ভাব ও কাজ
(অষ্টম শ্রেণি – বাংলা সাহিত্য কণিকা)
- নাম: কাজী নজরুল ইসলাম।
- জন্ম: ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে।
- পেশা ও জীবন: দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে প্রথম মহাযুদ্ধে বাঙালি পল্টনে যোগদান করেন। সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হলে চারদিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আমাদের জাতীয় কবি।
- সাহিত্যকর্ম: কাব্যগ্রন্থ— ‘অগ্নি-বীণা’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘সাম্যবাদী’, ‘সর্বহারা’, ‘সিন্ধু-হিল্লোল’, ‘চক্রবাক’; উপন্যাস— ‘মৃত্যুক্ষুধা’, ‘কুহেলিকা’; গল্পগ্রন্থ— ‘ব্যথার দান’, ‘রিক্তের বেদন’, ‘শিউলিমালা’; প্রবন্ধগ্রন্থ— ‘যুগবাণী’, ‘রুদ্র-মঙ্গল’।
- মৃত্যু: ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
১. ‘ভাব ও কাজ’ লেখাটি কোন ধরনের সাহিত্য?
উত্তর: (খ) প্রবন্ধ২. ‘সে ভাবাবেশ কর্পূরের মতো উড়িয়া যায়’— বাক্যটির ‘কর্পূর’ শব্দের অর্থ নিচের কোনটি?
উত্তর: (ঘ) বাতাসের সংস্পর্শে অল্পক্ষণের মধ্যে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এমন বস্তু৩. ‘ভাবের সুরা পান করো ভাই, কিন্তু জ্ঞান হারাইও না।’ জ্ঞান হারালে—
i. দেশের পতন হবে
ii. নিজের পতন হবে
iii. মনুষ্যত্বের পতন হবে
নিচের কোনটি ঠিক?
জুয়েল ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। সে ক্লাসে সবসময় চুপচাপ থাকে। দেখলে মনে হয় কী যেন চিন্তা করছে। ক্লাসের পড়াও ঠিকমতো শেখে না। কিন্তু তার স্বপ্ন এস.এস.সি. পরীক্ষার পর একটি ভালো কলেজে ভর্তি হবে।
৪. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধ অনুযায়ী জুয়েলের আচরণ হচ্ছে—
উত্তর: (গ) বদ খেয়াল৫. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধ অনুযায়ী জুয়েলের উচিত—
i. ভাব ও কাজের সমন্বয় করা
ii. ভাবের উচ্ছ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করা
iii. বাস্তবধর্মী কাজে তৎপর হওয়া
নিচের কোনটি ঠিক?
উদ্দীপক: তুমি স্বপ্নে রাজা হতে পার, কোটি কোটি টাকা, বাড়ি-গাড়ির মালিক হতে পার। কল্পলোকের সুন্দর গল্পও হতে পার, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন এক জগৎ। এখানে বড় হতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। শিক্ষার দ্বারা নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে সঠিক কর্মানুশীলনের মাধ্যমে বড় হতে হবে। সুতরাং কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক।
ভাবের দ্বারা মানুষকে সাময়িকভাবে জাগানো যায়, কিন্তু যদি সেই জাগরণের পেছনে সঠিক কর্মশক্তি বা আত্মার শক্তি না থাকে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আত্মার শক্তি মানুষকে ভেতর থেকে উদ্বুদ্ধ করে এবং তাকে মহৎ কাজে নিয়োজিত রাখে। লেখক মনে করেন, আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তাদের এই ভেতরের শক্তি বা ‘স্পিরিট’কে জাগিয়ে তোলা যায় এবং তা সঠিক পথে পরিচালিত করা যায়, তবেই দেশ ও জাতির প্রকৃত কল্যাণ সাধন সম্ভব। অন্যথায়, শুধু ভাবের আবেশে মেতে থাকলে তা কর্পূরের মতো উড়ে যাবে এবং কোনো সুফল বয়ে আনবে না।
‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন যে, শুধু ভাব বা স্বপ্ন দিয়ে বড় কিছু অর্জন করা যায় না। ভাবকে কাজের মাধ্যমে রূপ দিতে হয়। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে যে, স্বপ্নে রাজা হওয়া বা অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া সহজ, কিন্তু বাস্তবে বড় হতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। প্রবন্ধের লেখক যেমন বলেছেন, "ভাব জিনিসটা হইতেছে পুষ্পবিহীন সৌরভের মতো... কাজ জিনিসটাই ভাবকে রূপ দেয়", উদ্দীপকেও তেমনি কর্মানুশীলনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয় স্থানেই কল্পনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে আত্মনিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।
প্রবন্ধে লেখক কাজী নজরুল ইসলাম বারবার সতর্ক করেছেন যে, শুধু ভাব বা আবেগে মত্ত থাকা এক ধরনের "বদ-খেয়াল" যদি না তা কোনো কল্যাণকর কাজে লাগানো যায়। তিনি বলেছেন, ভাবের সুরা পান করে জ্ঞান হারানো ঠিক নয়। বরং ভাবকে দাস হিসেবে ব্যবহার করে তাকে কর্মে রূপ দিতে হবে। দেশের তরুণদের তিনি "কোমর বাঁধিয়া কার্যে নামিয়া" পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উদ্দীপকেও একই কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কল্পনার জগতে হাবুডুবু না খেয়ে শিক্ষার মাধ্যমে নিজের প্রতিভাকে জাগ্রত করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করাই প্রকৃত মনুষ্যত্ব। মানুষ হিসেবে আমাদের সার্থকতা কেবল স্বপ্ন দেখায় নয়, বরং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সমাজের উপকার করায়। লেখক প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, যারা শুধু ভাবের বাঁশি বাজিয়ে মানুষকে মাতিয়ে রাখে কিন্তু কোনো কাজের পথ দেখায় না, তারা জাতির ক্ষতি করে। পক্ষান্তরে, যারা নিঃস্বার্থভাবে কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তাই বলা যায়, আলোচ্য মন্তব্যটি প্রবন্ধের মূল চেতনার সার্থক প্রতিফলন।
১. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: (খ) যুগবাণী২. ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনতাকে নাচাতে হলে কর্মীকে কেমন হতে হবে?
উত্তর: (খ) নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি৩. লেখক কাদেরকে ‘কুম্ভকর্ণ’ বলেছেন?
উত্তর: (খ) যারা অনর্থক জেগে আবার ঘুমিয়ে পড়ে৪. ‘স্পিরিট’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: (খ) উদ্দীপনা বা আত্মার শক্তি৫. মানুষকে জাগিয়ে তোলার জন্য কিসের প্রয়োজন?
উত্তর: (খ) সোনার কাঠির ছোঁয়া৬. ভাবকে কিসের দাস করতে হবে?
উত্তর: (ক) কাজের৭. ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’— এটি কী?
উত্তর: (ক) একটি প্রবাদ৮. ‘আসমান’ ও ‘জমিন’ শব্দের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর: (খ) বিপরীতার্থক৯. কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: (গ) ১৮৯৯১০. দেশের প্রকৃত শত্রু কারা?
উত্তর: (খ) যারা মুখোশপরা মেকি দেশপ্রেমিক- ১. প্রশ্ন: ভাব ও কাজের সম্বন্ধটা কেমন?
উত্তর: ভাব ও কাজের সম্বন্ধটা খুব নিকট বোধ হলেও আদতে এদের মধ্যে আকাশ-পাতাল (আসমান-জমিন) তফাৎ রয়েছে। - ২. প্রশ্ন: ভাব জিনিসটা কিসের মতো?
উত্তর: ভাব জিনিসটা পুষ্পবিহীন সৌরভের মতো। - ৩. প্রশ্ন: কাজ জিনিসটা ভাবকে কী দেয়?
উত্তর: কাজ জিনিসটা ভাবকে রূপ দেয়। - ৪. প্রশ্ন: লেখক আমাদের দেশকে কী ধরনের দেশ বলেছেন?
উত্তর: লেখক আমাদের দেশকে 'ভাব-পাগলা দেশ' বলেছেন। - ৫. প্রশ্ন: 'বন্দোবস্ত' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বন্দোবস্ত শব্দের অর্থ ব্যবস্থা বা আয়োজন। - ৬. প্রশ্ন: কাদের জাগানো সবচেয়ে কঠিন?
উত্তর: যারা জেগে ঘুমায় বা ঘুমের ভান করে থাকে, তাদের জাগানো সবচেয়ে কঠিন। - ৭. প্রশ্ন: তরুণেরা কীসের অভাবে দেশের উপকার করতে পারছে না?
উত্তর: সঠিক নেতৃত্ব ও কর্মপদ্ধতির অভাবে এবং নিজেদের 'স্পিরিট' বা আত্মার শক্তিকে বাজে কাজে নষ্ট করার কারণে। - ৮. প্রশ্ন: 'কপূর' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: বৃক্ষরস থেকে তৈরি গন্ধদ্রব্য বিশেষ, যা বাতাসের সংস্পর্শে উড়ে যায়। - ৯. প্রশ্ন: কাজী নজরুল ইসলাম কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন (পাঠ্যবই অনুসারে)?
উত্তর: পাঠ্যবইয়ে ধুমকেতু বা লাঙল পত্রিকার কথা উল্লেখ নেই, তবে বলা হয়েছে তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। - ১০. প্রশ্ন: সত্যিকার দেশকর্মী কারা?
উত্তর: যারা নিঃস্বার্থভাবে, লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে, নাম-যশের প্রত্যাশা না করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যায়, তারাই সত্যিকার দেশকর্মী।
উদ্দীপক: পলাশ একজন সমাজকর্মী। সে সব সময় বড় বড় পরিকল্পনার কথা বলে। সে বলে, "আমি গ্রামের সব রাস্তা পাকা করে দেব, স্কুল বানাব, হাসপাতাল করব।" গ্রামের মানুষ তার কথায় মুগ্ধ হয়। কিন্তু বাস্তবে সে একটি ইটের গাঁথুনিও দেয় না। অন্যদিকে, গ্রামের এক সাধারণ শিক্ষক মজিদ স্যার চুপচাপ নিজের বেতনের টাকা জমিয়ে গরিব ছাত্রদের বই কিনে দেন।
(ক) 'বাষ্প' শব্দের অর্থ কী (প্রবন্ধের প্রেক্ষাপটে)?
(খ) "ভাবের সুরা পান করো ভাই, কিন্তু জ্ঞান হারাইও না"— কথাটি দ্বারা লেখক কী বুঝিয়েছেন?
(গ) উদ্দীপকের পলাশের আচরণে 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) "মজিদ স্যারের কাজই প্রকৃত দেশপ্রেম"— প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপক: ১৯৭১ সালে দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাদের বুকে ছিল দেশপ্রেমের আগুন এবং মনে ছিল দেশকে শত্রুমুক্ত করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। তারা শুধু আবেগে ভেসে যায়নি, বরং কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়ে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিল। তাদের এই সমন্বিত ভাব ও কাজের ফলেই আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।
(ক) কাজী নজরুল ইসলামকে কোন অভিধায় অভিহিত করা হয়?
(খ) "দশচক্রে ভগবান ভূত"— প্রবাদটি ব্যাখ্যা করো।
(গ) উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে 'ভাব ও কাজ' প্রবন্ধের কোন ইতিবাচক দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে?
(ঘ) "ভাবকে কার্যের দাসরূপে নিয়োগ করাই সার্থকতার চাবিকাঠি"— উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যাচাই করো।
উদ্দীপক: বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণের জন্য হাহাকার। ফেসবুকে অনেকেই আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছে, "আহারে মানুষ না খেয়ে আছে!" কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না। এমন সময় একদল তরুণ কাঁধে চাল-ডালের বস্তা নিয়ে বন্যার পানিতে নেমে পড়ল। তারা কোনো ছবি তুলল না, শুধু নীরবে কাজ করে গেল।
(ক) লেখক বর্তমান যুগকে কীসের যুগ বলেছেন? (যদি পাঠ্যবইয়ে থাকে, নতুবা সাধারণ জ্ঞান) - নোট: পাঠ্যবইয়ে এটি সরাসরি নেই, তাই বিকল্প প্রশ্ন: লেখক কাদেরকে 'মুখোশ-পরা ত্যাগী' বলেছেন?
(খ) "আত্মার শক্তিকে অন্যের প্ররোচনায় নষ্ট করিও না"— কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
(গ) উদ্দীপকের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সাথে প্রবন্ধের 'ভাব-পাগলা' লোকদের তুলনা করো।
(ঘ) উদ্দীপকের তরুণ দলের কর্মপদ্ধতিই লেখকের কাঙ্ক্ষিত পথ— বিশ্লেষণ করো।
