বঙ্গভূমির প্রতি
(অষ্টম শ্রেণি – বাংলা সাহিত্য কণিকা)
- নাম: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- জন্ম: ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে যশোরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা ও জীবন: শৈশব থেকে তাঁর মনে কবি হওয়ার তীব্র বাসনা ছিল। তিনি মনে করতেন বিলেত না গেলে কবি হওয়া যাবে না। এই আশায় তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন, ফলে তাঁর নামের আগে ‘মাকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়। পরে তিনি সত্য উপলব্ধি করতে পারেন এবং বাংলায় সাহিত্য রচনায় ব্রতী হন। তিনি বাংলা, ইংরেজি ছাড়াও হিব্রু, ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়ান, তামিল, তেলেগু ইত্যাদি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন।
- সাহিত্যকর্ম: তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচনা করেন। তাঁর রচিত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’, ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’; নাটক: ‘শর্মিষ্ঠা’, ‘পদ্মাবতী’, ‘কৃষ্ণকুমারী’; পত্রকাব্য: ‘বীরাঙ্গনা’ ইত্যাদি। ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ নামে একটি সনেট-সংকলনও তিনি রচনা করেন।
- মৃত্যু: ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
১. ‘মক্ষিকা’র সমার্থক শব্দ কোনটি?
উত্তর: (খ) মাছি২. নরকুলে ধন্য কে?
উত্তর: (গ) যিনি কীর্তিমানক. ওমা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি, / আমার এই দেশেতে জন্ম— যেন এই দেশেতে মরি।
খ. বাংলার হাওয়া বাংলার জল / হৃদয় আমার করে সুশীতল।
৩. কবিতাংশে ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার কোন চরণটির ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: (খ) রেখো মা, দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে।৪. ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতাটির মতো (খ) কবিতাংশেও প্রকাশ পেয়েছে—
i. স্বদেশের প্রতি অনুরাগ
ii. স্বদেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ
iii. প্রশান্তি
নিচের কোনটি ঠিক?
উদ্দীপক:
১. আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
২. মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই !
কবি জানেন মানুষের জীবন নশ্বর বা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে অন্যের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকতে পারে। প্রবাসে থাকাকালীন কবির মনে আশঙ্কা জেগেছিল যে তিনি হয়তো আর দেশে ফিরতে পারবেন না বা মৃত্যুবরণ করবেন। তাই তিনি দেশমাতৃকাকে ‘মা’ সম্বোধন করে মিনতি জানিয়েছেন, যেন দেশ তাকে ভুলে না যায়। যদি দেশমাতা তাকে মনে রাখেন, তবে তিনি মৃত্যুকেও ভয় পান না (“নাহি, মা, ডরি শমনে”)। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশমাতৃকার দয়া ও আশীর্বাদ পেলে তিনি ‘অমরতা’ লাভ করবেন, অর্থাৎ মানুষের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। এই অমরত্বের প্রত্যাশাতেই কবি দেশমাতৃকার কাছে বর প্রার্থনা করেছেন।
‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবাসে বসে স্বদেশের প্রতি গভীর মমতা অনুভব করেছেন। তিনি দেশকে মা এবং নিজেকে তার সন্তান হিসেবে কল্পনা করেছেন। তাঁর একমাত্র মিনতি, দেশ যেন তাঁকে ভুলে না যায়। তিনি দেশের স্মৃতিতে, দেশের মানুষের মনের মন্দিরে চিরকাল বিরাজ করতে চান। দেহত্যাগ করলেও যেন তিনি দেশের প্রকৃতি ও স্মৃতির মাঝে বেঁচে থাকেন—এটাই তাঁর কামনা।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার পঙক্তিগুলো উদ্ধৃত হয়েছে। এখানেও কবি মৃত্যুর পর পুনরায় বাংলায় ফিরে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। মানুষ হিসেবে না হলেও শঙ্খচিল, শালিক বা ভোরের কাক হয়ে তিনি বাংলার প্রকৃতির মাঝে ফিরে আসতে চান। এই যে মৃত্যুর পরেও দেশের সাথে নিবিড় বন্ধন অটুট রাখার বাসনা, তা ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার মূল সুরের সাথে মিলে যায়। উভয় কবিতাতেই স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগ এবং মৃত্যুর পরেও স্বদেশের বুকেই বা স্বদেশের স্মৃতিতেই বেঁচে থাকার আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে।
‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় কবি মধুসূদন দত্ত নশ্বর দেহ ত্যাগ করার পরও অমর হয়ে থাকতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, “সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যারে নাহি ভুলে”। অর্থাৎ, তিনি এমন কিছু করে যেতে চান বা এমন আশীর্বাদ চান, যাতে তিনি মানুষের মনের মন্দিরে চিরকাল পূজিত হন। তাঁর চাওয়া হলো, দেশমাতৃকা এবং দেশবাসী যেন তাঁকে মনে রাখে, কারণ স্মৃতিতে বেঁচে থাকাই প্রকৃত অমরত্ব।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রাণ’ কবিতার পঙক্তিগুলোতেও একই আকুতি ধ্বনিত হয়েছে। কবি বলেছেন, “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই”। তিনিও এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে হারিয়ে যেতে চান না; বরং মানুষের হৃদয়ের মাঝে স্থান করে নিয়ে বেঁচে থাকতে চান।
উভয় কবিতাতেই দৈহিক মৃত্যুর ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের ভালোবাসা ও স্মৃতির মধ্যে বেঁচে থাকার চিরন্তন বাসনা প্রকাশ পেয়েছে। মধুসূদন দেশের কাছে বর চেয়েছেন যেন তিনি “ফুটি যেন স্মৃতি-জলে” (পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকেন), আর উদ্দীপকের কবি চেয়েছেন “জীবন্ত হৃদয়-মাঝে” স্থান পেতে। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট ও প্রকাশভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন হলেও উভয় রচনার মূল সুর—অমৃতলাভ বা মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা—সম্পূর্ণ অভিন্ন ও একসূত্রে গাঁথা।
১. মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামের আগে ‘মাইকেল’ শব্দটি কবে যুক্ত হয়?
উত্তর: (খ) খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর২. ‘কোকনদ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (গ) লাল পদ্ম৩. কবি দেশমাতৃকার কাছে কী প্রার্থনা করেছেন?
উত্তর: (গ) অমরতার বর৪. ‘পরমাদ’ শব্দটি কবিতায় কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: (খ) ভুল-ভ্রান্তি বা প্রমাদ৫. ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় কবি নিজেকে কী বলে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: (খ) দাস৬. ‘নীর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (খ) পানি বা জল৭. মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন কোনটি?
উত্তর: (গ) একেই কি বলে সভ্যতা৮. ‘শমন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (খ) মৃত্যু বা মৃত্যুর দেবতা৯. ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতাটি কোন ধরনের কবিতা?
উত্তর: (গ) গীতিকবিতা১০. কবি কার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকতে চান?
উত্তর: (ক) দেশমাতৃকার- ১. প্রশ্ন: মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি কোনটি?
উত্তর: মেঘনাদবধ কাব্য। - ২. প্রশ্ন: ‘তামরস’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পদ্ম। - ৩. প্রশ্ন: কবি কাকে ‘সুবরদে’ বলে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: দেশমাতৃকাকে বা বঙ্গভূমিকে। - ৪. প্রশ্ন: ‘মানস’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মন। - ৫. প্রশ্ন: মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে। - ৬. প্রশ্ন: ‘জীবন-নদে’ কী চিরস্থির থাকে না?
উত্তর: ‘নীর’ বা জল (জীবন-নদে নীর অর্থাৎ জীবনের প্রবাহ বা সময় চিরস্থির থাকে না)। - ৭. প্রশ্ন: কবি কীসের ডরে ভীত নন?
উত্তর: শমনে বা মৃত্যুভয়ে। - ৮. প্রশ্ন: ‘অমৃত-হ্রদ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: যে হ্রদের জল পান করলে মানুষ অমর হয় বা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার স্থান। - ৯. প্রশ্ন: ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতায় কবির কোন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: স্বদেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও একাগ্রতা (দেশপ্রেম)। - ১০. প্রশ্ন: ‘শরদে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: শরৎকাল বোঝাতে বা শরৎকালে।
উদ্দীপক: রফিক সাহেব দীর্ঘ ৩০ বছর বিদেশে কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন। বিদেশে তিনি অনেক বিত্তবৈভব গড়েছিলেন, কিন্তু মনে শান্তি ছিল না। সব সময় তাঁর মনে হতো, দেশের মাটিতে যদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে না পারেন, তবে জীবনটাই বৃথা। তাই সব ছেড়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসে এলাকার উন্নয়নে মন দিলেন। তিনি বলেন, "দেশের মানুষ যদি আমাকে মনে রাখে, সেটাই আমার জীবনের বড় পাওয়া।"
(ক) মাইকেল মধুসূদন দত্তের গ্রামের নাম কী?
(খ) "মক্ষিকাও গলে না গো পড়িলে অমৃত-হ্রদে"— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো。
(গ) উদ্দীপকের রফিক সাহেবের অনুভূতির সাথে ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার কবির অনুভূতির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো。
(ঘ) "দেশপ্রেম ও মানুষের ভালোবাসা পাওয়াই অমরত্ব"— উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো。
উদ্দীপক:
মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালোবাসা!
কি যাদু বাংলা গানে! গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,
গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা।
(ক) 'কোকনদ' মানে কী?
(খ) "চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?"— কবি কেন এ প্রশ্ন করেছেন?
(গ) উদ্দীপকের গানের সাথে ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার দেশপ্রেমের তুলনা করো。
(ঘ) উদ্দীপকটি ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার একটি বিশেষ দিককে ধারণ করে মাত্র, সমগ্র ভাবকে নয়— উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো。
উদ্দীপক: পলাশ দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন। আজ তিনি নেই, কিন্তু গ্রামের প্রতিটি মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। স্কুলের বাচ্চারা তাঁর কবরে ফুল দেয়। পলাশের মা বলেন, "আমার ছেলে মরেও অমর হয়ে আছে সবার হৃদয়ে।"
(ক) 'শমন' শব্দের অর্থ কী?
(খ) কবি নিজেকে দেশমাতৃকার 'দাস' ভেবেছেন কেন?
(গ) উদ্দীপকের পলাশের অমরত্বের সাথে কবির আকাঙ্ক্ষিত অমরত্বের মিল কোথায়?
(ঘ) "কর্মগুণেই মানুষ নরকুলে ধন্য হয়"— ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো。
