পাছে লোকে কিছু বলে
(অষ্টম শ্রেণি – বাংলা সাহিত্য কণিকা)
- নাম: কামিনী রায়।
- জন্ম: ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে বরিশালের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা ও পেশা: মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৮৬ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্সসহ বি.এ. পাশ করে তিনি ওই কলেজেই অধ্যাপনায় নিযুক্ত হন।
- সাহিত্যকর্ম: আনন্দ ও বেদনার সহজ-সরল প্রকাশ ঘটেছে তাঁর কবিতায়। মানবতাবোধ ও নৈতিকতাকেও তিনি তাঁর কবিতার বিষয় করেছেন। তাঁর লেখা ছোটদের কবিতা সংগ্রহের নাম ‘গুঞ্জন’। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ— ‘আলো ও ছায়া’, ‘মাল্য ও নির্মাল্য’, ‘দীপ ও ধূপ’।
- সম্মাননা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদকে’ ভূষিত করে।
- মৃত্যু: ১৯৩৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
১. মহৎ কাজ সম্পাদনে কোনটিকে উপেক্ষা করা অনুচিত?
উত্তর: (ক) সংকোচ২. আর্তের পাশে দাঁড়াতে গিয়েও কেউ কেউ কেন উপেক্ষা করে চলে যান?
উত্তর: (খ) সমালোচনার ভয়ে৩. ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতাটি পাঠকের মধ্যে কোন ধরনের অনুপ্রেরণা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: (ঘ) সংকোচহীনতামাসুদ গ্রামের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে। সে ভাবে এক সময় প্রচুর আয় হবে, বেকাররা স্বনির্ভর হবে। কিন্তু যদি সে এ কাজে সফল হতে না পারে, তাহলে লোকে তার সমালোচনা করবে। তাই সে তার পরিকল্পনা বাদ দেয়।
৪. উদ্দীপকের মাসুদের মাঝে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কোন বিশেষ দিকটি প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: (খ) সংশয়৫. কামিনী রায়ের দৃষ্টিতেই মাসুদের এ উদ্যোগ সফল করা যেতে পারে—
i. দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হলে
ii. সকল সংশয় দূর করলে
iii. সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে
নিচের কোনটি ঠিক?
উদ্দীপক ১:
‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনি পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
উদ্দীপক ২:
“নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো
যুগ-জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।
সবাই মোরে ছাড়তে পারে বন্ধু যারা আছে
নিন্দুক সে ছায়ার মতো থাকবে পাছে পাছে।
নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে,
আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে।”
কোনো কাজ করার জন্য মানুষের মনে দৃঢ় ইচ্ছা বা সংকল্প থাকে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে যদি সে ভাবে— লোকে কী বলবে বা সমালোচনা করবে, তাহলে তার মনের সেই দৃঢ়তা নষ্ট হয়ে যায়। এই সংশয় বা দ্বিধা মানুষকে সামনে এগোতে দেয় না, বরং তার সংকল্পকে দুর্বল করে দেয়। ফলে মহৎ উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও কাজটি আর করা হয়ে ওঠে না।
‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার উল্লিখিত স্তবকে মানুষের গুটিয়ে থাকা বা নিজেকে লুকিয়ে রাখার মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। সমালোচনার ভয়ে মানুষ নিজেকে আড়াল করে রাখে, সম্মুখে বা সামনে এগিয়ে আসে না। এটি এক ধরনের স্বার্থপরতা বা ভীরুতা, যেখানে ব্যক্তি কেবল নিজেকে নিয়েই বিব্রত বা ব্যস্ত থাকে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের প্রথম অংশে বলা হয়েছে যে, মানুষ পৃথিবীতে কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য আসেনি। বরং “সকলের তরে সকলে আমরা / প্রত্যেকে আমরা পরের তরে”— অর্থাৎ মানুষের জীবন অন্যের কল্যাণের জন্য নিবেদিত। এখানে পরার্থপরতা এবং অন্যের জন্য কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কবিতার ওই স্তবকে মানুষ নিজেকে লুকিয়ে রাখে, আর উদ্দীপকে মানুষ নিজেকে অন্যের জন্য বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলে। তাই উদ্দীপকের বক্তব্য কবিতার ওই স্তবকের আত্মকেন্দ্রিক বা ভীরু মনোভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত।
‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় নিন্দুক বা সমালোচনাকারীদের নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। তাদের সমালোচনার ভয়ে মানুষের মহৎ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়। তারা মানুষের মনে ভয়, লজ্জা ও সংশয় সৃষ্টি করে, ফলে মানুষ ভালো কাজ করতে গিয়েও পিছিয়ে আসে। কবিতার নিন্দুকরা অগ্রগতির পথে বাধার দেওয়াল হয়ে দাঁড়ায়।
বিপরীত দিকে, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে নিন্দুককে ইতিবাচকভাবে বা ‘বন্ধু’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে কবি মনে করেন, নিন্দুক আছে বলেই তিনি সচেতন থাকেন এবং ভুল শুধরে সামনে এগোতে পারেন। নিন্দুকের সমালোচনা তাঁকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে, তাই তিনি নিন্দুককে ‘আঁধার ঘরের আলো’ বলেছেন। এখানে নিন্দুকের ভয় না পেয়ে বরং তাদের অস্তিত্বকে নিজের উন্নতির সোপান হিসেবে দেখা হয়েছে।
তুলনামূলকভাবে বলা যায়, কবিতার নিন্দুক মানুষের মনোবল ভেঙে দেয় এবং কাজ পণ্ড করে, যা ভীরু মানুষদের জন্য ক্ষতিকর। আর উদ্দীপকের নিন্দুক মানুষকে সতর্ক করে এবং পরোক্ষভাবে তাকে পূর্ণতা অর্জনে সাহায্য করে, যা সাহসী মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। অর্থাৎ, কবিতায় নিন্দুকের নেতিবাচক প্রভাব এবং উদ্দীপকে নিন্দুকের ইতিবাচক ব্যবহারের দিকটি ফুটে উঠেছে।
১. ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
উত্তর: (গ) মাত্রাবৃত্ত২. ‘শুভ্র’ শব্দটি কবিতায় কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: (খ) পরিষ্কার বা অমলিন৩. হৃদয়ে কীসের মতো চিন্তা ওঠে?
উত্তর: (ক) বুদবুদের মতো৪. ‘ম্রিয়মাণ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (খ) কাতর বা বিষাদগ্রস্ত৫. মানুষ কেন ‘মহৎ উদ্দেশ্য’ সাধন করতে পারে না?
উত্তর: (গ) লোকলজ্জার ভয়ে৬. ‘যবে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (ক) যখন৭. কামিনী রায় কোন পদক লাভ করেন?
উত্তর: (গ) জগত্তারিণী স্বর্ণপদক৮. স্নেহের কথা কীভাবে ব্যথা প্রশমিত করতে পারে?
উত্তর: (খ) সান্ত্বনা দিয়ে (প্রাসঙ্গিক উত্তর)৯. কামিনী রায় কত বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেন?
উত্তর: (ক) আট বছর১০. বিধাতা মানুষকে কী দিয়েছেন?
উত্তর: (খ) প্রাণ- ১. প্রশ্ন: কামিনী রায় কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: বরিশালের বাসন্ডা গ্রামে। - ২. প্রশ্ন: ‘সদা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সব সময়। - ৩. প্রশ্ন: শক্তি কীসের কবলে মরে?
উত্তর: ভীতির কবলে (ভয়ের কারণে)। - ৪. প্রশ্ন: মানুষ নিজেকে কোথায় ঢেকে রাখে?
উত্তর: নীরবে বা আড়ালে। - ৫. প্রশ্ন: কামিনী রায়ের ছোটদের কবিতা সংগ্রহের নাম কী?
উত্তর: গুঞ্জন। - ৬. প্রশ্ন: ‘উপেক্ষা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: গ্রাহ্য না করা, অবহেলা করা বা গুরুত্ব না দেওয়া। - ৭. প্রশ্ন: শুভ্র চিন্তা কোথায় মিশে যায়?
উত্তর: হৃদয়ের তলে। - ৮. প্রশ্ন: ‘ছল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ছুতা বা ওজর। - ৯. প্রশ্ন: কামিনী রায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ১৯৩৩ সালে। - ১০. প্রশ্ন: সংশয়ে কী টলে?
উত্তর: সংকল্প (দৃঢ় ইচ্ছা)।
উদ্দীপক: রিনা খুব ভালো ছবি আঁকে। সে চায় আর্ট কলেজে ভর্তি হতে। কিন্তু তার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা বলতে থাকে, "ছবি এঁকে কী হবে? এতে কোনো ভবিষ্যৎ নেই।" এসব কথা শুনে রিনা হতাশ হয়ে পড়ে এবং তার আঁকার সরঞ্জাম তুলে রাখে। সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না।
(ক) 'প্রশমিতে' শব্দের অর্থ কী?
(খ) "শক্তি মরে ভীতির কবলে"— কথাটি বুঝিয়ে লেখো。
(গ) উদ্দীপকের রিনার সাথে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কোন ভাবটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো。
(ঘ) "রিনার মতো মানুষদের জন্যই এই কবিতাটি একটি দিকনির্দেশনা"— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো。
উদ্দীপক: ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যখন যুদ্ধের ডাক দিলেন, তখন অনেকেই ভয় পেয়েছিল। কেউ কেউ বলেছিল, এত শক্তিশালী পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে পারা যাবে না। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা সেসব সংশয় ও ভয় উপেক্ষা করে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং দেশকে স্বাধীন করেছিলেন।
(ক) কামিনী রায়ের উল্লেখযোগ্য একটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো。
(খ) মানুষ কেন আড়ালে আড়ালে থাকে?
(গ) উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিকতার সাথে কবিতার কোন দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো。
(ঘ) "সংকল্পে অটুট থাকলে পাছে লোকে কিছু বলে—তা বাধা হতে পারে না"— উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে প্রমাণ করো。
উদ্দীপক: সুমি ক্লাসে একটা নতুন আইডিয়া শেয়ার করতে চায়। কিন্তু সে ভাবে, যদি কেউ হাসাহাসি করে! যদি স্যারের ভালো না লাগে! এই ভেবে সে চুপ করে বসে থাকে। পরে দেখে, অন্য একজন ঠিক একই আইডিয়া শেয়ার করে সবার প্রশংসা পেল। সুমি তখন নিজের ভীরুতার জন্য আফসোস করতে লাগল।
(ক) বিধাতা মানুষকে কী দিয়েছেন?
(খ) শুভ্র চিন্তা কেন হৃদয়ের তলে মিশে যায়?
(গ) উদ্দীপকের সুমির আচরণে কবিতার কোন স্তবকের প্রতিফলন ঘটেছে? বর্ণনা করো。
(ঘ) "সুমি যদি কবিতার শিক্ষা গ্রহণ করত, তবে তার পরিণতি ভিন্ন হতো"— উক্তিটি মূল্যায়ন করো。
