অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা ১ম অধ্যায় অতিথির স্মৃতি সমাধান Class 8 Bangla 1st Otithir Sriti Solution

Ahsan
অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা ১ম অধ্যয় অতিথির স্মৃতি সমাধান Class 8 Bangla 1st Otithir Sriti Solution

অতিথির স্মৃতি
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

১. পাঠ পরিচিতি
'অতিথির স্মৃতি' গল্পটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেওঘরের স্মৃতি' গল্পের পরিমার্জিত রূপ। এই গল্পে একটি প্রাণীর সঙ্গে একজন অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মাধ্যমে যে মমত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা-ই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, মানুষে-মানুষে যেমন প্রীতির সম্পর্ক হয়, তেমনি অন্য প্রাণীর সঙ্গেও মানুষের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক আবার তুচ্ছ কারণেও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই গল্পে পশুর প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতা যেমন আছে, তেমনি আছে মানুষের প্রতি পশুর অকৃত্রিম আনুগত্য ও বিচ্ছেদ বেদনা।
২. লেখক পরিচিতি
  • জন্ম: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • সাহিত্যকর্ম: তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে 'পল্লীসমাজ', 'দেবদাস', 'শ্রীকান্ত' (চার খণ্ড), 'গৃহদাহ', 'দেনা-পাওনা', 'পথের দাবী' ইত্যাদি।
  • স্বীকৃতি: সাহিত্য সাধনার জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ডি.লিট.' (D.Litt.) উপাধি লাভ করেন।
  • মৃত্যু: ১৯৩৮ সালে কলকাতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৩. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (ব্যাখ্যাসহ সমাধান)

১. বাতব্যাধিগ্রস্ত রোগীরা কখন ঘরে প্রবেশ করে?

  • (ক) সন্ধ্যার পূর্বে
  • (খ) রাত্রিবেলায়
  • (গ) শেষ রাত্রে
  • (ঘ) দুপুরের রোদে
উত্তর: (ক) সন্ধ্যার পূর্বে
ব্যাখ্যা: গল্পে বলা হয়েছে, যারা বাতব্যাধিগ্রস্ত (পায়ের ব্যথার রোগী), তারা বেরিবেরি রোগীদের মতো অতটা সাহসী নয়। তাই ঠান্ডা লাগার ভয়ে তারা সূর্য ডোবার আগেই অর্থাৎ সন্ধ্যার আগেই দ্রুত ঘরে ঢুকে পড়ে।

২. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট. উপাধি পেয়েছেন?

  • (ক) ঢাকা
  • (খ) কলকাতা
  • (গ) যাদবপুর
  • (ঘ) বিশ্বভারতী
উত্তর: (ক) ঢাকা
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য 'সম্মানসূচক ডি.লিট.' উপাধি পান।

৩. 'আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন' বলতে কী বোঝায়?
i. কোনো তিথি না মেনে কারো আগমনকে
ii. মাত্রাতিরিক্ত সময় আতিথেয়তা গ্রহণ করাকে
iii. অযাচিতভাবে কোনো অতিথির অধিক সময় অবস্থান করাকে
নিচের কোনটি সঠিক?

  • (ক) i ও ii
  • (খ) i ও iii
  • (গ) ii ও iii
  • (ঘ) i, ii ও iii
উত্তর: (গ) ii ও iii
ব্যাখ্যা: আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন তখনই হয় যখন কোনো অতিথি তার সীমার বাইরে গিয়ে অনেক বেশি সময় অন্যের বাড়িতে অবস্থান করেন বা জোরাজুরি করে থেকে যান।
উদ্দীপক: আশিক ও আকাশ মেলায় গিয়ে একটি ময়না পাখি কিনল। পাখিটিকে তারা খুব ভালোবাসত। ময়নাও তাদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে কথা বলত। একদিন বিড়ালের হাতে পাখিটির মৃত্যু হলে তারা খুব শোকাহত হলো।

৪. উদ্দীপকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তা হলো—
i. পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক
ii. পশু-পাখির সাথে মানুষের স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক
iii. ভালোবাসায় সিক্ত পশু-পাখির বিচ্ছেদ বেদনায় কাতরতা
নিচের কোনটি সঠিক?

  • (ক) i ও ii
  • (খ) i ও iii
  • (গ) ii ও iii
  • (ঘ) i, ii ও iii
উত্তর: (ঘ) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে পাখির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ এবং গল্পের লেখকের কুকুরের প্রতি মমত্ববোধ—উভয়ই পশু-পাখির সাথে মানুষের গভীর ও স্নেহপূর্ণ সম্পর্কের পরিচয় দেয়।

৫. উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবটি নিচের কোন চরণে প্রকাশ পেয়েছে?

  • (ক) বাড়ি ফিরে যাবার আগ্রহ মনের মধ্যে কোথাও খুঁজে পেলাম না
  • (খ) কাল ট্রেন ছাড়বে, কাজেই আজ বিদায় নিতে হবে
  • (গ) অতিথির জন্য খাবার দিয়েছি কিন্তু সে খায়নি
  • (ঘ) আজ বাড়ি ফেরার পথে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল
উত্তর: (ক) বাড়ি ফিরে যাবার আগ্রহ মনের মধ্যে কোথাও খুঁজে পেলাম না
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকের শোক আর গল্পের লেখকের কুকুরের মায়া একই সূত্রে গাঁথা। সেই মায়ার টানেই লেখক বাড়ি ফেরার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
৪. সৃজনশীল প্রশ্ন-১
উদ্দীপক: গফুর মিয়ার অতি আদরের ষাঁড় ‘মহেশ’। নিজের সন্তানের মতো সে মহেশকে ভালোবাসে। তপ্ত দুপুরে মহেশকে যখন জমিদারের লোক মারধর করে, তখন গফুর মিয়ার মনে হয় যেন কেউ তাকেই মারছে। অভাবের সংসারে মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে না পেরে গফুর মিয়ার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে।

প্রশ্নসমূহ:
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী?
(খ) অতিথি কিছুতেই ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা করো।
(গ) উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) "উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন"— 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

সমাধান:

(ক) উত্তর: চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তনের জন্য লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেওঘরে গিয়েছিলেন।

(খ) উত্তর: 'অতিথি' অর্থাৎ কুকুরটি ছিল একটি রাস্তার তুচ্ছ প্রাণী। লেখকের পরম স্নেহ ও ভেতরে আসার আমন্ত্রণ পেলেও সে সংকোচ বোধ করছিল। মূলত মানুষের বাড়িতে প্রবেশ করার মতো সাহস বা অধিকারবোধ তার ছিল না। হয়তো অতীতে সে মানুষের কাছ থেকে অবজ্ঞা কিংবা লাথি-ঝাঁটা খেয়েছে, যার ফলে এক ধরনের ভীতি তার মনে কাজ করছিল। এই ভয় আর বিনয় থেকেই সে বারবার লেজ নেড়ে কৃতজ্ঞতা জানালেও ভেতরে ঢোকার ভরসা পায়নি।

(গ) উত্তর: উদ্দীপকের মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের 'প্রাণীর প্রতি মানুষের গভীর ও নিঃস্বার্থ মমত্ববোধের' দিকটি ফুটে উঠেছে।
মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের একটি বড় পরিচয় হলো অন্য প্রাণীর প্রতি তার ভালোবাসা। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক দেওঘরে থাকাকালীন একটি সাধারণ কুকুরের প্রতি পরম মমতা অনুভব করেন। তিনি তাকে খেতে দেন, তার খোঁজ নেন এবং তাকে 'অতিথি' বলে সম্মান জানান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, দরিদ্র কৃষক গফুর তার পোষা ষাঁড় মহেশকে পশুর পরিবর্তে সন্তানের চোখে দেখেন। মহেশের ওপর আঘাত এলে গফুর নিজে ব্যথা পান এবং তার অনাহারে গফুর মর্মাহত হন। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের হৃদয়ের কোমলতা এবং অবলা প্রাণীর প্রতি এক গভীর আত্মিক বন্ধন প্রকাশিত হয়েছে।

(ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের গফুর এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক—উভয়ের প্রাণিপ্রেম বা চেতনাগত মিল থাকলেও সামাজিক ও আবেগীয় প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখকের সাথে কুকুরের সম্পর্কটি ছিল সাময়িক এবং ভ্রমণের আনন্দের অংশ। লেখক সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং একাকিত্ব দূর করতে কুকুরটির প্রতি আগ্রহী হন। লেখকের এই মমত্ববোধ ছিল অনেকটা সহানুভূতির মতো, যার জন্য তাকে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের গফুর একজন চরম দরিদ্র মানুষ। তার সাথে মহেশের সম্পর্কটি দীর্ঘদিনের এবং তা বেঁচে থাকার লড়াইয়ের সাথে যুক্ত। গফুর নিজে না খেয়েও মহেশকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং মহেশকে মারধর করায় তিনি সামাজিক অপমানের শিকার হন। অর্থাৎ লেখকের প্রেক্ষাপট ছিল শৌখিন ও সাময়িক, আর গফুরের প্রেক্ষাপট ছিল করুণ ও জীবনমুখী। তাই বলা যায়, উভয়ের চেতনা এক হলেও পরিস্থিতি ও সম্পর্কের গভীরতা ভিন্ন।

৫. সৃজনশীল প্রশ্ন-২
উদ্দীপক: যুবায়ের তার পোষা হাতি কালপাহাড়কে নিয়ে সারাদিন জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। কালপাহাড়ের বুদ্ধিতে যুবায়ের মুগ্ধ হয়। একদিন অর্থাভাবে যুবায়েরের বাবা কালপাহাড়কে এক জমিদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। কালপাহাড় যখন বুঝতে পারে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, তখন সে দুঃখে আর এক পা-ও নড়েনি। এক পর্যায়ে সে প্রাণত্যাগ করে। কালপাহাড়ের মৃত্যুতে যুবায়ের হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।

প্রশ্নসমূহ:
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ করেন?
(খ) লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
(গ) কালপাহাড়ের আচরণ এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথির আচরণ কীভাবে ভিন্ন— বর্ণনা করো।
(ঘ) "উদ্দীপকের যুবায়েরের অনুভূতি আর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত"— মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

সমাধান:

(ক) উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।

(খ) উত্তর: লেখক দেওঘরে অবস্থানকালে একটি অবলা কুকুরের প্রতি গভীর মায়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। কুকুরটি প্রতিদিন গেটের বাইরে লেখকের জন্য অপেক্ষা করত এবং লেখকের দেওয়া খাবার খেত। দেওঘর ছাড়ার দিন যখন ঘনিয়ে এল, তখন কুকুরটির কথা ভেবে লেখকের মন বিষণ্ণ হয়ে উঠল। তাকে একাকী ফেলে চলে যেতে লেখকের মন কিছুতেই সায় দিচ্ছিল না। মূলত সেই অবলা অতিথির প্রতি অকৃত্রিম টানেই তিনি বাড়ি যাওয়া পিছিয়ে দিয়ে নানা অজুহাতে আরও দুই দিন দেরি করেছিলেন।

(গ) উত্তর: কালপাহাড়ের আচরণ এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথির (কুকুর) আচরণের মধ্যে গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের কালপাহাড় যখন বুঝতে পারল তাকে তার প্রিয় মালিকের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তখন সে এক গভীর অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। তার দুঃখ এতটাই তীব্র ছিল যে সে নড়াচড়া বন্ধ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণত্যাগ করে। এটি ছিল একটি চরম প্রতিবাদ ও ত্যাগের প্রতীক।
অন্যদিকে, গল্পের কুকুরটির আচরণ ছিল নীরব আনুগত্য ও প্রতিক্ষার। সে ট্রেন স্টেশনে লেখককে বিদায় দিতে আসে এবং ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পরও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সে মারা যায় না, বরং লেখকের অনুপস্থিতিতেও লেখকের ফেলে যাওয়া স্মৃতি ও ঘরটিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার পথ বেছে নেয়। অর্থাৎ কালপাহাড়ের প্রতিক্রিয়া ছিল আত্মঘাতী, আর কুকুরের প্রতিক্রিয়া ছিল ধৈর্যশীল ও গভীর অপেক্ষার।

(ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের যুবায়েরের বিচ্ছেদ বেদনা এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি মূলত একই মানবিক মূল্যবোধ থেকে উৎসারিত, যা হলো—'প্রাণীর প্রতি মানুষের আত্মার টান'।
মানুষ যখন কোনো পশুকে ভালোবাসে, তখন সে আর শুধু পশু থাকে না, বরং হৃদয়ের সঙ্গী হয়ে ওঠে। গল্পের লেখক যখন ট্রেন থেকে দেখছিলেন কুকুরটি স্টেশনের ভিড়ে তাঁকে খুঁজছে, তখন তাঁর মনে এক গভীর বিষাদ তৈরি হয়েছিল। একইভাবে যুবায়ের যখন তার প্রিয় হাতিকে হারায়, তখন তার কান্না ছিল স্বজন হারানোর কান্নার মতো।
উভয় চরিত্রই প্রমাণ করে যে, ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বনের হাতি হোক বা পথের কুকুর—স্নেহের বন্ধন একবার তৈরি হলে বিচ্ছেদ সবসময়ই কষ্টের হয়। লেখকের যে মানসিক শূন্যতা এবং যুবায়েরের যে হাহাকার, তা একই ধারার সংবেদনশীলতার বহিঃপ্রকাশ। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।

পরিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
১. গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (ব্যাখ্যাসহ)

১. 'দেওঘরের স্মৃতি'র নাম পালটে কেন 'অতিথির স্মৃতি' রাখা হয়েছে?

  • (ক) অতিথির সম্মানে
  • (খ) গল্পের কলেবর ছোট করতে
  • (গ) বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বোঝাতে
  • (ঘ) প্রকাশকের ইচ্ছায়
উত্তর: (গ) বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বোঝাতে।
ব্যাখ্যা: মূল গল্পে একটি কুকুরের সাথে লেখকের যে স্মৃতিময় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তাকে প্রধান্য দিতেই নাম পরিবর্তন করা হয়।

২. গল্পে কোন পাখির ডাক সবচেয়ে ভোরে শোনা যেত?

  • (ক) দোয়েল
  • (খ) বুলবুলি
  • (গ) শ্যামা
  • (ঘ) টুনটুনি
উত্তর: (ক) দোয়েল।
ব্যাখ্যা: লেখক লক্ষ্য করেছিলেন অন্ধকার কাটতে না কাটতেই সবার আগে দোয়েল পাখির গান শুরু হতো।

৩. লেখককে সবচেয়ে বেশি সঙ্গ দিয়েছিল কে?

  • (ক) মালি
  • (খ) ভজন গায়ক
  • (গ) বেরিবেরি রোগী
  • (ঘ) একটি কুকুর
উত্তর: (ঘ) একটি কুকুর।

৪. ইউক্যালিপটাস গাছগুলো সার বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিল কোথায়?

  • (ক) বাগানে
  • (খ) পথের ধারে
  • (গ) স্টেশনে
  • (ঘ) জানালার পাশে
উত্তর: (খ) পথের ধারে।

৫. মালিনী অত্যন্ত নিষ্ঠুর ছিল কেন?

  • (ক) সে গরিব ছিল বলে
  • (খ) সে কুকুরটিকে মারত বলে
  • (গ) সে খাবার চুরি করত বলে
  • (ঘ) লেখকের আদেশে
উত্তর: (খ) সে কুকুরটিকে মারত বলে।
ব্যাখ্যা: কুকুরটির জন্য বরাদ্দ খাবার মালিনী নিজে নিয়ে যেত এবং তাকে তাড়িয়ে দিত।

৬. গল্পে 'পাণ্ডুর' শব্দটির অর্থ কী?

  • (ক) ফ্যাকাশে
  • (খ) উজ্জ্বল
  • (গ) নীল
  • (ঘ) কালো
উত্তর: (ক) ফ্যাকাশে।

৭. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম মুদ্রিত গল্প কোনটি?

  • (ক) বড়দিদি
  • (খ) মন্দির
  • (গ) দেবদাস
  • (ঘ) দেনা-পাওনা
উত্তর: (খ) মন্দির।

৮. বেড়াতে বের হওয়া বেরিবেরি আক্রান্ত মেয়েদের কার সাথে তুলনা করা হয়েছে?

  • (ক) আসামির সাথে
  • (খ) অতিথির সাথে
  • (গ) মালি-বউয়ের সাথে
  • (ঘ) পাখিদের সাথে
উত্তর: (ক) আসামির সাথে।
ব্যাখ্যা: তারা লোকলজ্জার ভয়ে দ্রুত ঘরে ঢুকে যেত, যেন তারা কোনো অপরাধী।

৯. কুকুরটি লেখকের সাথে দেখা করার জন্য কোথায় অপেক্ষা করত?

  • (ক) বারান্দায়
  • (খ) বাগানে
  • (গ) গেটের বাইরে
  • (ঘ) স্টেশনে
উত্তর: (গ) গেটের বাইরে।

১০. "আজ বাড়ি ফেরার পথে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল"—লেখকের এই মনের অবস্থার কারণ কী?

  • (ক) শরীর ভালো হয়নি
  • (খ) বিচ্ছেদ বেদনা
  • (গ) স্টেশনে ভিড়
  • (ঘ) মালিনীর ব্যবহার
উত্তর: (খ) বিচ্ছেদ বেদনা।
২. গুরুত্বপূর্ণ ১০টি সংক্ষিপ্ত (জ্ঞানমূলক) প্রশ্ন
  • প্রশ্ন: লেখক কত বছর বয়সে প্রথম সাহিত্য পুরস্কার পান?
    উত্তর: লেখক ১৯০৩ সালে কুন্তলীন পুরস্কার পান (২৭ বছর বয়সে)।
  • প্রশ্ন: দেওঘরে লেখক কেন গিয়েছিলেন?
    উত্তর: ডাক্তারদের পরামর্শে হাওয়া বদল বা বায়ু পরিবর্তনের জন্য।
  • প্রশ্ন: কোন পাখিরা গান গাইতে গাইতে দেরি করে আসত?
    উত্তর: বেনে-বৌ বা হলদে পাখি।
  • প্রশ্ন: কুকুরটি গেটের ভেতর না ঢুকে বাইরে কেন লেজ নাড়ছিল?
    উত্তর: অধিকারহীনতা ও জড়তার কারণে সে ভরসা পাচ্ছিল না।
  • প্রশ্ন: বেরিবেরি রোগীদের পা কী কারণে ফুলে যেত?
    উত্তর: ভিটামিন 'বি'-র অভাবে বেরিবেরি রোগ হতো বলে।
  • প্রশ্ন: লেখক ট্রেন ছাড়ার পর কার অবয়ব জানালার বাইরে খুঁজছিলেন?
    উত্তর: তাঁর প্রিয় অতিথি কুকুরটির অবয়ব।
  • প্রশ্ন: মালিনী কেন কুকুরটিকে প্রতিদিন তাড়িয়ে দিত?
    উত্তর: কারণ সে কুকুরটির জন্য বরাদ্দ অবশিষ্ট খাবারগুলো নিজে আত্মসাৎ করত।
  • প্রশ্ন: লেখকের কেন মনে হয়েছিল যে বাড়ি ফেরার আগ্রহ তাঁর নেই?
    উত্তর: কুকুরের প্রতি গভীর মমতা ও তার বিচ্ছেদ যন্ত্রণার কারণে।
  • প্রশ্ন: 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে মানুষের কোন দিকের প্রতিফলন ঘটেছে?
    উত্তর: মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মমতা ও নিষ্ঠুরতা—উভয় দিকের।
  • প্রশ্ন: কুকুরটির চোখের চাহনি লেখককে কী মনে করিয়ে দিচ্ছিল?
    উত্তর: একটি করুণ আর্তি বা না বলা ভালোবাসা।
৩. তিনটি অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন-৩

উদ্দীপক: সুমি ছোটবেলা থেকে একটি বিড়াল পুষত। বিড়ালটি সুমির পায়ের কাছেই ঘুমাত। সুমি যখন হোস্টেলে চলে যায়, বিড়ালটি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। সুমি বাড়ি ফিরলে বিড়ালটি খুশিতে মেউ মেউ করে ডাকতে থাকে।

(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে ডি.লিট. পান?
(খ) "বেচারিদের লজ্জা বড় বেশি"—ব্যাখ্যা করো।
(গ) উদ্দীপকের সুমির বিড়ালের আচরণ 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কুকুরটির সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
(ঘ) "প্রাণীর ভালোবাসা স্থান-কাল ভেদে একই"—উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৪

উদ্দীপক: রফিক সাহেব রোজ সকালে পার্কে হাঁটতে যান। সেখানে একটি পথশিশুর সাথে তার প্রতিদিন কথা হয়। একদিন রফিক সাহেব পার্কে না আসায় শিশুটি সারা সকাল ম্লান হয়ে বসে রইল। পরদিন দেখা হলে শিশুটি পরম আবেগে রফিক সাহেবের হাত চেপে ধরল।

(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
(খ) লেখক কেন একাকী বসে পাখিদের ডাক শুনতেন?
(গ) উদ্দীপকের শিশুটির আবেগ 'অতিথির স্মৃতি'র কুকুরটির কোন দিকটি তুলে ধরে?
(ঘ) "ভালোবাসা কোনো জাতি বা প্রজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়"—বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৫

উদ্দীপক: একটি অসুস্থ শালিক পাখিকে সেবা করে সুস্থ করে তোলে সিয়াম। পাখিটি সুস্থ হয়ে উড়াল দিলেও মাঝেমধ্যে সিয়ামের জানালার কার্নিশে এসে বসে। সিয়াম তখন পুরনো স্মৃতি মনে করে আবেগী হয়ে ওঠে।

(ক) 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের আগের নাম কী ছিল?
(খ) দেওঘরে ভজনের গান কখন শুরু হতো?
(গ) সিয়ামের অনুভূতির সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতির তুলনা করো।
(ঘ) "বিচ্ছেদ মানেই শেষ নয়, বরং স্মৃতির অক্ষয় ভাণ্ডার"—উক্তিটি গল্পের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করো।

পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। নতুন নতুন আপডেট পেতে টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত থাকুন ধন্যবাদ।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
Join