প্রার্থনা
(অষ্টম শ্রেণি – বাংলা সাহিত্য কণিকা)
- নাম: কায়কোবাদ।
- আসল নাম: মুহাম্মদ কাজেম আল কুরায়শী।
- জন্ম: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা ও পেশা: প্রবেশিকা পর্যন্ত লেখাপড়া করে তিনি ডাকবিভাগে চাকরি নেন। অনেক দিন ধরে তিনি নিজ গ্রাম আগলাতে পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন।
- সাহিত্যকর্ম: ছেলেবেলা থেকেই কবিতা লেখায় তাঁর হাতেখড়ি হয়। তাঁর রচিত ‘মহাস্মশান’ বিখ্যাত মহাকাব্য। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অশ্রুমালা’, ‘শিবমন্দির’, ‘অমিয়ধারা’, ‘মহরম শরীফ’ ইত্যাদি।
- মৃত্যু: ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে কবি কায়কোবাদ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
১. কবি বিধাতাকে কী বলে স্তুতি জানিয়েছেন?
উত্তর: (গ) দেহ হৃদে বল২. কোনটি শুদ্ধ?
উত্তর: (খ) দারিদ্র্য৩. ‘নিকুঞ্জ’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: (গ) বাগানউদ্দীপক:
নম্রশিরে সুখের দিনে
তোমারি মুখ লইব চিনে,
দুখের রাতে নিখিল ধরা
যেদিন করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয়।
কবি জানেন, সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমার তুলনায় মানুষ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ। কবির ভক্তি জানানোর মতো জ্ঞান, বুদ্ধি বা আড়ম্বরপূর্ণ উপচার নেই। তিনি নিজেকে ‘নিঃসম্বল’ মনে করেন। তাই তিনি কোনো উপহার বা অর্ঘ্য ছাড়াই কেবল চোখের জল সম্বল করে শূন্য হাতে (রিক্ত করে) বিধাতার দুয়ারে বা সান্নিধ্যে উপস্থিত হয়েছেন। এই চরণের মাধ্যমে কবির বিনয়, দীনতা এবং স্রষ্টার প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ প্রকাশ পেয়েছে।
‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদ বিধাতার কাছে প্রার্থনা করেছেন যে, তিনি যেন সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে সব সময় বিধাতাকে মনে রাখতে পারেন। তিনি বলেছেন, “বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়”। একইভাবে, কবি তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে—তা দারিদ্র্যের কশাঘাতই হোক বা সুখের সময়—স্রষ্টার দয়া ও শক্তি কামনা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিধাতাই তাঁর একমাত্র ভরসা ও পথের সম্বল।
উদ্দীপকেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙক্তিগুলোতে একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুখের দিনেও যেন তিনি প্রভুকে চিনতে পারেন এবং দুঃখের রাতে যখন সারা পৃথিবী তাঁকে বঞ্চনা করবে, তখনও যেন তিনি প্রভুকে সন্দেহ না করেন। অর্থাৎ, উভয় স্থানেই স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, নির্ভরতা এবং সর্বাবস্থায় তাঁকে স্মরণ করার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। এই আধ্যাত্মিক চেতনা ও সমর্পণের জায়গাতেই উদ্দীপক ও কবিতার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে মূলত সুখে এবং দুঃখে স্রষ্টাকে স্মরণ করার ও তাঁর ওপর বিশ্বাস না হারানোর কথা বলা হয়েছে। এটি কবির ব্যক্তিগত আকুতি ও বিশ্বাসের প্রকাশ। ‘প্রার্থনা’ কবিতাতেও এই দিকটি আছে, যেখানে কবি বলেছেন, “জীবনে মরণে, শয়নে স্বপনে / তুমি মোর পথের সম্বল”।
কিন্তু ‘প্রার্থনা’ কবিতার ব্যাপ্তি আরও অনেক বিশাল। এখানে শুধু ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের কথা নয়, বরং সমগ্র প্রকৃতির মাঝে স্রষ্টার অস্তিত্ব ও মহিমা কীর্তিত হয়েছে। কবি দেখিয়েছেন, গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল—সবাই বিধাতাকে স্মরণ করে এবং তাঁর গুণগান গায়। জগতের সব কিছু তাঁর অফুরন্ত দয়ায় চলছে। কবি প্রকৃতির সৌন্দর্যে, বসন্তের বায়ুতে, গভীর বিষাদে—সবখানেই স্রষ্টার উপস্থিতি অনুভব করেছেন। এছাড়া কবিতায় কবির নিজের ভক্তিহীনতা, দীনতা এবং কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করার যে বিনম্র ভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে, তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার বিশালত্ব, বিশ্বজুড়ে তাঁর করুণার বিস্তার এবং প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে তাঁর মহিমা প্রকাশের যে ব্যাপক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে, উদ্দীপকের দু-চারটি চরণে তা উঠে আসা সম্ভব নয়। উদ্দীপকটি কেবল স্রষ্টার প্রতি অবিচল থাকার দিকটিই স্পর্শ করেছে, কিন্তু কবিতার সামগ্রিক আধ্যাত্মিক ও নিসর্গচেতনাকে ধারণ করতে পারেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি কবিতার খণ্ডচিত্র মাত্র, সমগ্রভাবের ধারক নয়।
১. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: (গ) অশ্রুমালা২. কবি বিধাতার কাছে কী নিবেদন করেন?
উত্তর: (খ) চোখের জল৩. কায়কোবাদের আসল নাম কী?
উত্তর: (গ) মুহাম্মদ কাজেম আল কুরায়শী৪. ‘পেশনে’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: (খ) অত্যাচারে৫. কবি কাকে ‘পথের সম্বল’ বলেছেন?
উত্তর: (গ) বিধাতাকে৬. ‘মহাস্মশান’ কী জাতীয় রচনা?
উত্তর: (গ) মহাকাব্য৭. ‘ক্রোড়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (খ) কোল৮. কবি সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে কাকে ভোলেন না?
উত্তর: (গ) বিধাতাকে৯. কায়কোবাদ কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: (ক) ১৯৫১ সালে১০. নিকুঞ্জ বিতানে পাখি কী করে?
উত্তর: (গ) বিধাতার গুণগান গায়- ১. প্রশ্ন: কায়কোবাদ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে। - ২. প্রশ্ন: ‘আরতি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: প্রার্থনা বা স্তুতি। - ৩. প্রশ্ন: কবি বিধাতার কাছে কী প্রার্থনা করেছেন?
উত্তর: দেহে ও হৃদয়ে শক্তি বা বল প্রার্থনা করেছেন। - ৪. প্রশ্ন: ‘চারু’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সুন্দর। - ৫. প্রশ্ন: কবি নিজেকে ‘নিঃসম্বল’ বলেছেন কেন?
উত্তর: বিধাতাকে দেওয়ার মতো ভক্তি, স্তুতি বা কোনো জাগতিক সম্পদ তাঁর নেই বলে। - ৬. প্রশ্ন: শোকানল কী?
উত্তর: শোকরূপ অনল বা যে শোক হৃদয়কে দগ্ধ করে। - ৭. প্রশ্ন: কায়কোবাদের পেশা কী ছিল?
উত্তর: তিনি ডাকবিভাগে চাকরি করতেন (পোস্টমাস্টার ছিলেন)। - ৮. প্রশ্ন: ‘বিভো’ বলে কবি কাকে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: স্রষ্টাকে বা বিধাতাকে (বিভো অর্থ বিভু বা স্রষ্টা)। - ৯. প্রশ্ন: জগতের সব কিছু কার দয়ায় চলছে?
উত্তর: বিধাতার অফুরন্ত দয়ায়। - ১০. প্রশ্ন: গভীর বিষাদে কবি কাকে স্মরণ করেন?
উত্তর: বিধাতাকে।
উদ্দীপক: রহমত সাহেব জীবনে অনেক দুঃখ-কষ্ট পেয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সব কিছুই আল্লাহর দান। সুখের সময় তিনি যেমন আল্লাহকে শোকরিয়া জানান, তেমনি বিপদের সময়ও তিনি হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চান। তিনি বলেন, "আমার যা কিছু আছে, সব তাঁরই দয়া।"
(ক) 'পল' শব্দের অর্থ কী?
(খ) "তুমি মোর পথের সম্বল"— কথাটি বুঝিয়ে লেখো。
(গ) উদ্দীপকের রহমত সাহেবের মানসিকতার সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবির মানসিকতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো。
(ঘ) "উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূল সুরকেই প্রতিধ্বনিত করে"— বিশ্লেষণ করো。
উদ্দীপক: প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান যেন সৃষ্টিকর্তার মহিমা ঘোষণা করছে। বিশাল আকাশ, উত্তাল সমুদ্র, সুন্দর ফুল—সব কিছুর মাঝেই স্রষ্টার নিপুণ হাতের ছোঁয়া। মানুষ যখন এই বিশাল সৃষ্টির দিকে তাকায়, তখন সে নিজের ক্ষুদ্রতা অনুভব করে এবং স্রষ্টার কাছে মাথানত করে।
(ক) কায়কোবাদের গ্রামের নাম কী?
(খ) "তব স্নেহ কণা জগতের আয়ু"— ব্যাখ্যা করো。
(গ) উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার প্রকৃতির চিত্রায়নের তুলনা করো。
(ঘ) "প্রকৃতির রূপের মাঝেই স্রষ্টার মহিমা প্রকাশিত"— ‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো。
উদ্দীপক: একটি ভজন গানে বলা হয়েছে— "প্রভু, আমি তোমাকে ডাকার মন্ত্র জানি না, পূজার বিধি জানি না। আমি শুধু জানি তুমি আছো। আমার সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে আমি তোমাকে ডাকি। তুমি আমার চোখের জল গ্রহণ করো।"
(ক) 'প্রসাদ' শব্দের অর্থ কী?
(খ) কবি বিধাতাকে 'অশেষ মঙ্গল' বলেছেন কেন?
(গ) উদ্দীপকের গানের কথার সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবির নিবেদনের মিল কোথায়?
(ঘ) "ভক্তি ও আত্মসমর্পণই প্রার্থনার মূল কথা"— উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো。
