Honours 1st year বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় অধ্যায় ০২: ঔপনিবেশিক যুগ (আঠারো ও উনিশ শতক) গাইড PDF

Ahsan
অধ্যায় ০২: ঔপনিবেশিক যুগ (আঠারো ও উনিশ শতক) গাইড PDF

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের Honours 1st year শিক্ষার্থীদের জন্য আজকের পোস্টে থাকছে অনার্স ১ম বর্ষ বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়” (History of Bangladesh: Language, Culture & Identity) গাইড PDF। আমরা এখানে অধ্যায় ০২: ঔপনিবেশিক যুগ (আঠারো ও উনিশ শতক) এর সম্পূর্ণ গাইড PDF নিয়ে এসেছি। পরীক্ষার সেরা প্রস্তুতির জন্য নিচে এই প্রক-ঔপনিবেশিক যুগ অধ্যায়ের গাইড পিডিএফ দেওয়া হলো। এছাড়া, যারা অনার্স ১ম বর্ষের বাংলাদেশের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় গাইড PDF পড়তে বা ডাউনলোড করতে চান তাদের জন্য পোস্টের একদম শেষে অনার্স ১ম বর্ষের History of Bangladesh: Language, Culture & Identity Guide পিডিএফ (PDF) ডাউনলোড লিংক দেওয়া আছে। চলুন আগে কিছু প্রশ্নোত্তর দেখে নেওয়া যাক!

অধ্যায় ০২: ঔপনিবেশিক যুগ (আঠারো ও উনিশ শতক) গাইড PDF

প্রশ্ন ২.০১ ৷৷ ঔপনিবেশিক শাসনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবহের বিবরণ দাও।

উত্তর : ভূমিকা : ঔপনিবেশিক শাসনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- পলাশির যুদ্ধ (১৭৫৭), বক্সারের যুদ্ধ, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভ, বাংলায় দ্বৈত শাসন, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ, বাংলায় প্রতিরোধ আন্দোলন, বাংলায় সংস্কার আন্দোলন, সর্বভারতীয় কংগ্রেস, বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫ খ্রি.), রদ ও প্রতিক্রিয়া, সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ, লক্ষ্ণৌ চুক্তি, খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন, বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন, লাহোর প্রস্তাব, ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তি ও ব্রিটিশ শাসনের অবসান। এই ঘটনাগুলো ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে এবং পরবর্তীকালে তা ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

১. পলাশির যুদ্ধ : নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর তার দৌহিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাংলার মসনদে আরোহণ করেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন নবাব আলীবর্দী খানের কনিষ্ঠ কন্যা আমেনা বেগমের সন্তান। নবাবের সিংহাসনে আরোহণ তার অনেক আত্মীয়-স্বজন এবং কতিপয় রাজকর্মচারী মেনে নিতে পারেনি। ফলে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছেন। এ ষড়যন্ত্রে বিদেশি বণিকরাও যোগ দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র, ঘসেটি বেগম ও শওকত জঙ্গ এর ষড়যন্ত্র, আলীনগর সন্ধি, বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার, অন্ধকূপ হত্যার অবাস্তব কাহিনি, hindu কর্মকর্তাদের ইংরেজ পক্ষাবলম্বন, ইংরেজ ও মীর জাফর কর্তৃক গোপন সন্ধি প্রভৃতি ষড়যন্ত্রের ফলে পলাশি প্রান্তরে নবাব ও ইংরেজদের মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

২. বক্সারের যুদ্ধ : ১৭৬৩ সালে মেজর এ্যাডামসের নেতৃত্বে ১০,০০০ ইউরোপীয় ও ৪০০০ দেশীয় সৈন্য নিয়ে ইংরেজ বাহিনী মীর কাশিমের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন। মীর কাশিমের অধীনে প্রায় ২০,০০০ সৈন্য ছিল। অধিক সংখ্যক সৈন্য থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো সামরিক দক্ষতা ছিল না। মীর কাশিম কাটোয়া, গিরিয়া, উদয়নালা প্রভৃতি যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট পরাজিত হন। এরপর মেজর এ্যাডামস মুঙ্গেরের দিকে অগ্রসর হলে মীর কাশিম পাটনায় পলায়ন করে এবং সেখানে সমস্ত বন্দি ইংরেজ সৈন্যকে হত্যা করে। এরপর মেজর এ্যাডামস সেদিকে অগ্রসর হলে মীর কাশিম নিরুপায় হয়ে অযোধ্যায় পলায়ন করে নবাব সুজা-উদ-দৌলার আশ্রয় গ্রহণ করেন। এ সময় মীর কাশিম নবাব সুজা-উদ-দৌলাসহ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য প্রার্থনা করেন। তারা তাকে সাহায্যের আশা দিলে মীর কাশিম যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ সেনাপতি মেজর হেক্টরের সম্মিলিত বাহিনী মীর কাশিমকে পরাজিত করল। শাহ আলম ইংরেজদের পক্ষে যোগ দেন এবং সুজা-উদ-দৌলা শর্তসাপেক্ষে স্বীয় সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের করেন। মীর কাশিম আত্মগোপন করেন। সম্ভবত ১৭৭৭ সালে অতি দরিদ্র অবস্থায় দিল্লির কোনো জীর্ণ কুটিরে তার মৃত্যু হয়।

৩. দেওয়ানি লাভ : কাটোয়া, গিরিয়া ও উদয়নালার যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয়ের পরে ইংরেজরা মীর জাফরকে পুনরায় বাংলার নবাব পদে স্থাপন করেন। মীর জাফরের মৃত্যুর পর তার নাবালক পুত্র নাজিম-উদ-দৌলাকে বাংলার মসনদে স্থাপন করেন। এছাড়া বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমেই কোম্পানি তথা ইংরেজদের চূড়ান্ত শক্তির পরীক্ষা হয়। তাছাড়া ২০ ফেব্রুয়ারি ১৭৬৫ সালে ইংরেজ কোম্পানি এবং নাজিম-উদ-দৌলার মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি দ্বারা বাংলার নবাব যেন স্বেচ্ছায় শাসন কর্তৃত্ব ইংরেজদের হাতে তুলে দেন। নাজিম-উদ-দৌলা তার সেনাবাহিনী ভেঙে দেন। এছাড়া বাংলার নবাব এখন হতে একজন ডেপুটি সুবাদারের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করবেন এবং কোম্পানির বিনা অনুমতিতে সে ডেপুটি সুবাদারকে পদচ্যুত করতে পারবে না। অন্যদিকে মোগল সম্রাট শাহ আলমের তখন আর্থিক দুর্দশা চলছিল। এমনি মুহূর্তে ইংরেজরা বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা রাজস্ব দেওয়ার শর্তে বাংলার দেওয়ানের পদ লাভ করে। তখন থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায় শুরু করে নবনিযুক্ত দেওয়ান ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

৪. দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা : ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দ্বৈতশাসনব্যবস্থা। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ "Diarchy"। এটি গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত। Di অর্থ twice বা দুইবার এবং Archi, শব্দের অর্থ rule বা শাসন। সুতরাং দ্বৈতশাসন বলতে দুই ধরনের শাসনকে বোঝায়। ভারত শাসন আইনের অধীন প্রদেশের শাসনকার্যের বিষয়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করে দুটি ভিন্ন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে শাসন করা হয়েছিল বলে এরূপ নামকরণ করা হয়। এইচ রহমান (H. Rahman) তাঁর "Constitutional and Political Development of Bangladesh" গ্রন্থে বলেছেন, "Since the Government was divided into two parts, the system was known as Diarchy." দ্বৈতশাসনের মূলকথা হলো সরকারের বিভিন্ন বিষয় দুভাগে বিভক্ত করে শাসন করা।

৫. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষ (The famine of 1770) : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ও শোষণাধীনে বাংলার এক দুর্যোগময় মুহূর্তে বাংলা ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০) এ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল বলে তা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। আপাত দৃষ্টিতে প্রকৃতির বিমাতা সুলভ আচরণ এ দুর্ভিক্ষের পেছনে অনেকাংশে দায়ী থাকলেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুঃশাসন ও শোষণ ও দুর্ভিক্ষকে মহা-দুর্ভিক্ষে পরিণত করেছিল। জনৈক ইংরেজি কর্মচারী ১৭৭০ সালে লিখেছিলেন, "বাংলার দুরাবস্থা কল্পনা ও বর্ণনাতীত। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, বহু স্থানে মৃতের মাংস খেয়ে মানুষ জীবনধারণের চেষ্টা করেছে।"

৬. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত : চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৮৯-৯০ সালে দশ বছরের জন্য জমিদারদের সাথে যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদারগণ জমির মালিক, মালিক হিসেবে তারা জমি বিক্রয়, দান, বন্ধক রাখতে পারবেন। রাজস্ব প্রাপ্তি বৃদ্ধি এবং নিশ্চয়তার গ্যারান্টি হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর দ্বারা জমিদারগণ নির্দিষ্ট রাজস্বের বিনিময়ে স্বত্বে বংশানুক্রমিক মালিকানা পায়। জমির মালিক কৃষকদের হাত থেকে জমিদারদের হাতে স্থানান্তরিত হয়। জমিদারগণ বছরের নির্দিষ্ট দিনের সূর্যাস্তের আগে রাজস্ব জমা দিতে না পারলে জমিদারি নিলামে বিক্রি দেওয়া হতো। ৪৭টি রেগুলেশন নিয়ে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আইন গঠিত হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদারগণ সরকারের বিপদে আপনজন হিসেবে সমর্থন আদায় করেন।

৭. সিপাহি বিদ্রোহ : ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অন্যায় শাসন ও শোষণের ফলে ভারতীয়দের মধ্যে প্রায় ১০০ বৎসর সময়ে যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় তারই বহিঃপ্রকাশ ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ। সিপাহিদের মাধ্যমেই এ বিদ্রোহের সূত্রপাত হলেও পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে মহাবিদ্রোহের রূপ লাভ করে। ব্রিটিশ সরকারের অতিরিক্ত ভূমি রাজস্ব আদায়, বিতর্কিত ভূমিসংস্কার নীতি বাস্তবায়ন, জমিদারদের জমিদারি থেকে উচ্ছেদ, কৃষকদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ, ব্রিটিশ পণ্য আমদানির মাধ্যমে দেশীয় শিল্প ধ্বংস সাধন, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী থেকে ভারতীয়দের অপসারণ, এনফিল্ড রাইফেল প্রবর্তন প্রভৃতি কারণে ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। ১৮৫৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড রাইফেল নামক একটি অস্ত্র প্রবর্তন করা হয়, যার কার্তুজে ছিল পশুর চর্বি মিশ্রিত। কিন্তু ভারতীয় সেনাদের মধ্যে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ধর্ম নাশের জন্য এনফিল্ড রাইফেলের কার্তুজে গরু ও শুকরের চর্বি মিশ্রিত করেছে। ফলে উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিরা গোপনে বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিতে থাকে। তবে সব দিক থেকেই যখন বিদ্রোহের অনুকূল পরিবেশ তৈরি ঠিক সেই সময়ে মঙ্গল পান্ডে নামক এক ব্রাহ্মণ সিপাহি ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ইংরেজ সৈন্যদের ওপর আক্রমণ করলে সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয়, যা দ্রুত ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে মহাবিদ্রোহের রূপ লাভ করে। এই বিদ্রোহে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন গোষ্ঠী-পেশার লোকজন অংশগ্রহণ করলেও মূলত সিপাহিদের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় বলে একে সিপাহি বিদ্রোহ বলা হয়।

৮. ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠা : ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ক্ষমতা নিয়ে তাদের শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।

প্রশ্ন ২.০২ ৷৷ ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের উপাদানসমূহ আলোচনা কর।

অথবা, ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের উপাদান লিখ।

উত্তর : ভূমিকা : জাতীয়তাবাদ প্রকৃতপক্ষে একটি ভাবগত বা মানসিক চেতনাবিশেষ। জাতীয়তাবাদ হলো জনসমাজের মধ্যে এক গভীর ঐক্যবোধ বা স্বাতন্ত্র্যবোধ। জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ জনসমাজ পৃথিবীর অন্যান্য মনুষ্য সম্প্রদায় হতে নিজেদের পৃথক করে দেখে। নানা কারণে জাতীয় ঐক্যবোধ জাগ্রত হতে পারে। ভৌগোলিক সান্নিধ্য, উদ্ভবগত ঐক্য, ভাষা-ধর্ম-সাহিত্য-ইতিহাস, ঐতিহ্যগত সমতা, অর্থনৈতিক অভাব-অভিযোগ সম্পর্কে সচেতনতা এবং অভিন্ন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি।

ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের উপাদানসমূহ : নিম্নে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশের উপাদানসমূহ আলোচনা করা হলো :

১. ইংরেজি শিক্ষার বিস্তার : "ভারতীয়গণ পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানে শিক্ষিত হয়ে উঠলে তারা পাশ্চাত্য শাসন পদ্ধতি দাবি করবে" মেকলের এই বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। ইংরেজি শিক্ষা লাভ করার ফলে শিক্ষিত ভারতবাসী পাশ্চাত্য সাহিত্য, দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করে। ভারতে জাতীয়তাবাদ চিন্তাধারার সূচনায় ইংরেজি শিক্ষার এক সৃজনশীল ভূমিকা ছিল।

২. মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব : ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের সময় জমিদার শ্রেণি সরকারের পক্ষ অবলম্বন করেন। ফলে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি জাতীয়তাবাদ প্রচারের ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। শিক্ষকতা, আইন ব্যবসা, সাংবাদিকতা, সরকারি চাকরি ছিল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির পেশা, ইংরেজি শিক্ষার কারণে সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিশেষ সম্মান ও প্রতিপত্তি ছিল।

৩. শোষণ : ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবের ফলে ভারতের অর্থনৈতিক জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। শিল্পবিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডে বড় বড় সুতার কারখানা স্থাপিত হয়। যন্ত্রচালিত তাঁতে প্রস্তুত ইংল্যান্ডের সুতীবস্ত্রের সাথে ভারতীয় তাঁত শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। ফলে ভারতের বস্ত্রশিল্প ধ্বংস হয়। তাঁত শিল্পে নিয়োজিত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। গ্রামীণ কুটিরশিল্পের অবলুপ্তি ঘটায় শ্রমজীবী সম্প্রদায় জীবিকার জন্য কৃষিকর্মের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

৪. সামরিক ক্ষেত্রে বৈষম্য : ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর সরকার সামরিক বাহিনীতে নীতির আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। সামরিক বাহিনীতে ভারতীয়দের সংখ্যা হ্রাস করা হয় এবং ইউরোপীয় সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। অযোধ্যায় অবস্থিত 'বেঙ্গল আর্মি'র পরিবর্তে ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় ও আঞ্চলিক জাতিগোষ্ঠী থেকে সিপাহী নিয়োগ নীতি গৃহীত হয়। ইংরেজ সেনাবাহিনীর হাতে উন্নত সামরিক মারণাস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে, ভারতীয় সিপাহীদের নিম্নমানের অস্ত্র ব্যবহার করতে দেওয়া হয়।

৫. প্রশাসনিক বৈষম্য : ১৮৬৬ সালে ব্রিটিশ সরকার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২১ করলে ভারতীয় যুবকদের পক্ষে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই যে চাকরি পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় I.C.S পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি পেলেও ১৮৭৪ সালে তাঁকে সামান্য অজুহাতে পদচ্যুত করা হয়। ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ সরকার এক আইন দ্বারা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের বয়সসীমা ২১ থেকে কমিয়ে ১৯ করলে সুরেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে ভারত সভা এই নীতির বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।

৬. সামাজিক বৈষম্য : জাতি, ধর্ম, শ্রেণি ও অঞ্চল নির্বিশেষে ভারতীয় মাত্রই ইংরেজদের এই ভারত বিদ্বেষী মনোভাবের শিকারে পরিণত হয়। যেকোনো অবস্থাতেই হোক না কেন কোনো ভারতীয়ই ইউরোপীয়দের জন্য সংরক্ষিত কোনো ক্লাবে প্রবেশাধিকার ছিল না। রেলওয়ের কোনো কামরায় ইংরেজ থাকলে সেই কামরায় ভারতীয় যাত্রীকে টিকিট দেওয়া হতো না। ইংরেজদের এই বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণের জন্য ভারতবাসী প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

৭. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ : ভারতীয় জাতীয়তাবোধের উন্মেষের ক্ষেত্রে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ছিল এক মাইলফলক। এই বিদ্রোহ ভারতীয় সিপাহীদের অসন্তোষ থেকে উদ্ভূত হলেও এই বিদ্রোহের মূলে ছিল কোম্পানীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ভারতীয় জনগণের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ এবং বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ। এ বিদ্রোহে হিন্দু, মুসলমান একই সঙ্গে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত হয়।

৮. উপজাতি ও কৃষক আন্দোলন : এ সময় ভারতবর্ষে উপজাতীয় বিদ্রোহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিল ১৮৫৬ – ৫৭ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ। অর্থনৈতিক কারণে এ বিদ্রোহ সংঘটিত হলেও এ বিদ্রোহের পেছনে সাঁওতালদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাও ছিল। সাঁওতাল বিদ্রোহের পর ১৮৭৯ সালে সংঘটিত হয় গোদাবরী উপত্যকায় মুণ্ডা বিদ্রোহ। উনিশ শতকে উপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহের মধ্যে অন্যতম ছিল নীল বিদ্রোহ। এ সময় বাংলায় নীল চাষ ছিল খুবই লাভজনক। ফলে নীলকর সাহেবরা জোরপূর্বক বাংলার কৃষকদেরকে নীলচাষে বাধ্য করতো। এর প্রতিবাদে বাংলার কৃষকেরা নীলকরদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬০ সালে আইন প্রণয়ন করে জোরপূর্বক নীল চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

৯. উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভাব : ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়। রেলপথ, টেলিগ্রাফ ও ডাকঘর প্রভৃতির সম্প্রসারণ ঘটে। এর ফলে বিশাল ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত ও পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

১০. সাহিত্য : রবীন্দ্রনাথ রচিত 'চার অধ্যায়', 'মুক্তধারা', 'রক্ত করবী' প্রভৃতি অমর সাহিত্য জনমানসে ব্যাপক চেতনা সৃষ্টি করে। সাহিত্যের মাধ্যমে জাতীয়তাবোধের প্রসার শুধু বাংলায় সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য সৃজনশীল কবি ও সাহিত্যিক তাঁদের রচনায় জনগণের মধ্যে স্বদেশপ্রীতি জাগ্রত করেন।

১১. সংবাদপত্র : ১৮৫৩ সালে হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায় 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট' নামে একটি ইংরেজি সংবাদপত্র চালু করেন। এই পত্রিকা ভারতে জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রচারের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে কেশবচন্দ্র সেনের 'ইন্ডিয়ান মিরর' সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত 'বেঙ্গলী' ও শিশিরকুমার ঘোষের 'অমৃতবাজার পত্রিকা' জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিল।

১২. ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন : বাংলায় নবজাগরণের ক্ষেত্রে ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন হেনরী ভিভিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯ - ১৮৩১)। ১৮২৬ সালে ডিরোজিও হিন্দু কলেজে সাহিত্য ও ইতিহাসের শিক্ষকরূপে যোগ দেন। শীঘ্রই তিনি কলেজের ছাত্রমন্ডলীর মধ্যে অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

১৩. ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন : ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের ফলে ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। উনিশ শতকে মুসলিম জাগরণে যাঁরা নেতৃত্ব দেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সৈয়দ আহমদ বেরলভী, হাজী শরীয়তুল্লাহ, দুদু মিয়া, তিতুমীর, সৈয়দ আহমদ খান, নবাব আব্দুল লতিফ, সৈয়দ আমীর আলী প্রমুখ। সৈয়দ আহমদ বেরলভী মুসলমানদের ইসলামি আদর্শ অনুসরণ এবং সরল ও পবিত্র জীবন পালনের শিক্ষা দেন। তিনি অমুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে জিহাদের বাণীও প্রচার করেন এবং এদেশকে 'দারুল হরব' (বিধর্মীর দেশ) বলে ফতোয়া দেন। তাঁর এই আন্দোলন 'মুহাম্মদী আন্দোলন' নামে পরিচিত।

১৪. রাজনৈতিক সমিতি : ১৮২৪ সাল থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে ভারতে অসংখ্য সভা-সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই ঐতিহাসিক ড. অনিল শীল উনিশ শতককে 'সমিতির যুগ' (Age of Associations) বলে চিহ্নিত করেছেন। ভারতে প্রথম রাজনৈতিক সমিতি হিসেবে 'জমিদার সমিতি'-কে মনে করা হয়। ১৮৩৮ সালে রাধাকান্তদেবের সভাপতিত্বে জমিদার সমিতি গঠিত হয়। এরপর ১৮৪৩ সালে গঠিত হয় বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি। প্রথমদিকের রাজনৈতিক সমিতিগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হলো ব্রিটিশ ইন্ডিয়া এসোসিয়েশন (১৮৫১)। ভারতে শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নে এই সমিতি বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পেশ করেছিল।

১৫. ইলবার্ট বিল : ভারতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সৃষ্টিতে ইলবার্ট বিল বিতর্ক ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইংরেজ শাসনের শুরু থেকেই ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় ভারতীয় ও ইউরোপীয়দের মধ্যে এক অসমর্থনীয় বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। অর্থাৎ কোনো ভারতীয় বিচারকের ইউরোপীয়দের বিচার করার অধিকার ছিল না। লর্ড রিপন ভারতে ভাইসরয় হয়ে এসে ইলবার্ট বিলের মাধ্যমে এ বৈষম্য দূরীকরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু শ্বেতাঙ্গ ইংরেজদের চাপে তিনি শেষ পর্যন্ত এ বিল প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, একটা জটিল ও অভিনব পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশ ঘটেছে। যেসব উপাদান ভারতের জাতীয়তাবাদের পরিস্ফুটনে ভূমিকা রেখেছে তার সবকিছুই ভারতে ইংরেজ অনুসৃত সাম্রাজ্যবাদী নীতির ফল। শাসনের পরিবর্তে শোষণ, বৈষম্য ও ঔত্য, দমননীতি ইত্যাদি হলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিভিন্ন দিক। ব্রিটিশ সরকারের সাম্রাজ্যবাদী নীতি প্রতিক্রিয়ার ফলেই ধীরে ধীরে দানা বেঁধে ওঠে ভারতীয় উপমহাদেশের জাতীয়তাবাদ।

পলাশির যুদ্ধ

প্রশ্ন ৷২.০৩৷ পলাশির যুদ্ধ সম্পর্কে টীকা লিখ। পলাশির যুদ্ধের পটভূমি বর্ণনা কর।

অথবা, পলাশির যুদ্ধ সম্পর্কে যা জান লিখ। যে পটভূমিতে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তা বর্ণনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : বাংলার ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো পলাশির যুদ্ধ। পলাশির যুদ্ধের মাধ্যমে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হন। এই পরাজয়ের মাধ্যমে ইংরেজরা বাংলার ক্ষমতা দখল করে। মীর জাফরকে পুতুল নবাব বানান ইংরেজরা। ইংরেজরা বাংলায় স্বাধীনভাবে ব্যবসা শুরু করে।

❑ পলাশির যুদ্ধ : নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর তার দৌহিত্র নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাংলার মসনদে আরোহণ করেন। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ছিলেন নবাব আলীবর্দী খানের কনিষ্ঠ কন্যা আমেনা বেগমের সন্তান। নবাবের সিংহাসনে আরোহণ তার অনেক আত্মীয়-স্বজন এবং কতিপয় রাজকর্মচারী মেনে নিতে পারেনি। ফলে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছেন। এ ষড়যন্ত্রে বিদেশি বণিকরাও যোগ দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র, ঘসেটি বেগম ও শওকত জঙ্গ এর ষড়যন্ত্র, আলীনগর সন্ধি, বাণিজ্যিক সুবিধার অপব্যবহার, অন্ধকূপ হত্যার অবাস্তব কাহিনি, হিন্দু কর্মকর্তাদের ইংরেজ পক্ষাবলম্বন, ইংরেজ ও মীর জাফর কর্তৃক গোপন সন্ধি প্রভৃতি ষড়যন্ত্রের ফলে পলাশি প্রান্তরে নবাব ও ইংরেজদের সাথে ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ইংরেজরা চতুর্দিকে ষড়যন্ত্রের গভীর জাল বিস্তার করে নবাবের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। ক্লাইভ নবাবের বিরুদ্ধে সন্ধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং সসৈন্যে মুর্শিদাবাদের দিকে অগ্রসর হয়। ইংরেজদের সংখ্যা ছিল তিন হাজারের কিছু বেশি। নবাব ইংরেজদের আক্রমণের খবর পেয়ে ৫০ হাজার পদাতিক ও ২৮ হাজার অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে ইংরেজদের মোকাবিলা করার জন্য সামনে অগ্রসর হয়। ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে ভাগীরথী নদীর তীরে উভয়ের মধ্যে এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধকে পলাশির যুদ্ধ বলা হয়। যুদ্ধে মীর জাফর ও রায়দুর্লভের ষড়যন্ত্রে ও বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের বিরাট বাহিনী শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। হতভাগ্য সিরাজ ধৃত হয়ে মীর জাফরের পুত্র মীর মীরনের আদেশে মোহাম্মদী বেগের হাতে নিহত হন।

❑ পলাশির যুদ্ধের পটভূমি : সিরাজ-উদ-দৌলার সিংহাসনে বসার মধ্য দিয়েই পলাশির যুদ্ধের পটভূমি রচিত হওয়া শুরু হয়। আর তার সমাপ্তি ঘটে ১৭৫৭ সালের চূড়ান্ত যুদ্ধের মাধ্যমে। নিম্নে পলাশি যুদ্ধের পটভূমি আলোচনা করা হলো :

১. উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব : নবাব আলীবর্দী মৃত্যুর আগে তার কনিষ্ঠ কন্যা আমেনা বেগমের পুত্র সিরাজ-উদ-দৌলাকে বাংলার সিংহাসনের উত্তরাধিকার মনোনীত করে যান। ১৭৫৬ খ্রিঃ আলীবর্দী মৃত্যু হলে তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজ-উদ-দৌলা ২৩ বছর বয়সে নবাবের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সিংহাসনে বসার পর থেকেই উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। বিশেষ করে আলীবর্দী খানের তিন কন্যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ কন্যা ঘসেটি বেগম সিরাজের নবাব হওয়ায় আশাহত হয়ে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এদের সঙ্গে যোগ দেন ঘসেটি বেগমের দেওয়ান রাজা রাজবল্লভ, পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা সিরাজের খালাতো ভাই শওকত জঙ্গ এবং অন্যান্যরা। কৌশলে নবাব ঘসেটি বেগমকে নজরবন্দি রাখেন। পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা শওকত জঙ্গ বিদ্রোহী হয়ে উঠলে সিরাজ-উদ-দৌলা এক যুদ্ধে তাকে পরাজিত ও নিহত করে পূর্ণিয়া দখল করে নেন। আপাতত দ্বন্দ্বের নিরসন হলেও ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার লাভ করতে থাকে এবং পলাশি যুদ্ধের পটভূমি তৈরি হতে থাকে।

২. নবাবের প্রতি আনুগত্যহীনতা : সিরাজ-উদ-দৌলা যখন বাংলার নবাব হন তখন মুঘল ভারতের প্রচলিত প্রথা অনুসারে ফরাসি, ডাচ কোম্পানি এবং বাংলার জমিদাররা নতুন নবাবকে উপহার উপঢৌকন দিয়ে অভিনন্দন জ্ঞাপন করে এবং নবাবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। কিন্তু কলকাতার ইংরেজ কর্তৃপক্ষ তা না করে নবাবের মর্যাদাহানি করে। তারা নবাবের প্রতি কোনোরূপ সম্মান প্রদর্শন না করে চরম আনুগত্যহীনতার পরিচয় দেয়। এই ঘটনা নবাবকে ইংরেজদের প্রতি চরমভাবে ক্রুদ্ধ করে।

৩. কৃষ্ণদাসকে আশ্রয় প্রদান : জাহাঙ্গীরনগরের দেওয়ান রাজবল্লভের পুত্র কৃষ্ণদাস সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে পরিবার-পরিজনসহ ইংরেজ কোম্পানির কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে। ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে সিরাজ কৃষ্ণদাসকে তার হাতে অর্পণ করার জন্য কলকাতার ইংরেজ গভর্নর ড্রেক-কে নির্দেশ দেন। কিন্তু ড্রেক নবাবের আদেশ অমান্য করেন। ফলে সিরাজ-উদ-দৌলা ও ইংরেজদের মধ্যকার সম্পর্ক আরো বৈরী হতে থাকে।

৪. দুর্গ নির্মাণ সংক্রান্ত জটিলতা : নবাব আলীবর্দী খান ইউরোপীয় বণিকদেরকে তার রাজ্যে দুর্গ নির্মাণ করার অনুমতি দেননি। আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের আশঙ্কায় নবাবের বিনা অনুমতিতে ইংরেজ ও ফরাসিরা চন্দননগরে দুর্গ নির্মাণ করতে শুরু করে। নবাব অবিলম্বে ইংরেজ ও ফরাসিদের দুর্গ নির্মাণ বন্ধ করার এবং নির্মিত অংশ ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। ফরাসিরা নবাবের আদেশ মানলেও কলকাতার ইংরেজ কর্তৃপক্ষ নবাবের আদেশ অমান্য করেন এবং ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নতুনভাবে নির্মাণ করে আরো দুর্ভেদ্য করে তোলে। এই ঘটনা নবাবের সার্বভৌমত্বকে হেয় করে, যা পরবর্তীকালে পলাশি যুদ্ধের পটভূমি রচনায় সহায়তা করে।

৫. দস্তকসংক্রান্ত জটিলতা : মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ার ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে এক ফরমান দ্বারা ইংরেজ কোম্পানিকে বিনা শুল্কে সমগ্র ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্য করবার অধিকার প্রদান করেন। বিনাশুল্কে আমদানি-রপ্তানির সুবিধার জন্য কোম্পানিকে যে ছাড়পত্র দেওয়া হয় তা দস্তক নামে পরিচিত। বিনা শুল্কে সমগ্র ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্য করার বিনিময়ে কোম্পানি মুঘল সরকারকে বার্ষিক তিন হাজার টাকা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। কিন্তু কোম্পানির কর্মচারীরা শীঘ্রই দস্তকের অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত ব্যবসায়-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে। মুর্শিদকুলি খান ইংরেজদের ফরমান লাভের মধ্যে অশুভ সংকেত লক্ষ করে এর বিরোধিতা করেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, কোম্পানি তার রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য শুল্ক ছাড়পত্র বা দস্তক ভোগ করলেও কোম্পানির কর্মচারীরা ব্যক্তিগত বাণিজ্যের জন্য দস্তক ব্যবহার করবে না। কিন্তু নবাব ক্ষমতাহীন হয়ে লক্ষ করলেন, কোম্পানির কর্মচারীরা শর্ত অমান্য করে ব্যক্তিগত ব্যবসায় করছে এবং নবাবকে কর ফাঁকি দিচ্ছে। এর ফলে নবাবের রাজকোষের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। নবাব ইংরেজ গভর্নর ড্রেককে দস্তকের অপব্যবহার বন্ধ করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু ড্রেক তা অগ্রাহ্য করেন। এর ফলে নবাব ইংরেজদের প্রতি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হন।

. কলকাতা দখল : ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে নবাব মুর্শিদাবাদ থেকে সসৈন্যে শওকত জঙ্গকে দমন করার উদ্দেশ্যে পূর্ণিয়ার দিকে অগ্রসর হন। ২০ মে তিনি যখন রাজমহলে পৌঁছান তখন গভর্নর ড্রেক প্রদত্ত পত্র তার হস্তগত হয়। এই পত্রে ড্রেক ইংরেজদের সদিচ্ছার কথা অতি নম্র ভাষায় নবাবকে জানালেও দুর্গ নির্মাণ বন্ধ কিনা সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ করেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নবাব পূর্ণিয়ার দিকে অগ্রসর না হয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরে আসেন এবং কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতার ইংরেজগণকে উপযুক্ত শাস্তিদানের উদ্দেশ্যে সসৈন্যে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে তিনি কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠি দখল করে কলকাতার দিকে অগ্রসর হন। ১৬ জুন নবাব কলকাতার উপকণ্ঠে পৌঁছান। কলকাতা দুর্গের সৈন্যসংখ্যা খুব অল্প ছিল। কলকাতাস্থ ইংরেজ ঘাঁটি ফোর্ট উইলিয়াম দখল করতে নবাবকে বেগ পেতে হয়নি। গভর্নর ড্রেক ও অপরাপর ইংরেজগণ ফোর্ট উইলিয়াম ত্যাগ করে জলপথে ফলতা নামক স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ২০ জুন কলকাতার নতুন গভর্নর হলওয়েল আত্মসমর্পণ করেন এবং বিজয়ী নবাব কলকাতার দুর্গে প্রবেশ করেন।

৭. ইংরেজ কর্তৃক কলকাতা পুনর্দখল : কলকাতা হাতছাড়া হবার পর ইংরেজ কোম্পানি মাদ্রাজ থেকে রবার্ট ক্লাইভের অধীনে একদল সৈন্য ও এডমিরাল ওয়াটসনের অধীনে এক নৌবহর কলকাতা পুনরুদ্ধারের জন্য পাঠান। ক্লাইভ ও ওয়াটসন বিনা বাধায় কলকাতায় উদ্বাস্তু ইংরেজদের সঙ্গে মিলিত হন। ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ডিসেম্বর ইংরেজ সৈন্য ও নৌবহর কলকাতার দিকে যাত্রা করে। নবাবের বজবজে একটি ও তার কাছেই আরো একটি দুর্গ ছিল। মানিকচাঁদ এই দুর্গ দুটি রক্ষার্থে অগ্রসর হচ্ছিলেন- পথে ক্লাইভের সৈন্যের সাথে সংঘর্ষ হয়। ফলে মানিকচাঁদ পলায়ন করে। ইংরেজরা বজবজ দুর্গ ধ্বংস করে এবং বিনা যুদ্ধে কলকাতা অধিকার করে। এরপর তারা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ সুরক্ষিত করে।

৮. নবাব কর্তৃক ২য় বার কলকাতা আক্রমণ : কলকাতা অধিকার করেই ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অপরদিকে নবাব সিরাজও কলকাতা অধিকারের সংবাদ পেয়ে যুদ্ধযাত্রা করেন। ক্লাইভ ১০ জানুয়ারি হুগলি অধিকার করে শহরটি লুণ্ঠন করেন এবং পার্শ্ববর্তী বহু গ্রাম পুড়িয়ে দেন। ১৯ জানুয়ারি নবাব হুগলি পৌঁছালে ইংরেজরা কলকাতায় প্রস্থান করেন। ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩ ফেব্রুয়ারি নবাব কলকাতার শহরতলীতে আমীর চাঁদের বাগানে শিবির স্থাপন করেন। ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ রাতে ক্লাইভ ও ওয়াটসন অকস্মাৎ নবাবের শিবির আক্রমণ করেন। অতর্কিত আক্রমণের ফলে নবাবের পক্ষের প্রায় ১৩০০ লোক নিহত হয়। কিন্তু সকালে নবাবের সৈন্য সুসজ্জিত হয়ে পাল্টা আক্রমণ করলে ক্লাইভ প্রস্থান করেন। কলকাতা জয় করার মতো নবাবের যথেষ্ট সৈন্যসংখ্যা ছিল। কিন্তু তারপরও নবাব ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়ে যুদ্ধ না করে ইংরেজদের সাথে আলীনগরের সন্ধি স্থাপন করেন।

৯. ইংরেজ কর্তৃক ফরাসিদের পরাজয় : আলীনগরের সন্ধি ইংরেজদের প্রভাব প্রতিপত্তিকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছিল। সেই সুযোগে ইংরেজরা তাদের অপর শত্রু ফরাসিদের পরাজিত করতে বদ্ধপরিকর হয়। ফরাসিদের সাথে যাতে সিরাজের ঐক্য স্থাপিত হতে না পারে ক্লাইভ প্রথমে সেই ব্যবস্থাই করতে চাইলেন। ইতোমধ্যে ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরে নবাবের আপত্তি সত্ত্বেও ক্লাইভ ফরাসি ঘাঁটি ও বাণিজ্য কেন্দ্র চন্দননগর অধিকার করে নেন। আফগান আহমদ শাহ আবদালিও এসময় দিল্লি অধিকার করে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল লুণ্ঠন করেছিলেন। পূর্ব ভারতের দিকে আবদালির অগ্রসর হওয়ার সংবাদ প্রচারিত হলে সিরাজ অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সুতরাং তিনি ইংরেজদের অসন্তুষ্ট করতে সাহসী হলেন না। ফলে বাংলাদেশে ইংরেজদের হাতে ফরাসিদের সম্পূর্ণ পরাজয় ঘটল।

১০. নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র : এই অবস্থায় মুর্শিদাবাদে সিরাজের বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্র ঘনীভূত হয়ে উঠেছিল। সিরাজের প্রতি অসন্তুষ্ট বাংলার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি জগৎশেঠ, মীরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ প্রমুখ সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করে তদ্স্থলে মীরজাফরকে অধিষ্ঠিত করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা তৃতীয় পক্ষের সহায়তা লাভের জন্য ক্লাইভের নিকট এই ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ করলে কলকাতার সিলেক্ট কমিটি ও ক্লাইভ ষড়যন্ত্রকারীগণকে সাহায্য করতে সম্মত হয়। ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে ইংরেজ ও ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে একটি সন্ধিপত্র রচিত হয়, যা পলাশির যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্বে উপনীত হবার মঞ্চ তৈরি করে।

১১. পলাশির যুদ্ধ : বিশ্বাসঘাতকতা, জালিয়াতি, স্বার্থপরতা ও দেশদ্রোহিতার এক অতি নীচ ও জঘন্য ষড়যন্ত্রের সাহায্যে বাংলার নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে মসনদচ্যুত করার চেষ্টা চলতে থাকে। ষড়যন্ত্রকারীগণ যখন সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত তখন রবার্ট ক্লাইভ অতিসামান্য অজুহাতে সিরাজের বিরুদ্ধে সসৈন্যে অগ্রসর হন। নবাবও ষড়যন্ত্রের কথা জ্ঞাত হয়ে পূর্বেই প্রস্তুত ছিলেন। সুতরাং তিনিও সসৈন্যে ইংরেজদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলেন। এভাবে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন প্রাতঃকালে ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির প্রান্তরে উভয় পক্ষের যুদ্ধ শুরু হয়, যা সে স্থানের নামানুসারে পলাশির যুদ্ধ নামে পরিচিত।

উপসংহার : আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, এক ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে যে সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার মসনদে আরোহণ করেছিলেন অনুরূপ আরেকটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত পলাশির যুদ্ধের মধ্যদিয়ে তার শাসনের অবসান ঘটে। সিংহাসনে বসার শুরু থেকেই ইংরেজ কোম্পানির সাথে নবাবের বিভিন্ন কারণে মনোমালিন্য ও প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব উপস্থিত হয়। সেইসব দ্বন্দ্ব ক্রমে দানা বেঁধে পরবর্তীকালে বিরাট সমস্যায় পরিণত হয়। এর মধ্যে ইংরেজদের ঔদ্ধত্য চরম পর্যায়ে উপনীত হয়। তারা নবাবের যেকোনো আদেশ অমান্য করতে শুরু করে। আর তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে থাকে নবাবের রাজ কর্মচারীগণ। এরূপ অবস্থায় যুদ্ধের ডামাডোল বাজতে বেশি সময় দরকার হয়নি। অচিরেই যুদ্ধের পটভূমিকা রচনা সম্পন্ন হলে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশির যুদ্ধ শুরু হয় এবং বাংলার নবাবের পরাজয় সম্পন্ন হয়।


অনার্স ১ম বর্ষ বাংলাদেশের ইতিহাস ভাষা সংস্কৃতি ও পরিচয় অধ্যায় ০২: ঔপনিবেশিক যুগ (আঠারো ও উনিশ শতক) গাইড PDF

📥 PDF ডাউনলোড করুন

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
Join