অনার্স ১ম বর্ষ আইসিটি ইউনিট-০৭ যোগাযোগ এবং তথ্য অ্যাক্সেসের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা গাইড PDF

Ahsan

 অনার্স ১ম বর্ষের সকল বিভাগের "তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি "(ICT) কোর্সের ইউনিট-০৭ যোগাযোগ এবং তথ্য অ্যাক্সেসের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা গাইড পিডিএফ PDF

ইউনিট-০৭ যোগাযোগ এবং তথ্য অ্যাক্সেসের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা [Using the Internet to Communicate and Accessing Information]

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের সকল বিভাগের "তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি " (ICT) কোর্সের ইউনিট-০৭ যোগাযোগ এবং তথ্য অ্যাক্সেসের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা [Using the Internet to Communicate and Accessing Information] গাইড পিডিএফ PDF অত্যন্ত আধুনিক এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতিকে শতভাগ পূর্ণতা দিতে এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সব রচনামূলক প্রশ্ন পিডিএফ। পোস্টের একদম নিচের অংশ থেকে পিডিএফ (PDF) ফাইলটি সংগ্রহ করে নিন।

প্রশ্ন ॥৭.০১৷৷ ইন্টারনেট এর ধারণা দাও।

উত্তর : ভূমিকা : ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। এটি মূলত অসংখ্য নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত একটি ‘নেটওয়ার্ক অব নেটওয়ার্কস’। এর উৎপত্তি খুঁজে পাওয়া যায় ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত ARPANET (Advanced Research Projects Agency Network)-এ। সেই সময় শীতল যুদ্ধকালীন সামরিক যোগাযোগ নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল।

❑ ইন্টারনেট : পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত গুচ্ছ নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা হচ্ছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত কম্পিউটারের সাথে ভিন্ন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত কম্পিউটারের যোগাযোগের ব্যবস্থাকে ইন্টারনেট ওয়ার্কিং বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেকগুলো নেটওয়ার্ককে সমন্বিত করেছে ইন্টারনেট, যা বর্তমান বিশ্বের গতিময়তার মাইলফলক ও তথ্যের এক বিশাল ভান্ডার World Wide Web এর ধারক। যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও এটি একটি অন্যতম মাধ্যম।

❑ প্রামাণ্য সংজ্ঞা : Vinton Cerf (ভিন্টন সার্ফ)-এর মতে, “ইন্টারনেট হলো নেটওয়ার্কের সমষ্টি, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বা প্রোটোকল ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো কম্পিউটার একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।”

Oxford Dictionary of Computing অনুযায়ী- “ইন্টারনেট হলো একটি বৈশ্বিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, যা মানসম্মত যোগাযোগ প্রোটোকলের মাধ্যমে বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে তথ্য ও যোগাযোগ সুবিধা প্রদান করে।”

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ইন্টারনেট হলো আধুনিক সভ্যতার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি একদিকে যেমন বিশ্বকে জ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন দুয়ার উন্মুক্ত করেছে, অন্যদিকে মানুষের জীবনযাত্রাকে করেছে দ্রুততর, সহজতর এবং বৈশ্বিক। এর আবির্ভাব ও ক্রমবিকাশ মানবজাতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় রচনা করেছে, যা আগামী দিনগুলোতেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে।

প্রশ্ন ॥৭.০২৷৷ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাসমূহ আলোচনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : ইন্টারনেট আধুনিক মানবসমাজের যোগাযোগ, জ্ঞানপ্রাপ্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রীয় পরিকাঠামো। এটি সময় ও স্থানের দূরত্ব কমিয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র সকল স্তরে তথ্যপ্রবাহকে গতিশীল করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, প্রশাসন ও বিনোদন প্রতিটি ক্ষেত্রে ইন্টারনেট কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করেছে। ডিজিটাল সেবা ও ক্লাউডভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম কাজকে ধারাবাহিক ও সমন্বিত রাখে। ব্যক্তিগত দক্ষতা বিকাশ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্যও ইন্টারনেট এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র। ফলে নাগরিক অংশগ্রহণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি উভয়ই জোরদার হয়।

❑ ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রধান সুবিধা :

১. আন্তর্জাতিক যোগাযোগ : তাৎক্ষণিক বার্তা, ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্সিং ও সহযোগিতামূলক টুলের মাধ্যমে যে-কোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন সম্ভব। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত হয় এবং সহযোগিতা সহজতর হয়।

২. তথ্যের সহজলভ্যতা : বিশ্বস্ত উৎস, গবেষণামূলক নিবন্ধ, প্রতিবেদন, ডাটাবেস ও মাল্টিমিডিয়ার বিপুল ভাণ্ডার মুহূর্তে পাওয়া যায়। তথ্য অনুসন্ধান ও যাচাই সহজ হওয়ায় জ্ঞানচর্চা ও সমস্যা সমাধান ত্বরান্বিত হয়।

৩. শিক্ষা ও ই-লার্নিং : অনলাইন কোর্স, ভার্চুয়াল ক্লাসরুম ও ওপেন এডুকেশনাল রিসোর্স স্বশিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষাকে বাস্তবসম্মত করে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়ের জন্য নমনীয় সময়সূচি ও বৈশ্বিক কনটেন্টে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়।

৪. ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবা : অনলাইন মার্কেটপ্লেস, ব্যাংকিং, বিল পরিশোধ ও সরকারি সেবা ঘরে বসেই সম্পন্ন করা যায়। এতে লেনদেনের খরচ কমে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবন বৃদ্ধি পায়।

৫. দূরবর্তী কাজের সুযোগ : ক্লাউড টুল, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে থাকা দলও দক্ষভাবে কাজ করতে পারে। যাতায়াত-সময় ও ব্যয় কমে ব্যক্তিগত উৎপাদনশীলতা বাড়ে।

৬. স্বাস্থ্যতথ্য ও টেলিমেডিসিন : নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যতথ্য, অনলাইন পরামর্শ ও দূরবর্তী রোগী-পর্যবেক্ষণ চিকিৎসাকে অধিক অন্তর্ভুক্তিমূলক করে। জরুরি সময়ে দ্রুত নির্দেশনা ও ফলো-আপ পাওয়া যায়।

৭. সামাজিক সংযোগ ও নেটওয়ার্কিং : পরিবার, বন্ধু ও পেশাগত নেটওয়ার্কের সঙ্গে ধারাবাহিক সংযোগ রক্ষা করা সহজ হয়। অভিন্ন আগ্রহের সম্প্রদায় তৈরি হয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় ঘটে।

৮. সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সহযোগিতা : ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির কনটেন্টে প্রবেশাধিকার আন্তঃসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া বাড়ায়। সৃজনশীল প্রকল্পে সীমান্ত-পার সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হয়।

৯. দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান : অনলাইন প্রশিক্ষণ, কোডিং/ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম ও পেশাগত সার্টিফিকেশন দক্ষতার পরিসর বিস্তৃত করে। এর ফলে নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং ক্যারিয়ার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

১০. ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও উদ্ভাবন : গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সেবা, বাজার ও জ্ঞানে সহজে যুক্ত হতে পারে। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ওপেন-সোর্স ও ডাটা-চালিত সমাধান নতুন উদ্ভাবনের পথ খুলে দেয়।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ইন্টারনেটের সুবিধাসমূহ ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র সব স্তরে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়ায়। যোগাযোগের বাধা কমে গিয়ে জ্ঞান, সেবা ও সুযোগ সমানভাবে বিতরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পেয়ে মানবসম্পদের মানোন্নয়ন ঘটে। বাণিজ্যিক লেনদেনের খরচ কমে উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে সৃজনশীল উদ্যোগ, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের গতি ত্বরান্বিত হয়। সমগ্র বিবেচনায়, ইন্টারনেট টেকসই উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের এক অবিচ্ছেদ্য ভিত্তি।

প্রশ্ন ॥৭.০৩৷৷ ইন্ট্রানেট কী?

উত্তর : ভূমিকা : বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের দ্রুত প্রবাহ ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অপরিহার্য। ইন্ট্রানেট একটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত নেটওয়ার্ক, যা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করে। এটি কম্পিউটার ব্যবহারকারী, ডিপার্টমেন্ট এবং সার্ভিসগুলোকে সংযুক্ত রেখে তথ্য ভাগাভাগি ও যোগাযোগকে সহজ করে।

❑ ইন্ট্রানেট : ইন্ট্রানেট হলো একটি বেসরকারি নেটওয়ার্ক, যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত। এটি ইন্টারনেটের মতোই TCP/IP প্রোটোকল ব্যবহার করে কাজ করে, তবে সংরক্ষিত পরিবেশে সীমিত থাকে। ইন্ট্রানেট সাধারণত সংস্থার ডোমেইন বা LAN (Local Area Network) ভিত্তিক থাকে। এটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণে সক্ষম।

❑ প্রামাণ্য সংজ্ঞা :

Interact Software-অনুযায়ী, "ইন্ট্রানেট একটি বেসরকারি অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক যা একটি সংস্থার কর্মচারীদের যোগাযোগ, সহযোগিতা, তথ্য অ্যাক্সেস এবং কাজ সম্পর্কিত কাজগুলো সম্পাদন করতে সহায়তা করে।"

Thought Farmer-এর মতে, "ইন্ট্রানেট একটি বেসরকারি, সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক যা শুধুমাত্র একটি সংস্থার অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা অ্যাক্সেস করতে পারে এবং এটি কাজের প্রবাহকে সহজতর করতে, সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে এবং তথ্য কেন্দ্রীভূত করতে সহায়তা করে।"

According to Wikipedia অনুযায়ী, একটি সংস্থার মধ্যে নিরাপদ তথ্য ভাগাভাগি ও সহযোগিতার জন্য একটি ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ইন্ট্রানেট হলো সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বেসরকারি, নিরাপদ ও সীমিত নেটওয়ার্ক। এটি তথ্য ভাগাভাগি, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও দলীয় সহযোগিতা সহজ করে। ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণে সহায়ক। আধুনিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইন্ট্রানেট কার্যকর প্রশাসন ও কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।


অনার্স ১ম বর্ষ আইসিটি (ICT) গাইড PDF | ইউনিট-০৭ যোগাযোগ এবং তথ্য অ্যাক্সেসের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা এর সম্পূর্ণ গাইড PDF

📥 PDF ডাউনলোড করুন

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
Join