অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অধ্যায়-৭: নেতৃত্ব [Leadership] গাইড PDF

Ahsan

অনার্স ১ম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ)  ব্যবস্থাপনার নীতিমালার  অধ্যায়-৭: নেতৃত্ব [Leadership] গাইড PDF

pঅনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনার নীতিমালাঅধ্যায়-৭: নেতৃত্ব [Leadership] গাইড PDF

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগ (Management Department)-এর শিক্ষার্থীদের জন্য "ব্যবস্থাপনার নীতিমালা" পাঠ্যবইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও তাত্ত্বিক একটি অংশ হলো অধ্যায়-৭: নেতৃত্ব

একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে কর্মীদের উৎসাহিত ও পরিচালিত করার দক্ষতাই হলো নেতৃত্ব। পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য এই অধ্যায়ের একটি বিশেষ পিডিএফ (PDF) লিংক নিচে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হলো।

অধ্যায়-৭: নেতৃত্ব [Leadership]

নেতৃত্ব হলো এমন এক ধরণের সামাজিক প্রভাব বা প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যদের সহায়তা ও অনুপ্রেরণা প্রদানের মাধ্যমে কোনো সাধারণ লক্ষ্য অর্জনে সফল হন। এই অধ্যায়টি পাঠ করলে শিক্ষার্থীরা একজন আদর্শ নেতার গুণাবলি, নেতৃত্বের বিভিন্ন ধরণ এবং কর্মীদের মনোবল উন্নয়নের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে।

আপনার পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করার লক্ষ্যে এই গাইডে গুরুত্বপূর্ণ রচনামূলক প্রশ্নের পাশাপাশি বিগত বছরের সকল বোর্ড প্রশ্ন নির্ভুলভাবে যুক্ত করা হয়েছে। পোস্টের একদম শেষ প্রান্তে থাকা পিডিএফ (PDF) লিংক থেকে আপনার কপিটি ডাউনলোড করে নিন।

প্রশ্ন ॥৭.০১॥ নেতৃত্ব বলতে কী বুঝ? অথবা, নেতৃত্বের সংজ্ঞা দাও। [জা.বি. ২০১৮ (হিসাববিজ্ঞান)]

উত্তর : ভূমিকা : নেতৃত্ব ব্যবস্থাপনার একটি অপরিহার্য দিক। নেতৃত্ব শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে পরিচালনা করা, নির্দেশ প্রদান করা বা পথ প্রদর্শন করা। নেতৃত্ব কৃতি নেতাদের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল।

❑ নেতৃত্বের সংজ্ঞা : কোনো দল বা গোষ্ঠীর আচরণ ও কাজকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়ে উদ্দেশ্যার্জনের প্রচেষ্টাকে নেতৃত্ব বলা হয়। যিনি এ দায়িত্ব পালন করেন তাকে নেতা (Leader) বলে।

ইংরেজি Lead থেকে Leadership শব্দ এসেছে যার বাংলা অর্থ হলো নেতৃত্ব। Lead শব্দের অর্থ হলো পথ দেখানো, চালিত করা, আদেশ করা ইত্যাদি তাই নেতৃত্ব বলতে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যার্জনের জন্য অধীনস্থ লোকদের পরিচালনা করে এমন কৌশলকে বুঝায় যাতে দলীয় সদস্যরা তাদের সর্বাধিক সামর্থ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট লক্ষ্যার্জনে তৎপর হয়।

নিম্নে নেতৃত্ব সম্পর্কে দু'জন খ্যাতনামা লেখকের মতামত তুলে ধরা হলো :

Newstorm ও Keith devis-এর মতে, “নেতৃত্ব হলো অন্যান্যদের উৎসাহিত ও সাহায্য করার একটি প্রক্রিয়া যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্দেশ্যার্জনে তৎপর হয়।”

M.J. Gannon-এর মতে, “নেতৃত্ব হলো একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রক্রিয়া যেখানে নেতা একটি নির্দিষ্ট কার্যধারা সমাপন করতে তার অধীনস্তদের অবশ্যই প্ররোচিত বা প্রভাবিত করেন।”

মিঃ বেনিশ-এর মতে, “নেতৃত্ব হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন নির্বাহী অধস্তনদেরকে তার কাম্য আচরণ করতে প্রভাবিত করে থাকে।”

Hicks এবং Gullett-এর মতে, “নেতৃত্ব হলো যেকোনো ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দানের ক্ষেত্রে অন্যান্য আচরণকে প্রভাবিত করার সামর্থ্য।”

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, নেতৃত্ব হলো একটি বিশেষ গুণ বা কৌশল যার দ্বারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অধীনস্ত কর্মীদের প্রেরণার মাধ্যমে প্রভাবিত করে কোনো সংগঠনের উদ্দেশ্যার্জন ত্বরান্বিত করে।

প্রশ্ন ॥৭.০২॥ নেতৃত্বের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর। [জা.বি. ২০২১ (ফিন্যান্স); ২০১৬ (হিসাববিজ্ঞান)] অথবা, নেতৃত্বের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যবলি আলোচনা কর। অথবা, যোগ্য নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর : ভূমিকা : নেতৃত্ব হলো যেকোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার একটি শক্তিশালী মাধ্যম যা অধস্তন জনশক্তিকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে চালনা করে। সফল নেতৃত্বের ওপর একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা নির্ভর করে।

নিম্নে নেতৃত্বের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হলো-

১. অনুসারীদের সাথে সহ অবস্থান : নেতা ও অনুসারীদের সহ অবস্থান যোগ্য নেতৃত্বের একটি অন্যতম পূর্বশর্ত। নেতৃত্ব কৌশল যেহেতু পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত তাই পরিচালক এবং অধস্তনরা পাশাপাশি অবস্থান না করলে এরূপ কৌশল সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না।

২. অধস্তনদের সম্পর্কে ধারণা : নেতৃত্ব হলো অধস্তনদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে পরিচালনা করার কৌশল। এরূপ কৌশল প্রয়োগে অধস্তনদের আবেগ, অনুভূতি ও সমস্যা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা থাকতে হবে।

৩. পরিবেশের প্রভাব : নেতা কখনই পরিবেশকে উপেক্ষা করতে পারে না। কোনো বিশেষ পরিবেশেই কোনো বিশেষ ব্যক্তি নেতৃত্বের আসন অলংকৃত করেন। একেক পরিবেশে একেক যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নেতা বিবেচিত হন।

৪. ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের উপস্থিতি : একজন নেতার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্তৃত্বের কারণে অধস্তনরা নেতার নির্দেশনা পালন করে থাকে।

৫. অধস্তনদের প্রেষণা দান : নেতৃত্বের সাথে উৎসাহ প্রদান ও প্রভাবিতকরণের যোগসূত্র রয়েছে। যোগ্য নেতা তার মোহনীয় গুণাবলির দ্বারা অধস্তনদের আকৃষ্ট করে থাকেন।

৬. অনুসারীদের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ : অধস্তনদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা নেতার জন্য অপরিহার্য বিষয়, নেতার চিন্তা, ধ্যানধারণা ও কর্মপন্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করার জন্য অনুসারীদের প্রতিক্রিয়ার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা প্রয়োজন।

৭. অনুসারীদের আনুগত্য : নেতৃত্ব আনুগত্যের সাথে সম্পর্কিত। অনুসারীদের আনুগত্য না থাকলে নেতৃত্ব কখনই সফলকাম হতে পারে না। এরূপ আনুগত্য স্বেচ্ছামূলক হোক বা বাধ্যতামূলক হোক নেতৃত্বের পক্ষে অনুসারীদের আনুগত্য লাভ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যার্জনে অপরিহার্য।

৮. ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা : নেতা যেহেতু কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন তাই তাকে কাজের দায়িত্ব ও ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয়। যেকোনো নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষমতা ও দায়িত্ব যেহেতু নেতৃত্বের ওপর থাকে তাই যেকোনো ঝুঁকির উদ্ভব হলে নেতৃত্ব তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে।

৯. নেতৃত্ব কতিপয় গুণের সমষ্টি : নেতৃত্বের কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের বা সংগঠনের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যা পরিচালনা করতে গিয়ে নেতাকে অবশ্যই কতকগুলো গুণের অধিকারী হতে হয়।

১০. উদ্দেশ্যভিত্তিক সম্পর্ক : নেতা তার প্রতিটি কার্যে উদ্দেশ্যভিত্তিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন, স্বজনপ্রীতি পরিহার করে ন্যায় অন্যায় বিশ্লেষণ করে ন্যায়ের পথে অগ্রসর হবেন।

১১. নেতৃত্ব শক্তির সাথে তুলনীয় : দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা শক্তি হিসেবে কাজ করে। নেতৃত্বকে কেন্দ্র করেই অনুসারীরা একত্রিত হয়ে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যার্জনে তৎপর হয়।

উপসংহার : উপরের আলোচনার আলোকে আমরা নেতৃত্বের কতিপয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারলাম।

অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অধ্যায়-৭: নেতৃত্ব Leadership গাইড PDF

📥 PDF ডাউনলোড করুন

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
Join