অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা: অধ্যায়-৩ উদ্দেশ্যসমূহ পিডিএফ গাইড

Ahsan

অনার্স ১ম বর্ষ (ব্যবস্থাপনা বিভাগ)  ব্যবস্থাপনার নীতিমালার  অধ্যায়-৩ উদ্দেশ্যসমূহ  [Objectives] গাইড পিডিএফ

অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা: অধ্যায়-৩ উদ্দেশ্যসমূহ পিডিএফ গাইড

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ব্যবস্থাপনা বিভাগ (Management Department) এর শিক্ষার্থীদের জন্য "ব্যবস্থাপনার নীতিমালা" বিষয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হলো অধ্যায়-৩: উদ্দেশ্যসমূহ

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের ওপর। পরীক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়ের পূর্ণাঙ্গ গাইড পিডিএফ (PDF) লিংক নিচে সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া হলো।

অধ্যায়-৩: উদ্দেশ্যসমূহ [Objectives] গাইড পিডিএফ

একটি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে যা অর্জন করতে চায় বা প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত ফলকেই উদ্দেশ্য বলে। এই অধ্যায়টি অধ্যয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জানতে পারে কীভাবে সঠিক উদ্দেশ্য প্রণয়ন একটি প্রতিষ্ঠানের সকল বিভাগকে একই লক্ষ্যপানে পরিচালিত করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিগত বছরের প্রশ্নসহ রচনামূলক প্রশ্নগুলো নিচে আলোচনা করা হলো। পিডিএফ-এ বিগত বছরের প্রশ্নসহ থাকবে। আর পোস্টের একদম শেষে পিডিএফ (PDF) লিংক দেওয়া হলো

☑ উদ্দেশ্য 

প্রশ্ন ॥৩.০১॥ উদ্দেশ্যের সংজ্ঞা দাও। অথবা, উদ্দেশ্য বলতে কী বুঝ?

উত্তর :

ভূমিকা : ব্যবস্থাপনার পূর্বশর্ত হলো উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্য অর্জন আপনা আপনি হয় না। এর জন্য কতগুলো কার্যসম্পাদনের প্রয়োজন হয়। এসব কার্য যখন সুসম্পন্ন হয় তখন উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।

উদ্দেশ্যের সংজ্ঞা : উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত ফল যা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মতৎপরতা চালানো হয়। ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য বলতে কাঙ্ক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলকেই বুঝানো হয়ে থাকে। নিম্নে উদ্দেশ্যের কতিপয় জনপ্রিয় সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো :

আইরিচ ও কুঞ্জ-এর মতে, “যে প্রাপ্ত সীমাকে সামনে রেখে সাংগঠনিক এবং ব্যক্তিক কার্যাবলি পরিচালিত হয় তাকে উদ্দেশ্য বলে।”

G.R Terry-এর মতে, “ব্যবস্থাপকীয় উদ্দেশ্য হলো স্থিরকৃত লক্ষ্য যা সুনির্দিষ্ট আওতা নির্দেশ করে এবং ব্যবস্থাপকদের কার্যপ্রয়োগের দিক নির্দেশনা দেয়।”

উপসংহার : উপর্যুক্ত আলোচনা ও সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায়, উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে অর্জনীয় সুস্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য কাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ যা একটি সংগঠনে গড়ে ওঠার অন্তর্নিহিত কারণ ব্যাখ্যা করে। কার্য পরিচালনার সুনির্দিষ্ট আওতা নির্দেশ করে এবং ব্যবস্থাপকের অন্যান্য কার্যাবলির সীমারেখা নির্ধারণ করে।

প্রশ্ন ॥৩.০২॥ উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা বলতে কী বুঝায়? [জা.বি. ২০১৯ (হিসাববিজ্ঞান); ২০২০, ২০২৪ (ব্যবস্থাপনা)] অথবা, উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কী? অথবা, উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাকে বলে? অথবা, উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা দাও।

উত্তর :

ভূমিকা : আধুনিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায় উদ্দেশ্যাবলি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক নতুন ও অভিনব সংযোজন হচ্ছে উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিচ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি বিভাগ ও উপবিভাগে উদ্দেশ্য নির্ধারণপূর্বক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তাকে উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা বলে। নিম্নে “উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কতিপয় জনপ্রিয় সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো :

আইরিচ এবং কুঞ্জ-এর মতে, “ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্যসমূহ ফলপ্রসূ ও দক্ষতার সাথে অর্জনের জন্য ব্যাপক ব্যবস্থাপকীয় পদ্ধতিকে উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা বলে।”

জর্জ এস. ওডিয়র্ন বলেন, “উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের জন্য সামগ্রিকভাবে কতকগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্য একই সঙ্গে নির্দিষ্ট করা হয় এবং প্রতিটি ইউনিট ও ব্যক্তি এর আওতায় কাজ করে।”

উপসংহার : উপর্যুক্ত সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায় যে, উদ্দেশ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা হলো এরূপ এক ধরনের ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক ও অধস্তন ব্যবস্থাপকগণ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উদ্দেশ্যাবলির দিকে লক্ষ্য রেখে যৌথভাবে প্রত্যেকের কর্তব্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে থাকে।

প্রশ্ন ॥৩.০৩॥ উদ্দেশ্য নির্ধারণের নীতিসমূহ বা আদর্শসমূহের বর্ণনা দাও। অথবা, পরিকল্পনা প্রণয়নে কী কী নীতি অনুসরণ করা উচিত?

উত্তর :

ভূমিকা : যে সকল প্রধান বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলি পরিচালিত হয় তাকে উদ্দেশ্য বলে। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার সময় কতিপয় নীতি বা আদর্শ অনুসরণ করা উচিত। উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় যাতে উদ্দেশ্যার্জনের দ্বারা প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য, দক্ষতা ও নৈপুণ্য অর্জিত হয়। নিম্নে উদ্দেশ্য নির্ধারণে আদর্শ বা নীতিমালাসমূহ আলোচনা করা হলো :

১. গ্রহণযোগ্যতার নীতি : সঠিকভাবে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট এটি গ্রহণযোগ্য হতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিকট উদ্দেশ্য গ্রহণযোগ্য হলে এর সফল বাস্তবায়ন সহজতর হবে।

২. বাস্তবায়ন যোগ্যতার নীতি : উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানের উপযোগী ও বাস্তবায়নযোগ্য হওয়া আবশ্যক। উদ্দেশ্য নির্ধারণকালে তা কতখানি বাস্তবায়নযোগ্য সে বিষয় নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক।

৩. সুনির্দিষ্টতার নীতি : সুনির্দিষ্ট নীতির প্রতিপাদ্য বিষয় হলো কি অর্জন করা হবে তা সংখ্যাত্মক বা গুণবাচক বৈশিষ্ট্যে এবং সম্পন্ন করার সময় মেয়াদ উল্লেখপূর্বক তা সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ করতে হবে।

৪. গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের নীতি : প্রাতিষ্ঠানিক যে কাজ বা পর্যায়ের জন্য উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হয় তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুখ্য সাফল্যঅর্জনকারী উপাদানগুলোকে বিবেচনা করা উচিত।

৫. সরলতার নীতি : কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উদ্দেশ্য যথাসম্ভব সহজ সরল অর্থাৎ সুস্পষ্ট ও বোধগম্য হওয়া আবশ্যক। উদ্দেশ্যের মৌলিক বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট না হলে এর বাস্তবায়নে নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে পারে।

৬. ফলাবর্তনের নীতি : উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠায় ফলাবর্তনের নীতি অনুসরণ করা আবশ্যক। ফলাবর্তন নীতি অনুসরণ করলে উদ্দেশ্যার্জনে অগ্রগতি পরিমাপ করা যায়।

৭. পরিমাপযোগ্যতার নীতি : উদ্দেশ্য অবশ্যই পরিমাপযোগ্য হতে হবে। এমন উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা উচিত নয় যা পরিমাপ করা কষ্টসাধ্য।

৮. বাস্তবতার নীতি : উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানে বাস্তবতার নীতি অনুসরণ করতে হবে। বাস্তবতার নীতি অনুযায়ী উদ্দেশ্য চ্যালেঞ্জধর্মী হওয়া উচিত। তবে তা অর্জন কখনই কষ্টসাধ্য হওয়া উচিত নয়।

৯. সামঞ্জস্যপূর্ণতার নীতি : প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে এর কর্মীদের উদ্দেশ্যের সামঞ্জস্য বিধান করে উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা উচিত। কেননা উদ্দেশ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তার বাস্তবায়নে কর্মীগণ আগ্রহী হয় না।

১০. অগ্রাধিকার নীতি : একাধিক লক্ষ্য নিয়েই প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য গঠিত। এ কারণে ব্যবস্থাপকগণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।

১১. প্রাসঙ্গিকতার নীতি : উদ্দেশ্যের বিষয়বস্তু অবশ্যই প্রাসঙ্গিক হতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু কখনই কার্যক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনতে পারে ঘন।

১২. সমন্বয়ের নীতি : প্রতিষ্ঠানে উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার সময় সমন্বয়ের নীতি অনুসরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের পুরাতন ও উপবিভাগের মধ্যে যদি সমন্বয় থাকে তাহলে উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব হবে।

১৩. যোগাযোগের নীতি : প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ ও উদ্দেশ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট উদ্দেশ্যের বিভিন্ন দিকসম্পর্কে যোগাযোগ রক্ষা করা আবশ্যক।

১৪. প্রণোদনার নীতি : প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরকে উদ্দেশ্যের প্রতি আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে কর্মীদের প্রণোদনার বিষয়টি উদ্দেশ্য নির্ধারণকালে বিবেচনায় রাখা উচিত।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, উপর্যুক্ত নীতি বা আদর্শসমূহ সঠিকভাবে অনুসৃত হলে প্রতিষ্ঠানের যেকোনো পর্যায়ের উদ্দেশ্য কার্যকর ও তা সহজে বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে থাকে।


অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অধ্যায়-৩ উদ্দেশ্যসমূহ গাইড PDF

📥 PDF ডাউনলোড করুন

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
Join