অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অধ্যায়-৮: প্রেষণা গাইড PDF

Ahsan

অনার্স ১ম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ)  ব্যবস্থাপনার নীতিমালার  অধ্যায়-৮: প্রেষণা [Motivation] গাইড PDF

অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অধ্যায়-৮: প্রেষণা গাইড PDF

অনার্স ১ম বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগ (Management Department)-এর শিক্ষার্থীদের জন্য "ব্যবস্থাপনার নীতিমালা" বিষয়ের অত্যন্ত ফলপ্রসূ একটি অধ্যায় হলো অধ্যায়-৮: প্রেষণা

প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে কর্মীদের কাজের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ তৈরি করার মূল চাবিকাঠি হলো প্রেষণা। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে এই অধ্যায়ের একটি সমৃদ্ধ নির্দেশিকা ও পিডিএফ (PDF) লিংক নিচে তুলে ধরা হলো।

অধ্যায়-৮: প্রেষণা [Motivation]

সহজ কথায়, কর্মীদের মানসিক উৎসাহ প্রদান করে প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত করার নামই প্রেষণা। এই অধ্যায়টি অধ্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে—কীভাবে একজন ব্যবস্থাপক কর্মীদের অভাব ও চাহিদাগুলো চিহ্নিত করে তাদের সেরাটা আদায় করে নিতে পারেন। বিশেষ করে মাসলোর চাহিদাসোপান তত্ত্ব এবং হার্জবার্গের দ্বি-উপাদান তত্ত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

পরীক্ষায় প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এবং বিগত বছরের সকল প্রশ্নের সমাধান আমাদের গাইডে যুক্ত করা হয়েছে। পোস্টের একদম শেষে দেওয়া পিডিএফ (PDF) লিংক থেকে আপনার প্রয়োজনীয় কপিটি ডাউনলোড করে নিন।

প্রশ্ন ॥৮.০১॥ প্রেষণা বলতে কী বুঝ? অথবা, প্রেষণার সংজ্ঞা দাও। [জা.বি. ২০২০ (ব্যবস্থাপনা)] অথবা, প্রেষণা কাকে বলে?

উত্তর : ভূমিকা : সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পিছনে যে জৈব-মানসিক শক্তি কাজ করে তা হলো প্রেষণা। এটা প্রাণীর বিশেষ মনোদেহিক অবস্থা। মানুষের আচরণকে বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে হলে প্রেষণার জ্ঞান অপরিহার্য। আচরণের অন্যতম প্রধান নির্ধারক হলো প্রেষণা।

❑ প্রেষণার সংজ্ঞা : উদ্দেশ্য বা 'Motive' শব্দটি থেকে প্রেষণা বা 'motivation' কথাটি এসেছে। সাধারণত উদ্দেশ্যের দ্বারা প্রণোদিত হলে যে গভীর অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে প্রেষণা বলে। অর্থাৎ শাব্দিক অর্থে প্রেষণা হলো যা প্রাণীকে চালিত করে বা কর্মে লিপ্ত করে। এর ফলেই মানুষের কর্মস্পৃহা পরিলক্ষিত হয়। প্রাণীর মধ্যে যখন কোনো উদ্দেশ্যকে লাভ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছার উদয় হয় তখন থেকে শুরু হয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত না উক্ত অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এ জাতীয় অবস্থা বা প্রেষণা চলতে থাকে।

মনোবিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রেষণাকে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো :

জন এল. ভোগেল বলেন, "প্রেষণা বলতে সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায় যা আমাদের আচরণের সূত্রপাত ঘটায়, বজায় রাখে এবং পরিচালনা করে।"

জন সি. রাচ (১৯৮৪) বলেন, "প্রেষণা বলতে সেই কারণসমূহকে বুঝায় যার ফলে আচরণের উদ্ভব ঘটে, অথবা সুনির্দিষ্টভাবে সে সকল শক্তি বা প্রক্রিয়াকে বুঝায় যা আচরণের সূত্রপাত ঘটায়। একে চালিত করে এবং এর আচরণকে শক্তিশালী করে।"

ক্রাইডার, গোথালস, কেভানহ এবং সলোমন (১৯৯৩) বলেন, "আকাঙ্ক্ষা, প্রয়োজন এবং আগ্রহ যা একটি প্রাণীকে কর্মে উদ্বুদ্ধ বা সক্রিয় করে তোলে এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে পরিচালিত করে তাকে প্রেষণা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়।"

সুইফটস বলেন, "ব্যক্তির বিভিন্ন ধরনের চাহিদা পরিতৃপ্তির জন্য যে পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া তার আচরণ ধারাকে সতত নিয়ন্ত্রণ করে, তাই হলো প্রেষণা।"

উডওয়ার্থ এর মতে, "প্রেষণা ব্যক্তির এমন অবস্থা বা গতি, যা তাকে কোনো আচরণের জন্য অথবা কোনো অভীষ্ট লক্ষ্যে প্রবৃত্ত করে।"

উইলিয়াম বাসকিফ্ট এবং ডেভিড ডব্লিউ এর মতে, "প্রেষণাকে আচরণের কারণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, এটি আচরণের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত— ১. একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে আচরণের সূত্রপাত; ২. আচরণের তীব্রতা ও শক্তি এবং ৩. আচরণের নিবৃত্তি।

সুতরাং, প্রেষণা হলো ব্যক্তির এক ধরনের অস্বস্তিকর আকাঙ্ক্ষা যা প্রাণীদের অভ্যন্তরীণ অভাববোধ থেকে সৃষ্টি হয়। প্রাণীকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তাড়িত করে এবং বাহ্যিকভাবে লক্ষ্যবস্তু লাভের মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে।

উপসংহার : প্রেষণা একটি চলমান প্রক্রিয়া, মানুষের বিভিন্ন কর্মে সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করে প্রেষণার চাহিদা পূরণ হওয়া ও না হওয়ার উপর। মানুষের আচরণ বুঝতে প্রেষণার ভূমিকা যথেষ্ট হলেও মনোবিজ্ঞানে প্রেষণা আলোচিত বিষয়। মানুষ ও প্রাণীর আচরণ বুঝতে হলেও আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গেলে প্রেষণা জ্ঞান অপরিহার্য। প্রেষণা মানুষকে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করে পরিচালিত করে থাকে। প্রেষণা মানুষকে সামনে এগিয়ে নেয়ার ও কর্মচঞ্চল করে তোলার জন্য ইন্ধন যোগায়।

প্রশ্ন ॥৮.০২॥ প্রেষণার বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর। অথবা, প্রেষণার গুণাবলি আলোচনা কর।

উত্তর : প্রেষণা হলো অধস্তনদেরকে প্রত্যাশিত আচরণ করতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার একটি প্রক্রিয়া। যার ফলশ্রুতিতে কর্মীরা তাদের সাধ্যমতো কাজ করে যা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। ব্যবস্থাপনার অন্যান্য কাজের মতো প্রেষণা কার্যেরও কতকগুলো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো :

১. মানুষ হলো মূল কেন্দ্রবিন্দু : প্রেষণা কর্মের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল পর্যায়ের মানব শক্তি। অন্যান্য ব্যবস্থাপকীয় কাজে এর সফল উপায়-উপকরণ কম-বেশি বিবেচ্য হলেও এক্ষেত্রে জনশক্তিকে কিভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে কাজ আদায় করা সম্ভব তাই বিবেচ্য হয়ে থাকে।

২. মনের ওপর প্রভাব : প্রেষণা কর্মের প্রভাব মনের ওপর। এটি মানব মনের অভ্যন্তরে ক্রিয়া করে বা প্রভাব বিস্তার করে। তাই বলা হয় 'Motivation is an internal force.' —কর্মীর মনের মাঝে কিভাবে প্রতিষ্ঠান ও কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা যায় তাই এক্ষেত্রে বিচার্য।

৩. আচরণের মাধ্যমে ফল প্রকাশ : প্রেষণা মানব মনের ওপর যে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে তার ফল কর্মীর আচরণের দ্বারা প্রকাশিত হয়। তাই প্রেষণার উদ্দেশ্যই হলো কর্মীর নিকট থেকে কাঙ্ক্ষিত আচরণ লাভ করা।

৪. অবিরাম প্রক্রিয়া : প্রেষণা একটি অবিরাম প্রক্রিয়া। মানব মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ লাভ কর্মক্ষেত্রে কোনো বিশেষ মুহূর্তের প্রত্যাশা নয় বরং প্রতিষ্ঠান সবসময়ই তা প্রত্যাশা করে। আর উৎসাহ সৃষ্টির প্রয়াস বন্ধ হলে তা এক পর্যায়ে নিরুৎসাহের কারণ হয়। তাই ব্যবস্থাপনার পক্ষে এটি একটি সার্বক্ষণিক প্রক্রিয়া বা কর্মসূচীষ্টো হিসেবে গণ্য।

৫. মানুষের অভাব প্রেষণার ভিত্তি : মানুষের অভাব বা চাহিদার ফলে তার মাঝে যে তাড়নার সৃষ্টি হয় প্রেষণা সেই তাড়নাকে পূরণ করে কাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে। তাই মানুষের অভাববোধকে বুঝেই সে অনুযায়ী প্রেষণা দান করা হয়ে থাকে। সে কারণেই Maslow বলেছেন, “চাহিদা, অভাব বা আকাঙ্ক্ষা থেকেই মানব মনে প্রেষণার সৃষ্টি হয়।”

৬. মানসিক অবস্থার ভিন্নতার প্রভাব : মানব মন এতটাই বিচিত্র যে একে থেকে অন্যের কিছু না কিছু ভিন্নতা থাকে। প্রত্যাশা, ধারণা, উপলব্ধি সবার সমান হয় না। তাই অভাব বা চাহিদাকে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করে তদানুযায়ী প্রেষণা দান বা উদ্দীপনা নির্ণয়ে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত জনশক্তির পদমর্যাদাগত ভিন্নতার কারণেও প্রেষণা দান জটিল হয়ে পড়ে।

৭. মনোবল উন্নয়নের প্রধান অবলম্বন : মানুষের মনোবল গঠনে প্রেষণার প্রত্যক্ষ প্রভাব বিদ্যমান। কর্মীদেরকে প্রেষণা দানের মাধ্যমে যদি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করা যায় তবে তা কর্মসন্তুষ্টির সৃষ্টি করে। আর এরূপ কর্মসন্তুষ্টি কর্মীর মনোবল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নত মনোবল কর্মীর মাঝে এমন একটি মানসিক অবস্থার জন্ম দেয় যার ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী সকল কর্মকাণ্ড থেকে সে বিরত থাকে ও প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধি ও নিজের সমৃদ্ধিকে এক করে ভাবে।

৮. আধুনিক ব্যবস্থাপনা দৃষ্টিভঙ্গির অপরিহার্য অঙ্গ : প্রেষণা দানের বিষয়টি আধুনিক ব্যবস্থাপনা দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি অপরিহার্য বিষয় হিসেবে গণ্য। এক্ষেত্রে মনে করা হয় কর্মীদেরকে নির্দেশ দিলেই কাজ হয় না। কারণ মানুষ যন্ত্র নয়। তার নিকট থেকে কাজ আদায়ে তাকে প্রতিষ্ঠানের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার প্রয়োজন পড়ে। এজন্য আর্থিক ও অনার্থিক বিভিন্ন উপায় বা পদ্ধতির ব্যবহার করা যায়।

প্রশ্ন ॥৮.০৩॥ প্রেষণা প্রক্রিয়া বর্ণনা কর। [জা.বি. ২০১৩ (৪র্থ বর্ষ); ২০১৬, ২০১৮, ২০২২ (৩য় বর্ষ); ২০১৫, ২০১৭ (ব্যবস্থাপনা)] অথবা, প্রেষণা চক্র বর্ণনা কর। অথবা, প্রেষণা প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ভূমিকা : যা কিছু মানুষ বা প্রাণীকে কোনো কাজের প্রেরণা যোগায় বা উদ্দীপিত করে বা চালিত করে তাই প্রেষণা। 'প্রেষণা' শব্দটি অতি ব্যাপক। প্রেষণা বলতে বুঝায় একটি প্রাণীর শরীরের অভ্যন্তরের অবস্থা যা প্রাণীকে কাজে নিয়োজিত করে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ক্রিয়া এবং উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যবস্তু এই তিনটি জিনিসকে বুঝায়। প্রেষণা হলো ব্যক্তির এক ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থা যা প্রাণীদের অভ্যন্তরীণ অভাববোধ থেকে সৃষ্টি হয়। প্রাণীকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তাড়িত করে।

❑ প্রেষণা চক্র : প্রেষণা হচ্ছে একটি গতিশীল অবস্থা। এই অবস্থায় উদ্দেশ্য লাভের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছার উদয় হয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত অভীষ্ট লক্ষ্য সিদ্ধ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এই জাতীয় অবস্থা চলতে থাকে। প্রেষণা চক্রের আকারে আবর্তিত হয়। প্রেষণার চক্রকে বিশ্লেষণ করলে নিম্নলিখিত স্তরগুলো পাওয়া যায়।

[তাড়না ➔ করণ আচরণ ➔ উদ্দেশ্য সাধন ➔ অভাববোধ ➔ তাড়না (চক্রাকার)] চিত্র : প্রেষণা চক্র।

চিত্রের সাহায্যে প্রেষণা চক্রের স্তরগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো-

১. অভাববোধ : প্রাণীর মধ্যে যখন কোনো অভাববোধ দেখা দেয়, তখন তার মধ্যে এক অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ অভাববোধ অভ্যন্তরীণভাবে বা বাহ্যিক উদ্দীপনা থেকে সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- কোনো ব্যক্তি ক্ষুধায় পীড়িত হলে অশান্ত ও চঞ্চল হয়ে উঠে।

২. তাড়না : অভাববোধ থেকে উৎপন্ন অস্বস্তিকর অবস্থা প্রাণীকে অভাব মেটানোর জন্য তাড়িত করে। এ তাড়না মানুষ ও প্রাণীকে কাজে উদ্বুদ্ধ করে বা প্রেরণা যোগায়। ক্ষুধার্ত হবার জন্য যে অস্থিরতা বা ক্ষুধার্ত ব্যক্তির মধ্যে ক্ষুধা মেটাবার জন্য তাড়নার সৃষ্টি করে। যার ফলে সে নিশ্চেষ্ট অবস্থায় বসে থাকতে পারে না।

৩. করণ আচরণ : অস্থিরতা লাঘব করার জন্য প্রাণী কতগুলো আচরণ করে। এই আচরণকে করণ আচরণ বলা হয়। এ সময় ক্ষুধার্ত ব্যক্তি বা প্রাণী খাবার পাওয়ার জন্য বিভিন্ন আচরণ প্রদর্শন করে থাকে। কারণ আচরণসমূহ হলো কাম্যবস্তু লাভের জন্য প্রাণীর আচরণ। যেমন- একজন গ্রামের লোক শহরে প্রথমবার এলো। হয়তো তার বন্ধু তাকে বাসায় রেখে বাইরে গেল, এমন সময় তার খুব তৃষ্ণা পেল। পানির জন্য অন্যের খোঁজাখুঁজির পর সে পানির নল দেখতে পেল এবং চাবি ঘুরিয়ে দিল। এই চাবি ঘুরিয়ে দেওয়া পানি পাওয়ার একটি উপায়। সুতরাং চাবি ঘুরিয়ে দেওয়াকে করণ আচরণ বলা হয়ে থাকে।

৪. উদ্দেশ্য সাধন : প্রেষণা চক্রের শেষ ধাপ হলো উদ্দেশ্য সাধন বা লক্ষ্যবস্তুতে উপনীত হলে প্রাণীর অস্বাভাবিক শারীরী অবস্থা দূরীভূত হয় এবং প্রাণী পরিতৃপ্তি লাভ করে ও বিশ্রামে যায়। এ উদ্দেশ্য বিভিন্ন পরিবেশে বিভিন্নরকমের। এসব উদ্দেশ্য ইতিবাচক উদ্দেশ্য ও নেতিবাচক উদ্দেশ্য এ দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। ইতিবাচক উদ্দেশ্য বলতে বুঝায় যার দিকে প্রাণী আকৃষ্ট হয়। যেমন- ক্ষুধার্ত ব্যক্তির জন্য খাদ্যবস্তু একটি ইতিবাচক উদ্দেশ্য। অপরপক্ষে নেতিবাচক উদ্দেশ্য বলতে বুঝায় যে পরিবেশ থেকে প্রাণী দূরে থাকতে চায় বা মুক্তির আশা করে। যেমন- বেদনায়দায়ক অবস্থা থেকে মুক্তি চাওয়া একটি নেতিবাচক উদ্দেশ্য।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বিশ্রামের কিছুক্ষণ পরে প্রাণীর মধ্যে আবার প্রেষণা জন্মলাভ করে। অর্থাৎ তার মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবার উপরিউক্ত স্তরগুলোর আগমন ঘটে। মানুষ ও প্রাণী সারাজীবন ধরে এমনভাবে প্রেষণা চক্রের আবর্তে ছুটে চলেছে যে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এ আবর্তনের শেষ নাই। প্রথমে প্রাণী কোনো কিছুর অভাববোধ করে, পরবর্তীতে তাড়না বোধ করে এবং তা পূরণের জন্য বিভিন্ন প্রকার কারণ আচরণ করে থাকে এবং শেষে উদ্দেশ্য সাধন করে বিশ্রামে নেয়।


অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অধ্যায়-৮: প্রেষণা গাইড PDF

📥 PDF ডাউনলোড করুন

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
Join