Honours 1st Year Micro Economics The Modern Mixed Economy Guide PDF

Ahsan

 অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ ব্যষ্টিক অর্থনীতি Micro Economics অধ্যায়-২: আধুনিক মিশ্র অর্থনীতি The Modern Mixed Economy Guide PDF

অনার্স ১ম বর্ষ ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ ব্যষ্টিক অর্থনীতি Micro Economics অধ্যায়-২: আধুনিক মিশ্র অর্থনীতি The Modern Mixed Economy Guide PDF


অনার্স ১ম বর্ষের ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যষ্টিক অর্থনীতি (Microeconomics) বিষয়ের অধ্যায়-২: আধুনিক মিশ্র অর্থনীতি [The Modern Mixed Economy] খুবই প্রাসঙ্গিক। বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলিত। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই অধ্যায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড PDF নিচে দেওয়া হলো। এখানে বিগত বছরে আস প্রশ্ন ও উত্তর ও উপস্থাপন করা হয়েছে।

ব্যষ্টিক অর্থনীতি কোর্সটা অনেকের কাছেই শুরুতে কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে। বিশেষ করে এর অধ্যায়-২: আধুনিক মিশ্র অর্থনীতি [The Modern Mixed Economy]—হলো পুরো অর্থনীতির ভিত্তি। এই অধ্যায়টি পরিষ্কারভাবে না বুঝলে সামনের অধ্যায়গুলো বুঝতে বেশ কষ্ট হবে। তোমাদের এই যাত্রা সহজ করতে আমরা নিয়ে এসেছি ২য় অধ্যায়ের একটি সম্পূর্ণ এবং গুছানো পিডিএফ গাইড (PDF Guide)!

প্রশ্ন। ২.০১ ।। মুক্ত বাজার অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও। [জা.বি. ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯, ২০২২ (হিসাববিজ্ঞান); ২০১৫ (ফিন্যান্স)] অথবা, বাজার অর্থনীতি কী? অথবা, বাজার অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: 'বাজার অর্থনীতি' বা 'মুক্ত বাজার অর্থনীতি' বলতে এমন এক ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বুঝায় যেখানে বাজার শক্তিসমূহের দ্বারা বাজার দ্রব্যের চাহিদা ও যোগানের ঘাত-প্রতিঘাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রব্যসামগ্রীর দাম নির্ধারিত হয়। বাজার অর্থনীতি সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত কর্মকাণ্ডে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে না। 'বাজার অর্থনীতি' বা 'মুক্ত বাজার অর্থনীতি' মূলত ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদে বলা হয় যে, ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবেন না। ব্যক্তি যেমন ভোক্তা হিসাবে ভূমিকা পালন করবে তেমনি সে উৎপাদক হিসাবেও ভূমিকা পালন করবে। বাজার অর্থনীতি হলো ভোক্তা ও উৎপাদকের মধ্যে বহু সংখ্যক স্বাধীন সিদ্ধান্তের ফসল যেখানে সব ব্যক্তি বাজারের মাধ্যমে তাদের কার্যকলাপ পরিচালনা করে।

সংক্ষেপে বলা যায় যে, কোনো প্রকার সরকারি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত মুক্তভাবে বাজার শক্তিসমূহ দ্বারা পরিচালিত অর্থনীতিকে 'বাজার অর্থনীতি' বা 'মুক্ত বাজার অর্থনীতি' বলে।

প্রশ্ন। ২.০২ ।। বাজার কাঠামোর নির্ধারকগুলো কী? [জা.বি. ২০১৭, ২০২১ (ব্যবস্থাপনা)] অথবা, বাজার কাঠামোর নির্ধারকসমূহ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: ভূমিকা: সাধারণ অর্থে বাজার বলতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে বুঝায়, যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। যেমন- সাহেব বাজার, শ্যাম বাজার, নিউ মার্কেট ইত্যাদি। কিন্তু অর্থনীতিতে 'বাজার' শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দ্রব্যের বাজারের আয়তন বা বিস্তৃতি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। কতকগুলো দ্রব্যের বাজার খুব সংকীর্ণ হয়। আবার কতকগুলো দ্রব্যের বাজার খুবই বিস্তৃত হয়।
নিম্নে বাজার কাঠামোর নির্ধারকসমূহ বর্ণনা করা হলো:

১. দ্রব্যের চাহিদা: কোন দ্রব্যের বাজারের প্রসারতা সে দ্রব্যের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। দ্রব্যের চাহিদা যত ব্যাপক এবং সার্বজনিন হবে বাজারের বিস্তৃতি ও তত ব্যাপক হবে। যেমন- বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা আছে বলে স্বর্ণের বিশ্বজোড়া বাজার রয়েছে। আবার চাহিদা যত কম হবে বাজার পরিধিও তত সংকীর্ণ হবে। যেমন- মাছ, দুধ, শুঁটকি ইত্যাদির বাজার সংকীর্ণ।

২. দ্রব্যের যোগান: বাজারের আয়তন দ্রব্যের যোগানের ওপর নির্ভর করে। দ্রব্যের যোগান যত বেশি স্থিতিস্থাপক হবে বাজার ও তত বেশি বিস্তৃত হবে। কোন দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও যদি চাহিদা অনুযায়ী দ্রব্যের যোগান দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে দ্রব্যের বাজার সংকীর্ণ হবে। চাহিদা অনুযায়ী কোন দ্রব্যের যোগান দেওয়া হলে সে দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত হবে। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রে এত অধিক গম উৎপন্ন হয় যে, বিশ্বের প্রায় সব বাজারই এর যোগান দেওয়া হচ্ছে। অতএব, যুক্তরাষ্ট্রের গমের বাজার বিশ্বব্যাপী।

৩. দ্রব্যের স্থায়িত্বতা: যেসব দ্রব্য ক্ষণস্থায়ী এবং পচনশীল সে সব দ্রব্যের বাজার সংকীর্ণ। যেমন- দুধ, মাছ, তরিতরকারি, ফল ইত্যাদি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিক্রি করতে হয় নতুবা এগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এসব দ্রব্য দূরবর্তী অঞ্চলে বা একদেশ হতে অন্যদেশে স্থানান্তর করা যায় না। পক্ষান্তরে স্বর্ণ, রৌপ্য, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই বলে এদের বাজার অতি প্রশস্ত হতে পারে।

৪. শ্রেণিবিভাগ ও নমুনাকরণ: যেসব দ্রব্যের আকার, আকৃতি ও গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিভাগ করা যায় এবং যাদের নমুনা বিদেশি ক্রেতাদের নিকট ফরমায়েশের জন্য পাঠান যায় তাদের বাজার বিস্তৃত হয়। যেমন বিদেশি ক্রেতারা পাট ও চায়ের বিভিন্ন গ্রেডের নাম শুনে কিংবা কেবল তাদের নমুনা দেখেও ক্রয়ের আদেশ দিতে পারে। অতএব, শ্রেণিবিভাগ ও নমুনাকরণযোগ্য দ্রব্যের বাজার অধিক বিস্তৃত হয়।

৫. পরিবহণ যোগ্যতা: দ্রব্যের পরিবহণ যোগ্যতার ওপর বাজারের বিস্তৃতি নির্ভর করে। যেসব দ্রব্য খুব দামি কিন্তু স্বল্প পরিবহণ খরচে একস্থান হতে অন্য স্থানে সহজে পাঠান যায় এদের বাজারের পরিধি প্রশস্ত হয়। এ কারণে সোনা, রূপা ইত্যাদি বাজার সুবিস্তীর্ণ। কিন্তু যে দ্রব্যের আয়তন ও ওজন বেশি এবং স্থানান্তর কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল সেটির বাজার সংকীর্ণ। এ কারণে ইটের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এর বাজার সীমিত।

৬. যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা: বাজারের বিস্তৃতি উন্নত যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত হলে পণ্যের চাহিদা ও যোগাযোগের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়সাধন করা হয়।

৭. শান্তি ও নিরাপত্তা: দেশের ভেতর ও বাইরে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকলে দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত হয়। কারণ এরূপ অবস্থায় নির্বিঘ্নে দেশের ভেতর ও বাইরে দ্রব্যসামগ্রী আদান-প্রদান করা যায়। পক্ষান্তরে, দেশের অভ্যন্তরে এবং বহির্বিশ্বে যদি যুদ্ধ-বিগ্রহ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে, তবে দ্রব্যের আদান প্রদান ব্যাহত হয় এবং দ্রব্যের বাজার সংকুচিত হয়।

৮. সরকারের বাণিজ্য নীতি: বাজারের বিস্তৃতি সরকারের অনুসৃত বাণিজ্য নীতির ওপরও নির্ভর করে। সরকার যদি অভ্যন্তরীণ ক্রয়-বিক্রয় এবং আমদানি-রপ্তানিতে অবাধ এবং উদার বাণিজ্য নীতি অনুসরণ করে তবে দ্রব্যের বাজার অধিক প্রসারিত হবে। পক্ষান্তরে, সরকার যদি সংরক্ষণ বাণিজ্য নীতি অনুসরণ করে এবং বহির্বাণিজ্যের ওপর বিভিন্ন বিধি-নিষেধ আরোপ করে তবে দ্রব্যের বাজার সংকীর্ণ হয়।

৯. মুদ্রা ও ঋণব্যবস্থা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা ও ঋণের প্রয়োজন। সহজ শর্তে ও সহজ উপায়ে সময়মত বৈদেশিক মুদ্রা ও ঋণ পাওয়া গেলে বাজারের ব্যাপক প্রসারতা সম্ভব। দেনা-পাওনা পরিশোধে জটিলতা যত বেশি দেখা দেবে বাজারের প্রসারতা তত বেশি ব্যাহত হবে।

১০. প্রচারণা: বিজ্ঞাপন ও প্রচার বিভাগের মাধ্যমে ক্রেতাদের দ্রব্যের গুণাগুণ, দাম ও প্রাপ্তিস্থান সম্বন্ধে অবহিত করলে বাজারে প্রসারতা বাড়ে। সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, আন্তর্জাতিক মেলা, বিদেশে বাণিজ্যিক প্রতিনিধি প্রেরণ ইত্যাদি বাজারের বিস্তৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

১১. দ্রব্যের বীমা: আমদানি-রপ্তানি দ্রব্য পরিবহণকালে অপ্রত্যাশিত বিপদের দরুন দ্রব্যের আংশিক বা সামগ্রীক ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষতি যদি বীমা ব্যবস্থা দ্বারা লাঘব করা যায়, তবে বীমাকৃত দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত হবে।

১২. শ্রমবিভাগের মাত্রা বাজারের পরিধি শ্রমবিভাগের মাত্রার ওপরও নির্ভর করে। উৎপাদন পদ্ধতিতে শ্রমবিভাগ যত অধিক মাত্রায় প্রয়োগ না হবে উৎপাদনের পরিমাণ তত বেশি হবে এবং উৎপাদন খরচ ও বিক্রয় দাম কম হবে। দামে সস্তা বলে দ্রব্যের বাজার প্রশস্ত হবে।

উপসংহার: উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, বাজারের বিস্তৃতি কোনো একটি বিশেষ শর্ত বা বিষয়ের উ বিশেষ শর্ত ব উপর নির্ভর করে না; বরং একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। উপরোক্ত শর্তগুলো বাজারের অনুকূলে থাকলে বাজারের বিস্তৃতি ঘটে থাকে।

অনার্স ১ম বর্ষ ব্যষ্টিক অর্থনীতি: অধ্যায়-২: আধুনিক মিশ্র অর্থনীতি The Modern Mixed Economy গাইড

📥 PDF ডাউনলোড করুন

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
Join