অনার্স ১ম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ব্যবস্থাপনার নীতিমালার অধ্যায়-২ ব্যবসায় পরিবেশ বিশ্লেষণ [Analyzing Business Environment]
![অনার্স ১ম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ব্যবস্থাপনার নীতিমালার অধ্যায়-২ ব্যবসায় পরিবেশ বিশ্লেষণ [Analyzing Business Environment] অনার্স ১ম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ) ব্যবস্থাপনার নীতিমালার অধ্যায়-২ ব্যবসায় পরিবেশ বিশ্লেষণ [Analyzing Business Environment]](https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEhZG4-t3m2s8uZe06jBOYPrkYmp-VYJ_vLR14pctknW-Ri1S6B6vZWLT4yS3zqLFPx5dwaH_oj6h_ydvCSvl0MLM7zcCEAWl3RSp8huzoItItIfCT4uo9J0ZC7Sd0aFgRBLbdSJp8GKyMlRp5Xt7YQPslQcQkQ6uECphnygq4nH5bHsLTZmnijGs__sTQ/s16000-rw/_Imag_ai74kgai74kgai74-ezgif.com-jpg-to-webp-converter.webp)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগ (Management Department) এর শিক্ষার্থীদের জন্য "ব্যবস্থাপনার নীতিমালা" বিষয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হলো অধ্যায়-২: ব্যবসায় পরিবেশ বিশ্লেষণ।
ব্যবসায়ের সাফল্য নির্ভর করে তার চারপাশের পরিবেশকে সঠিকভাবে বোঝার ওপর। পরীক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়ের পূর্ণাঙ্গ গাইড পিডিএফ (PDF) লিংক নিচে সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া হলো।
অধ্যায়-২: ব্যবসায় পরিবেশ বিশ্লেষণ [Analyzing Business Environment]
একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে পরিচালিত হয়, তাকেই ব্যবসায় পরিবেশ বলে। এই অধ্যায়টি অধ্যয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে কীভাবে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উপাদানসমূহ একটি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে।
পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু রচনামূলক প্রশ্নগুলো নিচে আলোচনা করা হলো। আর পোস্টের একদম শেষে পিডিএফ (PDF) লিংক দেওয়া হলো
☑ ব্যবস্থাপনা পরিবেশ
প্রশ্ন ॥২.০১॥ ব্যবস্থাপনা পরিবেশ কাকে বলে? অথবা, ব্যবস্থাপনা পরিবেশের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর : ভূমিকা : পারিপার্শ্বিক অবস্থার সমষ্টিকে সাধারণ অর্থে পরিবেশ বলে। সেই দিক থেকে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন অবস্থা যা এর কার্যক্রম, নীতি পদ্ধতি ও চিন্তা-ভাবনার ওপর প্রভাব বিস্তার করে তাকেই ব্যবস্থাপনা পরিবেশ বলে।
নিম্নে ব্যবস্থাপনা পরিবেশের কিছু সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো :
W. F. Glueck এবং R. J. Lawrence-এর মতে, "ব্যবস্থাপনা পরিবেশ হলো ফার্মের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উপাদানসমূহ যা সংগঠনের জন্য সুযোগ-সুবিধা অথবা হুমকিস্বরূপ।"
Bartol ও Martin বলেন, "একট প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ হলো একটি সঠিক বাস্তবতা বা কতকগুলো বাস্তব অবস্থা যা তাত্ত্বিকভাবে ও নির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা সম্ভব এবং ব্যবস্থাপকদের করণীয় সম্পর্কে এরূপ পরিবেশ পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়।"
Terry ও Franklin-এর মতে, "ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার কার্যকারণ পরিবেশগত উপাদানের দ্বারা প্রভাবিত হয় যা ব্যবস্থাপকীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যক্রমে শর্তারোপ, বাধা সৃষ্টি ও প্রভাব বিস্তার করে।"
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উপাদান অথবা কার্যসম্পৰ্কীয় বা কার্য বহির্ভূত বিভিন্ন উপাদান যা এর কার্যাবলি, কার্য পদ্ধতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে তাকেই ব্যবস্থাপনা পরিবেশ বলে।
প্রশ্ন ॥২.০২॥ ব্যবসায় পরিবেশ বলতে কী বুঝ? অথবা, ব্যবসায় পরিবেশ কাকে বলে?
উত্তর : ভূমিকা : পরিবেশ হলো পারিপার্শ্বিক অবস্থা। ব্যবসায় পরিবেশ হলো ব্যবসায়ের পারিপার্শ্বিক অবস্থা। যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে ব্যবসায় কার্য চলে তাঁকে ব্যবসায়ের পরিবেশ বলে। ব্যবসায়ের সাফল্য ব্যবসায়ের অনুকূল পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। দক্ষ ও আদর্শ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যবসায় পরিবেশ : পরিবেশের যেসব উপাদান ব্যবস্থাপকীয় কার্যাবলিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে তাকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে। ব্যবসায় হচ্ছে মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম উপায়। ব্যবসায় গড়ে তুলতে এবং পরিচালনা করতে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে। অতএব যেসব পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যদিয়ে ব্যবসায়িক কার্যকলাপ সংঘটিত ও পরিচালিত হয় এদের সমষ্টিকে ব্যবসায় পরিবেশ বলা হয়। ব্যবসায় পরিবেশের প্রামাণ্য সংজ্ঞা নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
Glueck ও Lawrence-এর মতে, "পরিবেশ হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের বাইরের সেসব উপাদান যেগুলো প্রতিষ্ঠানের জন্য সুযোগ দিতে পারে কিংবা হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।"
Robbins and Coulter-এর মতে, "বাহ্যিক যেসব শক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলিকে প্রভাবিত করে সেগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ বলে।"
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ব্যবসায় পরিবেশ হলো এমন সব পক্ষ, শক্তি ও পারিপার্শ্বিক উপাদানসমূহের সমন্বয়ে গঠিত অবস্থা, যা ব্যবসায়িক কার্যকলাপকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে।
প্রশ্ন ॥২.০৩॥ সাধারণ পরিবেশগুলো চিত্রসহ আলোচনা কর।
উত্তর : ভূমিকা : যে বাহ্যিক পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রতিষ্ঠান বা এর ব্যবস্থাপনার কর্মকাণ্ডে পরোক্ষ হলেও বড়ো ধরনের ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে তাকে সাধারণ পরিবেশ বলে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যবস্থাপনাকে এরূপ পরিবেশ বিবেচনায় আনতে হয়।
নিম্নে সাধারণ পরিবেশের উপাদানগুলো আলোচনা করা হলো :
[সাধারণ পরিবেশের উপাদানসমূহ] ১। ভৌগোলিক উপাদান ২। অর্থনৈতিক উপাদান ৩। প্রযুক্তিগত উপাদান ৪। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান ৫। রাজনৈতিক উপাদান ৬। আইনগত উপাদান ৭। আন্তর্জাতিক উপাদান
১. ভৌগোলিক উপাদান : কোনো দেশের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও এর ব্যবস্থাপনার ওপর দেশের ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব অনস্বীকার্য। ভৌগোলিক পরিবেশ অনুযায়ী একেক দেশে একেক ধরনের ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রসার লাভ করে থাকে।
২. অর্থনৈতিক উপাদান : এটি ব্যবস্থাপনার সাধারণ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি, মন্দাবস্থা, সুদের উচ্চহার ইত্যাদি স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও বিক্রয়কে প্রভাবিত করে। তাই ব্যবস্থাপনাকে সর্বদাই এগুলোকে বিবেচনায় এনে কাজ করতে হয়।
৩. প্রযুক্তিগত উপাদান : পণ্য বা সেবা উৎপাদন পদ্ধতির বিষয়টি প্রযুক্তিগত উপাদানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনকার্যে রোবটের ব্যবহার ইত্যাদি স্বাভাবিকভাবেই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
৪. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান : দেশের জনসংখ্যা, জনগণের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, শিক্ষা ইত্যাদি নিয়ে সাংস্কৃতিক উপাদান গড়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলোও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
৫. রাজনৈতিক উপাদান : কোন দেশের সরকার ও সরকারি নীতিমালা, রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানসমূহ, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদি বিষয়কে রাজনৈতিক উপাদান বলে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ভালো হলে ব্যবস্থাপকদের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হয়। অন্যথায় তা ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করে।
৬. আইনগত উপাদান : ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে এর সম্পর্কিত বিভিন্ন আইনকানুন মেনে চলতে হয়। এজন্য দেশে বিদ্যমান আইনসমূহ মিলে আইনগত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দেশের শিল্প সংক্রান্ত আইন, বাণিজ্য সংক্রান্ত আইন, পরিবহণবিষয়ক আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ইত্যাদি আইনগত পরিবেশের উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়।
৭. আন্তর্জাতিক উপাদান : একটি দেশের সামগ্রিক ব্যবসায় পরিস্থিতি অন্য দেশের ব্যবসায় কর্মকাণ্ডের দ্বারা কতটুকু প্রভাবিত হচ্ছে তা আন্তর্জাতিক হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমান মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে দেশের বাজারে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়। কোনো দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, দেশ ও বিদেশের সরকারগুলোর আমদানি-রপ্তানি নীতি, বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি এক্ষেত্রে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, উপর্যুক্ত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উপাদানগুলো ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে প্রভাববিস্তার করে। তাই এই সকল উপাদান সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করে ব্যবস্থাপকীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
