অতিথির স্মৃতি
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- জন্ম: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সাহিত্যকর্ম: তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে 'পল্লীসমাজ', 'দেবদাস', 'শ্রীকান্ত' (চার খণ্ড), 'গৃহদাহ', 'দেনা-পাওনা', 'পথের দাবী' ইত্যাদি।
- স্বীকৃতি: সাহিত্য সাধনার জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ডি.লিট.' (D.Litt.) উপাধি লাভ করেন।
- মৃত্যু: ১৯৩৮ সালে কলকাতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১. বাতব্যাধিগ্রস্ত রোগীরা কখন ঘরে প্রবেশ করে?
উত্তর: (ক) সন্ধ্যার পূর্বে২. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট. উপাধি পেয়েছেন?
উত্তর: (ক) ঢাকা৩. 'আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন' বলতে কী বোঝায়?
i. কোনো তিথি না মেনে কারো আগমনকে
ii. মাত্রাতিরিক্ত সময় আতিথেয়তা গ্রহণ করাকে
iii. অযাচিতভাবে কোনো অতিথির অধিক সময় অবস্থান করাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
৪. উদ্দীপকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তা হলো—
i. পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক
ii. পশু-পাখির সাথে মানুষের স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক
iii. ভালোবাসায় সিক্ত পশু-পাখির বিচ্ছেদ বেদনায় কাতরতা
নিচের কোনটি সঠিক?
৫. উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবটি নিচের কোন চরণে প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: (ক) বাড়ি ফিরে যাবার আগ্রহ মনের মধ্যে কোথাও খুঁজে পেলাম নাপ্রশ্নসমূহ:
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী?
(খ) অতিথি কিছুতেই ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা করো।
(গ) উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) "উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন"— 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
(ক) উত্তর: চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তনের জন্য লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দেওঘরে গিয়েছিলেন।
(খ) উত্তর: 'অতিথি' অর্থাৎ কুকুরটি ছিল একটি রাস্তার তুচ্ছ প্রাণী। লেখকের পরম স্নেহ ও ভেতরে আসার আমন্ত্রণ পেলেও সে সংকোচ বোধ করছিল। মূলত মানুষের বাড়িতে প্রবেশ করার মতো সাহস বা অধিকারবোধ তার ছিল না। হয়তো অতীতে সে মানুষের কাছ থেকে অবজ্ঞা কিংবা লাথি-ঝাঁটা খেয়েছে, যার ফলে এক ধরনের ভীতি তার মনে কাজ করছিল। এই ভয় আর বিনয় থেকেই সে বারবার লেজ নেড়ে কৃতজ্ঞতা জানালেও ভেতরে ঢোকার ভরসা পায়নি।
(গ) উত্তর: উদ্দীপকের মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের 'প্রাণীর প্রতি মানুষের গভীর ও নিঃস্বার্থ মমত্ববোধের' দিকটি ফুটে উঠেছে।
মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের একটি বড় পরিচয় হলো অন্য প্রাণীর প্রতি তার ভালোবাসা। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক দেওঘরে থাকাকালীন একটি সাধারণ কুকুরের প্রতি পরম মমতা অনুভব করেন। তিনি তাকে খেতে দেন, তার খোঁজ নেন এবং তাকে 'অতিথি' বলে সম্মান জানান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, দরিদ্র কৃষক গফুর তার পোষা ষাঁড় মহেশকে পশুর পরিবর্তে সন্তানের চোখে দেখেন। মহেশের ওপর আঘাত এলে গফুর নিজে ব্যথা পান এবং তার অনাহারে গফুর মর্মাহত হন। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের হৃদয়ের কোমলতা এবং অবলা প্রাণীর প্রতি এক গভীর আত্মিক বন্ধন প্রকাশিত হয়েছে।
(ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের গফুর এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক—উভয়ের প্রাণিপ্রেম বা চেতনাগত মিল থাকলেও সামাজিক ও আবেগীয় প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখকের সাথে কুকুরের সম্পর্কটি ছিল সাময়িক এবং ভ্রমণের আনন্দের অংশ। লেখক সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং একাকিত্ব দূর করতে কুকুরটির প্রতি আগ্রহী হন। লেখকের এই মমত্ববোধ ছিল অনেকটা সহানুভূতির মতো, যার জন্য তাকে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের গফুর একজন চরম দরিদ্র মানুষ। তার সাথে মহেশের সম্পর্কটি দীর্ঘদিনের এবং তা বেঁচে থাকার লড়াইয়ের সাথে যুক্ত। গফুর নিজে না খেয়েও মহেশকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং মহেশকে মারধর করায় তিনি সামাজিক অপমানের শিকার হন। অর্থাৎ লেখকের প্রেক্ষাপট ছিল শৌখিন ও সাময়িক, আর গফুরের প্রেক্ষাপট ছিল করুণ ও জীবনমুখী। তাই বলা যায়, উভয়ের চেতনা এক হলেও পরিস্থিতি ও সম্পর্কের গভীরতা ভিন্ন।
প্রশ্নসমূহ:
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ করেন?
(খ) লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
(গ) কালপাহাড়ের আচরণ এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথির আচরণ কীভাবে ভিন্ন— বর্ণনা করো।
(ঘ) "উদ্দীপকের যুবায়েরের অনুভূতি আর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত"— মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
(ক) উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
(খ) উত্তর: লেখক দেওঘরে অবস্থানকালে একটি অবলা কুকুরের প্রতি গভীর মায়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। কুকুরটি প্রতিদিন গেটের বাইরে লেখকের জন্য অপেক্ষা করত এবং লেখকের দেওয়া খাবার খেত। দেওঘর ছাড়ার দিন যখন ঘনিয়ে এল, তখন কুকুরটির কথা ভেবে লেখকের মন বিষণ্ণ হয়ে উঠল। তাকে একাকী ফেলে চলে যেতে লেখকের মন কিছুতেই সায় দিচ্ছিল না। মূলত সেই অবলা অতিথির প্রতি অকৃত্রিম টানেই তিনি বাড়ি যাওয়া পিছিয়ে দিয়ে নানা অজুহাতে আরও দুই দিন দেরি করেছিলেন।
(গ) উত্তর: কালপাহাড়ের আচরণ এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথির (কুকুর) আচরণের মধ্যে গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান।
উদ্দীপকের কালপাহাড় যখন বুঝতে পারল তাকে তার প্রিয় মালিকের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তখন সে এক গভীর অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। তার দুঃখ এতটাই তীব্র ছিল যে সে নড়াচড়া বন্ধ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণত্যাগ করে। এটি ছিল একটি চরম প্রতিবাদ ও ত্যাগের প্রতীক।
অন্যদিকে, গল্পের কুকুরটির আচরণ ছিল নীরব আনুগত্য ও প্রতিক্ষার। সে ট্রেন স্টেশনে লেখককে বিদায় দিতে আসে এবং ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পরও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সে মারা যায় না, বরং লেখকের অনুপস্থিতিতেও লেখকের ফেলে যাওয়া স্মৃতি ও ঘরটিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার পথ বেছে নেয়। অর্থাৎ কালপাহাড়ের প্রতিক্রিয়া ছিল আত্মঘাতী, আর কুকুরের প্রতিক্রিয়া ছিল ধৈর্যশীল ও গভীর অপেক্ষার।
(ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের যুবায়েরের বিচ্ছেদ বেদনা এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি মূলত একই মানবিক মূল্যবোধ থেকে উৎসারিত, যা হলো—'প্রাণীর প্রতি মানুষের আত্মার টান'।
মানুষ যখন কোনো পশুকে ভালোবাসে, তখন সে আর শুধু পশু থাকে না, বরং হৃদয়ের সঙ্গী হয়ে ওঠে। গল্পের লেখক যখন ট্রেন থেকে দেখছিলেন কুকুরটি স্টেশনের ভিড়ে তাঁকে খুঁজছে, তখন তাঁর মনে এক গভীর বিষাদ তৈরি হয়েছিল। একইভাবে যুবায়ের যখন তার প্রিয় হাতিকে হারায়, তখন তার কান্না ছিল স্বজন হারানোর কান্নার মতো।
উভয় চরিত্রই প্রমাণ করে যে, ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বনের হাতি হোক বা পথের কুকুর—স্নেহের বন্ধন একবার তৈরি হলে বিচ্ছেদ সবসময়ই কষ্টের হয়। লেখকের যে মানসিক শূন্যতা এবং যুবায়েরের যে হাহাকার, তা একই ধারার সংবেদনশীলতার বহিঃপ্রকাশ। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।
১. 'দেওঘরের স্মৃতি'র নাম পালটে কেন 'অতিথির স্মৃতি' রাখা হয়েছে?
উত্তর: (গ) বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বোঝাতে।২. গল্পে কোন পাখির ডাক সবচেয়ে ভোরে শোনা যেত?
উত্তর: (ক) দোয়েল।৩. লেখককে সবচেয়ে বেশি সঙ্গ দিয়েছিল কে?
উত্তর: (ঘ) একটি কুকুর।৪. ইউক্যালিপটাস গাছগুলো সার বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিল কোথায়?
উত্তর: (খ) পথের ধারে।৫. মালিনী অত্যন্ত নিষ্ঠুর ছিল কেন?
উত্তর: (খ) সে কুকুরটিকে মারত বলে।৬. গল্পে 'পাণ্ডুর' শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: (ক) ফ্যাকাশে।৭. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম মুদ্রিত গল্প কোনটি?
উত্তর: (খ) মন্দির।৮. বেড়াতে বের হওয়া বেরিবেরি আক্রান্ত মেয়েদের কার সাথে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: (ক) আসামির সাথে।৯. কুকুরটি লেখকের সাথে দেখা করার জন্য কোথায় অপেক্ষা করত?
উত্তর: (গ) গেটের বাইরে।১০. "আজ বাড়ি ফেরার পথে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল"—লেখকের এই মনের অবস্থার কারণ কী?
উত্তর: (খ) বিচ্ছেদ বেদনা।- প্রশ্ন: লেখক কত বছর বয়সে প্রথম সাহিত্য পুরস্কার পান?
উত্তর: লেখক ১৯০৩ সালে কুন্তলীন পুরস্কার পান (২৭ বছর বয়সে)। - প্রশ্ন: দেওঘরে লেখক কেন গিয়েছিলেন?
উত্তর: ডাক্তারদের পরামর্শে হাওয়া বদল বা বায়ু পরিবর্তনের জন্য। - প্রশ্ন: কোন পাখিরা গান গাইতে গাইতে দেরি করে আসত?
উত্তর: বেনে-বৌ বা হলদে পাখি। - প্রশ্ন: কুকুরটি গেটের ভেতর না ঢুকে বাইরে কেন লেজ নাড়ছিল?
উত্তর: অধিকারহীনতা ও জড়তার কারণে সে ভরসা পাচ্ছিল না। - প্রশ্ন: বেরিবেরি রোগীদের পা কী কারণে ফুলে যেত?
উত্তর: ভিটামিন 'বি'-র অভাবে বেরিবেরি রোগ হতো বলে। - প্রশ্ন: লেখক ট্রেন ছাড়ার পর কার অবয়ব জানালার বাইরে খুঁজছিলেন?
উত্তর: তাঁর প্রিয় অতিথি কুকুরটির অবয়ব। - প্রশ্ন: মালিনী কেন কুকুরটিকে প্রতিদিন তাড়িয়ে দিত?
উত্তর: কারণ সে কুকুরটির জন্য বরাদ্দ অবশিষ্ট খাবারগুলো নিজে আত্মসাৎ করত। - প্রশ্ন: লেখকের কেন মনে হয়েছিল যে বাড়ি ফেরার আগ্রহ তাঁর নেই?
উত্তর: কুকুরের প্রতি গভীর মমতা ও তার বিচ্ছেদ যন্ত্রণার কারণে। - প্রশ্ন: 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে মানুষের কোন দিকের প্রতিফলন ঘটেছে?
উত্তর: মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মমতা ও নিষ্ঠুরতা—উভয় দিকের। - প্রশ্ন: কুকুরটির চোখের চাহনি লেখককে কী মনে করিয়ে দিচ্ছিল?
উত্তর: একটি করুণ আর্তি বা না বলা ভালোবাসা।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৩
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে ডি.লিট. পান?
(খ) "বেচারিদের লজ্জা বড় বেশি"—ব্যাখ্যা করো।
(গ) উদ্দীপকের সুমির বিড়ালের আচরণ 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কুকুরটির সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
(ঘ) "প্রাণীর ভালোবাসা স্থান-কাল ভেদে একই"—উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৪
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
(খ) লেখক কেন একাকী বসে পাখিদের ডাক শুনতেন?
(গ) উদ্দীপকের শিশুটির আবেগ 'অতিথির স্মৃতি'র কুকুরটির কোন দিকটি তুলে ধরে?
(ঘ) "ভালোবাসা কোনো জাতি বা প্রজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়"—বিশ্লেষণ করো।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৫
(ক) 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের আগের নাম কী ছিল?
(খ) দেওঘরে ভজনের গান কখন শুরু হতো?
(গ) সিয়ামের অনুভূতির সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতির তুলনা করো।
(ঘ) "বিচ্ছেদ মানেই শেষ নয়, বরং স্মৃতির অক্ষয় ভাণ্ডার"—উক্তিটি গল্পের প্রেক্ষাপটে আলোচনা করো।
