অনার্স ১ম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ব্যবস্থাপনার নীতিমালার অধ্যায়-৫: সিদ্ধান্ত গ্রহণ [Decision Making] গাইড PDF
.webp)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগ (Management Department)-এর শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে "ব্যবস্থাপনার নীতিমালা" বিষয়ের একটি অপরিহার্য অধ্যায় হলো অধ্যায়-৫: সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
একজন সফল ব্যবস্থাপক হতে হলে সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা থাকা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও সহজ করতে এই অধ্যায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড পিডিএফ (PDF) লিংক নিচে দেওয়া হলো।
অধ্যায়-৫: সিদ্ধান্ত গ্রহণ [Decision Making]
সাধারণভাবে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য অনেকগুলো বিকল্প পথ থেকে সবচেয়ে কার্যকর পথটি বেছে নেওয়াই হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এই অধ্যায়টি পাঠ করলে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে—কীভাবে সঠিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং এর প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সকল রচনামূলক প্রশ্ন এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিগত বছরের প্রশ্নসমূহ এই গাইডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পোস্টের শেষ অংশ থেকে আপনার প্রয়োজনীয় পিডিএফ (PDF) ফাইলটি সংগ্রহ করে নিন।
প্রশ্ন ॥ ৫.০১ ॥ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংজ্ঞা দাও। অথবা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কী?
উত্তর :
ভূমিকা : সিদ্ধান্ত গ্রহণ হলো ব্যবস্থাপকীয় বা সাংগঠনিক কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য অথবা কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করা। আর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যবস্থাপনার অন্যান্য মৌলিক কার্য বা প্রক্রিয়াসমূহ আবর্তিত হয়। সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিকল্প কর্মপন্থা থেকে সর্বোত্তম নির্ধারণ করার প্রক্রিয়াকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্কে নিম্নে ব্যবস্থাপনা विशेषज्ञोंর অভিমত তুলে ধরা হলো :
- Bartol and Martin-এর ভাষায়, "সিদ্ধান্ত গ্রহণ হলো, এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা ব্যবস্থাপকগণ সাংগঠনিক সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা চালান।"
- Professor R.W. Griffin বলেন, "কতকগুলো বিকল্প থেকে একটি বিকল্প নির্বাচনের কার্য প্রক্রিয়াকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে।"
- Weihrich and Koontz-এর ভাষায়, "বিকল্পসমূহের মধ্য থেকে একটি কার্যপদ্ধতি নির্বাচনকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে।"
- M.J. Stahl-এর মতে, "সিদ্ধান্ত গ্রহণ হচ্ছে, এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো সমস্যা সমাধানকল্পে বা কোনো সুযোগ খুঁজে বের করার জন্য বিকল্পসমূহ চিহ্নিত করা হয় এবং সেগুলো হতে যেকোনো একটি বিকল্পকে বাছাই করা হয়।"
- Pearce and Robinson বলেন, "দুই বা ততোধিক বিকল্প থেকে একটি কার্যধারা নির্বাচন করার প্রক্রিয়া হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ। একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিভাবে আচরণ করতে হবে কিংবা চিন্তা করতে হবে তার সচেতন নির্বাচনই সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য।"
উপসংহার : উপর্যুক্ত সংজ্ঞাগুলো হতে আমরা বলতে পারি যে, ব্যবসায় ও শিল্প সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যপরিচালনার জন্য ও সাংগঠনিক সমস্যা সমাধান ও সম্ভাবনার কার্যকর ব্যবহার প্রয়োজন, কর্মব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিকল্প কার্যধারাসমূহ চিহ্নিতকরণ, সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সর্বোৎকৃষ্ট বিকল্প পন্থা নির্বাচন এবং সর্বোপরি গৃহীত কার্যক্রমের ফলপ্রসূ বাস্তবায়নে করণীয় কার্য নির্ধারণের কাজকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে।
প্রশ্ন ॥ ৫.০২ ॥ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার পদক্ষেপগুলো আলোচনা কর। [জা.বি. ২০১৫, ২০১৮, ২০২০ (ব্যবস্থাপনা)] অথবা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদক্ষেপসমূহ বর্ণনা কর।
উত্তর :
ভূমিকা : সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাপনার মুখ্য কাজ। কার্যপরিবেশের ক্রমবর্ধমান জটিলতা, গতিশীলতা ও পরিবর্তনশীলতার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাফল্যের ওপরই ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক সাফল্য নির্ভর করে। এ কারণেই সিদ্ধান্ত গ্রহণকে একটি যৌক্তিক মডেল হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়ে। কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই সাথে একটি জটিল প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াটিতে কতকগুলো ধারাবাহিক পদক্ষেপ জড়িত। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উল্লিখিত ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো নিম্নে উপস্থাপন করা যায় :
১. সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও শ্রেণিবিন্যাসকরণ; ২. সমস্যার সংজ্ঞায়নের; ৩. অগ্রাধিকার নির্ধারণ; ৪. আদর্শমান নির্ধারণ; ৫. তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ; ৬. বিকল্পসমূহ উদ্ভাবন; ৭. আদর্শমানের আলোকে বিকল্পসমূহের মূল্যায়ন; ৮. কাম্য বিকল্প নির্বাচন; ৯. সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও ১০. সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ ও ফলাবর্তন প্রাপ্তি;
১. সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও শ্রেণিবিন্যাসকরণ : প্রতিষ্ঠান সমস্যা সমাধানের সৃষ্টির জন্যই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাই প্রথমেই প্রতিষ্ঠানের সমস্যা চিহ্নিত করতে হয়। সমস্যাদির প্রকৃতি অনুযায়ী সেগুলোকে সকলের শ্রেণিভুক্ত করতে হয়। সমস্যাগুলোকে পৌনঃপুনিক, নৈমিত্তিক এবং একক ও অনৈমিত্তিক- এই তিন ভাগে বিভক্ত করতে হয়।
২. সমস্যার সংজ্ঞায়ন : সমস্যার শ্রেণিবিন্যাসের পর সমস্যাকে সুস্পষ্টরূপে প্রকাশের অর্থই সমস্যার সংজ্ঞায়ন। অর্থাৎ সমস্যার প্রকৃতির কারণ ও ফলাফল সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করতে হয়। সমস্যার সংজ্ঞায়নের ফলে সমস্যার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায় এবং কোন সমস্যাটি সমাধানের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন তা জানা যায়।
৩. অগ্রাধিকার নির্ধারণ : সমস্যার শ্রেণিবিন্যাস ও সংজ্ঞায়নের পর ব্যবস্থাপকগণ সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজান। ব্যবস্থাপকগণ একসঙ্গে অনেকগুলো সমস্যার সম্মুখীন হলে কোনো এক বা একাধিক সমস্যা সর্বাগ্রে সমাধান করা দরকার তা নির্ধারণ করেন।
৪. সফল সমাধানের মাপকাঠি বা আদর্শমান নির্ধারণ : কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবস্থাপক কি অর্জন করতে চাচ্ছেন বা কিরূপ ফলাফল প্রত্যাশা করছেন তা নির্দিষ্ট করতে হয়। কার্ল আর. এন্ডারসন-এর মতে, মাপকাঠির সুস্পষ্টকরণের উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শমান নির্দিষ্ট করা যার সঙ্গে বিকল্পগুলোকে তুলনা করা যাবে।
৫. তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ : প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও উপাত্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অত্যাবশ্যক। কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত সকল তথ্য সম্পর্কে সম্যকভাবে অবগত করতে হয়। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্ধারিত সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা আবশ্যক।
৬. বিকল্পসমূহ উদ্ভাবন : এ পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের মাপকাঠি বা আদর্শমান নির্ধারণ করার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে সমস্যা সমাধানের কতিপয় বিকল্প উপায় উদ্ভাবন করতে হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ সৃজনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সম্ভাব্য সমস্যা সমাধানের পন্থাগুলো চিহ্নিত করেন। ব্যবস্থাপকগণকে এক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় অধিকতর সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে হয়।
৭. বিকল্পসমূহের মূল্যায়ন : সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অনেকগুলো সম্ভাব্য সমাধানের পন্থা চিহ্নিত করার পর প্রত্যেকটি বিকল্প পন্থাকে পূর্ব নির্ধারিত আদর্শমান বা মাপকাঠির আলোকে মূল্যায়ন করতে হয়। বিকল্পসমূহ মূল্যায়নের কতকগুলো কৌশল প্রয়োগ করা হয়। সিদ্ধান্ত বৃক্ষ, পে-অফ মেট্রিক্স, মূলধন বাজেটিকরণ ইত্যাদি অনেকগুলো সংখ্যাত্মক কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে বিকল্প কর্মপন্থাগুলোর মূল্যায়ন করা যায়।
৮. কাম্য বিকল্প নির্বাচন : মূল্যায়নকৃত বিকল্প কার্যধারা থেকে সর্বোত্তম বিকল্পটি গ্রহণই মূলত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রকৃত কাজ। এ পর্যায়ে সিদ্ধান্তকারী একটি বিকল্প পন্থা নির্বাচন করেন এবং অপরাপর সবুলো বর্জন করেন। অনেক সময় মূল্যায়নের পর কোনো বিকল্পই নির্ধারিত মানদণ্ডে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য না হলে পুনরায় মূল্যায়নের প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজনে একাধিক বিকল্পকে সমন্বিত করে একটি সন্তোষজনক কার্যধারা গ্রহণ করা হয়।
৯. সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন : সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করাও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর কাজ। বস্তুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় দায়িত্ব ও কার্যভার অর্পণ ও কার্যের মধ্যে সমন্বয়সাধনের প্রয়োজন পড়ে। বাস্তবায়নের পথে সম্ভাব্য সকল প্রতিবন্ধকতা এবং দ্বন্দ্ব পূর্ব থেকেই চিহ্নিত করতে হয় এবং সে সবের মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়।
১০. সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ ও ফলাবর্তন প্রাপ্তি : সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার শেষ ধাপটি হলো সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা এবং বাস্তবায়ন কাজে কোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি হচ্ছে কি না তা দেখে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া। মনিটরিং বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে সমস্যা উদ্ভবের পূর্বেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, উপর্যুক্ত ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে পালিত হলে যেকোনো ব্যবস্থাপকীয় সমস্যা অত্যন্ত সার্থকতার সঙ্গে সমাধান করা সম্ভব। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এ ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো অনুসরণকালে একজন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে নিজস্ব প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োগ করে বাস্তবায়নযোগ্য কার্যধারা গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন ॥ ৫.০৩ ॥ সিদ্ধান্তের শ্রেণিবিভাগ ও দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা কর।
উত্তর : ব্যবস্থাপকদের গৃহীত পদক্ষেপ এবং প্রকৃতি, লক্ষ্য, উৎস ও পদ্ধতিগত দিক থেকে সিদ্ধান্তের শ্রেণিবিভাগের নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করা যেতে পারে-
১. নিয়মিত এবং অনিয়মিত সিদ্ধান্ত : Prof. R. W. Griffin বলেন, "সুস্পষ্ট কাঠামোগত অথবা নিয়মিতভাবে সংঘটিত হয় এরূপ সিদ্ধান্তকে নিয়মিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে।" নিয়মিত ঘটনাবলি বা কার্যাবলির ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে নিয়মিত বা গতানুগতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে। এসব সিদ্ধান্তকে রুটিন বা পুনরাবৃত্তিমূলক সিদ্ধান্তও বলা হয়। যেমন- কর্মীদের বেতন বা ছুটি প্রদান, অথবা কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। অন্যদিকে, যেসব সিদ্ধান্ত অনেকটা অভিনব বা জটিল ও এককালীন বা যা পূর্বে সংঘটিত হয়নি এরূপ অনিয়মিত ঘটনা বা সমস্যা সমাধানের জন্য যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে অনিয়মিত বা অ-গতানুগতিক সিদ্ধান্ত বলা হয়। Prof. R. W. Griffin-এর ভাষায়, "নিয়মিত সিদ্ধান্তের চাইতে অপেক্ষাকৃত কম সংঘটিত এবং তুলনামূলকভাবে অকাঠামোগত সিদ্ধান্তসমূহকে অনিয়মিত সিদ্ধান্ত বলে।" এরূপ সিদ্ধান্ত কদাচিৎ বা মাঝে-মধ্যে সংঘটিত হতে পারে। যেমন-প্রতিষ্ঠানে একটি নতুন পণ্য উৎপাদন বিষয়ে সিদ্ধান্ত অথবা কলেজে নতুন ক্লাসরুম নির্মাণ ইত্যাদি।
২. নীতিবিষয়ক ও কার্যগত সিদ্ধান্ত : প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতির ভিত্তিতে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাদেরকে নীতি বিষয়ক সিদ্ধান্ত বলে। সাধারণত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ; যেমন- পরিচালক পর্ষদ, সাধারণ ব্যবস্থাপক ও বিভাগীয় ব্যবস্থাপক নীতিবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। অপরদিকে, নীতিবিষয়ক সিদ্ধান্তসমূহকে কার্যে পরিণত করার সিদ্ধান্তকে কার্যগত সিদ্ধান্ত বলে। এরূপ সিদ্ধান্ত ব্যবস্থাপনার নিম্নস্তরের নির্বাহী কর্তৃক গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত নিম্নস্তরের কর্মকর্তা কর্তৃক বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
৩. প্রধান সিদ্ধান্ত এবং অপ্রধান সিদ্ধান্ত : প্রতিষ্ঠানের মৌলিক বিষয়াদির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রধান সিদ্ধান্ত বলে। যেমন- জমি ক্রয়, দালানকোঠা নির্মাণ ইত্যাদি সংক্রান্ত বৃহৎ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত। ছোটো-খাটো বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে অপ্রধান সিদ্ধান্ত বলে; যেমন- প্রতিষ্ঠানের মনিহারি সামগ্রী ও অন্যান্য দ্রব্যাদি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত।
৪. একক সিদ্ধান্ত ও দলগত সিদ্ধান্ত : ব্যবস্থাপক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন একাকী অর্থাৎ কারও সাথে আলাপ-আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন তা একক সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হয়। যেমন- নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। সাধারণত ছোটো ধরনের সংগঠনে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যখন কতিপয় ব্যক্তিবর্গ আলাপ-আলোচনা করে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন তাকে দলগত বা যৌথ সিদ্ধান্ত বলে।
৫. কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত ও বিকেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত : প্রতিষ্ঠানের উচ্চতর স্তরের নির্বাহীগণ যখন সকল প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সীমাবদ্ধ থাকলে তখন তাকে কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত বলে। আবার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যখন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তরে বিভাগীয় প্রধান বা অধস্তন নির্বাহীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় তখন তাকে বিকেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত বলে।
৬. রুটিন বা নৈমিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত : একই প্রকৃতির নৈমিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে মধ্য ও নিম্নস্তরের কর্মকর্তা কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তকে রুটিন বা নৈমিত্তিক সিদ্ধান্ত বলে। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ ও পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে কৌশলগত বা স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্ত বলে।
৭. পরামর্শমূলক সিদ্ধান্ত ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত : অধস্তন কর্মীদের আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শ করে যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে পরামর্শমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বলে। যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তখন তাকে অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত বলে।
৮. মৌলিক সিদ্ধান্ত, আরোপিত সিদ্ধান্ত ও উদ্ভূত সিদ্ধান্ত : কর্মকর্তা যখন নিজস্ব উদ্যোগে সিদ্ধান্ত নেন তখন তাকে মৌলিক সিদ্ধান্ত বলে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রদত্ত সিদ্ধান্তকে হুবহু ব্যবহার করা হলে তাকে আরোপিত সিদ্ধান্ত এবং নিম্নস্তরের কর্মীদের আবেদন নিবেদনের প্রেক্ষিতে গৃহীত সিদ্ধান্তকে উদ্ভূত সিদ্ধান্ত বলে।
৯. সৃজনশীল সিদ্ধান্ত : কোনো বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ চিন্তাচেন্তনা বা স্বকীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে প্রয়োগ করে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে সৃজনশীল সিদ্ধান্ত বলে। সৃজনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধাপসমূহ হচ্ছে : (ক) সমস্যার সম্পৃক্তকরণ; (খ) অনুসন্ধান ও বিবেচনা বা চিহ্নিত পর্যায়; (গ) অবচেতন বা মতলব আঁটার পর্যায়; (ঘ) আলোকিককরণের পর্যায় ও (ঙ) সংশোধন ও যাচাইকরণ।
