি
  • (খ) অল্প কিছু টাকা
  • (গ) নিজের ছেলেদের সমান টাকা
  • (ঘ) পুরো সম্পত্তি
উত্তর: (গ) নিজের ছেলেদের সমান টাকা
ব্যাখ্যা: নগেন জেনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল যে, "মামা তাকেও প্রায় নিজের ছেলেদের সমান টাকাকড়ি দিয়ে গেছেন"।

১০. পরাশর ডাক্তার কোন বিষয়টিকে 'পাপ' বা অপরাধ মনে করেননি?

  • (ক) মিথ্যা বলা
  • (খ) চুরি করা
  • (গ) বিদ্যুতের অপচয় রোধ (পয়সা বাঁচানো)
  • (ঘ) বড়দের অসম্মান করা
উত্তর: (গ) বিদ্যুতের অপচয় রোধ (পয়সা বাঁচানো)
ব্যাখ্যা: পরাশর ডাক্তার হেসে বলেন, "কিছু পয়সা বাঁচানোর জন্য বাপের ছবিতে ভূত এনে ছেড়েছে। এ খবরটা যদি আগে দিতে আমায়—"। অর্থাৎ তিনি মামার এই কৃপণতাকে বা ইলেকট্রিক মিস্ত্রি না ডাকার বোকামিটাকে অপরাধ হিসেবে দেখেননি বরং রসিকতা করেছেন। (প্রকৃত উত্তর: তিনি মামার কাজটিকে 'উপযুক্ত ছেলের' কাজ বলেছেন)।
৬. গুরুত্বপূর্ণ ১০ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
  • ১. প্রশ্ন: নগেন কার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত?
    উত্তর: নগেন তার মামাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত।
  • ২. প্রশ্ন: গল্পে কোন মাসের উল্লেখ আছে যখন নগেন ডাক্তারের কাছে যায়?
    উত্তর: গল্পে মাসের নাম সরাসরি বলা নেই, তবে শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে যা ২ মাস আগে ছিল। (প্রকাশকাল ছিল ফেব্রুয়ারি মাস)।
  • ৩. প্রশ্ন: নগেনের মামা কত বছর ধরে লাইব্রেরির পেছনে এক পয়সাও খরচ করেননি?
    উত্তর: গত ত্রিশ বছরের মধ্যে।
  • ৪. প্রশ্ন: নগেন কেন মিথ্যা ভক্তি দেখাত?
    উত্তর: টাকার লোভে বা মামার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার আশায় নগেন মিথ্যা ভক্তি দেখাত।
  • ৫. প্রশ্ন: লাইব্রেরিটি কার আমলের ছিল?
    উত্তর: লাইব্রেরিটি নগেনের দাদামশায়ের আমলের ছিল।
  • ৬. প্রশ্ন: পরাশর ডাক্তার নগেনকে কী বলে ভর্ৎসনা করেছিলেন?
    উত্তর: "তুমি একটি আস্ত গর্দভ নগেন"— এই বলে ভর্ৎসনা করেছিলেন।
  • ৭. প্রশ্ন: নগেনের মামার ছবিতে কোন ধাতুর ফ্রেম ছিল?
    উত্তর: রুপার ফ্রেম।
  • ৮. প্রশ্ন: কে নগেনের মামার ছবিতে ইলেকট্রিক ফিটিং করেছিল?
    উত্তর: নগেনের মামা নিজেই (পয়সা বাঁচানোর জন্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ডাকেননি)।
  • ৯. প্রশ্ন: "প্রেতাত্মা মানে তো ভূত? নেই।"— কথাটি কে বলেছিল?
    উত্তর: পরাশর ডাক্তার নগেনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
  • ১০. প্রশ্ন: গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
    উত্তর: 'মৌচাক' পত্রিকায়।
৭. গুরুত্বপূর্ণ ৩ সৃজনশীল প্রশ্ন (উত্তর ছাড়া)
সৃজনশীল প্রশ্ন-১
উদ্দীপক: গ্রামের সহজ-সরল মানুষ রহিমা। একদিন রাতে উঠানে শব্দ শুনে সে ভাবে ভূত এসেছে। ভয়ে সে জ্ঞান হারায়। পরদিন সকালে দেখা যায়, ঝড়ে একটি নারিকেল পাতা টিনের চালে পড়ে শব্দ হচ্ছিল। রহিমার ছেলে শিক্ষিত যুবক কামাল তাকে বুঝিয়ে বলে যে, ওটা ভূত নয়, বাতাসের শব্দ।

(ক) নগেনের মামা মারা যাওয়ার কত দিন পর শ্রাদ্ধ হয়েছিল? (বা শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণ কত দিন আগের ঘটনা?)
(খ) "ওটা যে ইলেকট্রিক শক, ভূতের ধাক্কা নয়"— ডাক্তার কীভাবে বুঝলেন?
(গ) উদ্দীপকের রহিমার সাথে নগেনের ভয়ের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো。
(ঘ) "কামাল এবং পরাশর ডাক্তার উভয়েই সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারেন"— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো。

সৃজনশীল প্রশ্ন-২
উদ্দীপক: সুমন সাহেব একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন সব ঘটনার পেছনেই কোনো না কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ থাকে। একবার তার অফিসের লিফট হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে সবাই 'ভূতের কান্ড' বলে চেঁচামেচি শুরু করে। কিন্তু সুমন সাহেব শান্তভাবে টেকনিশিয়ান ডেকে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করান।

(ক) নগেন কোন কলেজে পড়ত? (বা নগেন কীসের ছাত্র ছিল?)
(খ) নগেন কেন মামার প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ করেছিল?
(গ) উদ্দীপকের সুমন সাহেবের আচরণের সাথে পরাশর ডাক্তারের আচরণের তুলনা করো。
(ঘ) "কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে সুমন সাহেব ও পরাশর ডাক্তারের মতো মানুষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম"— 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো。

সৃজনশীল প্রশ্ন-৩
উদ্দীপক: রাতুল তার দাদুর পুরনো বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে একটি বড় আয়না দেখতে পায়। রাতে সেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে সে অদ্ভুত ছায়া দেখে ভয় পায়। পরে সে আবিষ্কার করে, জানালার ফাঁক দিয়ে আসা রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো আয়নায় পড়ে এই ছায়া তৈরি করছে।

(ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল নাম কী?
(খ) "মড়া সেজে থাকা" বলতে নগেন কী বুঝিয়েছে?
(গ) রাতুলের ভয় ভাঙার প্রক্রিয়াটি নগেনের অভিজ্ঞতার সাথে কীভাবে তুলনীয়?
(ঘ) "ভয়কে জয় করার একমাত্র উপায় হলো যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে বিচার করা"— গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো。

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
Join